admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১০ এপ্রিল, ২০২১ ৯:৩১ অপরাহ্ণ
ইরান আণবিক বোমা তৈরির পথে আরও একধাপ এগোল। আণবিক বোমা তৈরির পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল ইরান। শনিবার তেজস্ক্রিয় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান। এএফপি’র খবরে বলা হয়, নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রে ‘১৬৪ আইআর-৬ সেন্ট্রিফিউজ’-এর বাক্সগুলি আনুষ্ঠানিকভাবে বিজ্ঞানীদের হাতে তুলে দেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। এ পদার্থ ও ইউরেনিয়ামের সংযোগে যেমন বিদ্যুৎ তৈরি করা যায়, তেমনই আণবিক হাতিয়ারও বানানো যায়। শনিবার জাতীয় পারমাণবিক প্রযুক্তি দিবস উপলক্ষে ভুগর্ভস্থ পারমাণবিক প্লান্টে এ উন্নত ইউরেনিয়ান সমৃদ্ধ করার কাজ শুরু হয়। দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি এ সময় পরমাণু বিস্তাররোধে তার দেশের প্রতিশ্রুতির কথা আবার মনে করিয়ে দেন।
রুহানি বলেন, ‘আমি আবার জোর দিয়ে বলছি, আমাদের সব ধরনের পারমাণবিক ক্রিয়াকলাপ শান্তিপূর্ণ এবং বেসামরিক উদ্দেশ্যে। গত মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক মঞ্চের সঙ্গে আণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনায় বসে ইরান। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রকে ফের চুক্তিতে অংশীদার করা নিয়ে আলোচনা হয়। এমন সময়ে সরাসরি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার কাজ শুরু হওয়ায় রীতিমতো উদ্বেগ ছড়িয়েছে পশ্চিমা বিশ্বে। ইসলামিক দেশটি আণবিক অস্ত্রের দৌড়ে শামিল হলে মধ্যপ্রাচ্যে রাজনীতির সমীকরণ সম্পূর্ণ পাল্টে যাবে বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
২০১৫ সালে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য- যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে ইরান। সেটির শর্তমতে আণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত থাকবে দেশটি। পাল্টা তেহরানের ওপর থেকে বেশ কিছু আর্থিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে যুক্তরাষ্ট্রসহ চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলি। কিন্তু ২০১৮ সালে ইরানের বিরুদ্ধে আণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টার অভিযোগ এনে চুক্তি থেকে একতরফাভাবে বেরিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র।
তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনায় সরব হয় ইরান। তবে গতবছর মার্কিন মসনদে জো বাইডেন বসায় ফের চুক্তিটিতে যুক্তরাষ্ট্রের শামিল হওয়া নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। এরপর দুই পক্ষ পরস্পরকে দোষারোপ করেই সময় কাটালেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এরই মধ্যে চীনের সঙ্গে ২৫ বছরের কৌশলগত চুক্তি হয়েছে ইরানের। রাশিয়ার সঙ্গেও এ ধরনের চুক্তির সম্ভাব্যতা যাচাই হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে পরমাণু চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিরে আসার সম্ভাবনা আপাতত হিমঘরে চলে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।