admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২১ আগস্ট, ২০২১ ১০:২৬ অপরাহ্ণ
আফগানিস্তানের তালেবানে বাংলাদেশের লাভ না ক্ষতি। দীর্ঘ লড়াই শেষে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ২০০১ সালে ক্ষমতাচ্যুত তালেবান। এরইমধ্যে দেশটির ঘানি প্রশাসনের পতন হওয়ায় নতুন সরকার গঠনের তোড়জোড় চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, সম্ভাব্য আফগান সরকারে প্রাধান্য থাকবে তালেবানের। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সামনে এসেছে, এই অঞ্চলের দেশ হিসেবে বাংলাদেশের লাভ-ক্ষতির বিষয়টি। কাবুল পরিস্থিতির দিকে সতর্ক নজর রাখার কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। তিনি জানান, নতুন সরকারে যারাই আসুক, সেটি জনগণের সরকার হলে গ্রহণ করবে ঢাকা।
তবে দেশটির শরণার্থীদের গ্রহণের মার্কিন প্রস্তাব নাকচ করা হয়েছে। ডয়চে ভেলে জানায়, আফগানিস্তানের এই পরিবর্তন নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে। বিশেষ করে সামাজিকমাধ্যমে নানামুখী মতামত প্রকাশ করছেন তারা। গুরুত্ব দিয়ে খবর পরিবেশনের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের বিশ্লেষণ প্রকাশ করছে ঢাকার সংবাদমাধ্যমগুলো। তালেবার ইস্যুতে সতর্ক অবস্থানে থাকার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশের পুলিশ। কেউ যাতে ‘জিহাদ’ করতে আফগানিস্তানে ‘হিজরত’ করতে বা ফেরত আসতে না পারে তার ওপর নজর রাখা হচ্ছে।
এ নিয়ে ডিএমপি কমিশনার বক্তব্য রাখার পর মন্তব্য এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকেও। এ বিষয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনিরুজ্জামান বলছেন, আফগানিস্তান পরিস্থিতি গৃহযুদ্ধের দিকে গেলে তার প্রভাব পড়বে বাংলাদেশসহ পুরো অঞ্চলে। প্রতিবেশী দেশগুলোতে দেখা যাবে মানবিক বিপর্যয়ের প্রভাব, তৈরি হতে পারে নিরাপত্তা ঝুঁকিও।এ ক্ষেত্রে তার মতে, বাংলাদেশের বড় উদ্বেগের বিষয় হতে পারে অতীতের অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি এবং নতুন করে জঙ্গি উজ্জীবিত হওয়ার শঙ্কা।
কেননা, এক সময় আফগানিস্তানে গিয়ে তালেবানের জিহাদে অংশ নিয়েছিল কিছু বাংলাদেশি। সেটি এবার না ঘটলেও জঙ্গি গোষ্ঠিগুলো মাথাচাড়া দিতে পারে। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা সিনিয়র সাংবাদিক জায়েদুল আহসান পিন্টুও একই ধরনের মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, পাক-আফগান সীমান্ত হয়ে এদেশে এসেছে জঙ্গিবাদ। হোলি আর্টিজান হামলার পর জঙ্গিদের কঠোর হাতে দমন করায় শক্তিহীন হয়ে পড়েছে। কাবুলে জঙ্গিবাদের ‘ব্রিডিং সেন্টার’ হয় কিনা, সেটিই এখন ঢাকার জন্য আতঙ্কের বিষয় বলে মনে করেন জায়েদুল আহসান পিন্টু। তালেবানের উত্থানে পুরো দক্ষিণ এশিয়ার জন্য নতুন পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে সাবেক কূটনীতি মেজর জেনারেল (অব.) শহীদুল হক বলছেন, তালেবান কোনো আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠী নয়। সমঝোতার ভিত্তিতে আফগানিস্তানের ক্ষমতায় যাচ্ছে তারা। সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করতে চাইছে গোষ্ঠীটি, যাতে আন্তর্জাতিক সমর্থন পাওয়া যায়। এই কারণে তাদের চরিত্রেরও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে এবং আসবে।
এরইমধ্যে পাকিস্তান ও চীনের তালেবানের মাধ্যমে যোগাযোগ, নিরাপত্তা ও ব্যবসা বাড়াতে চাইছে। এ ক্ষেত্রে ভারত পিছিয়ে পড়লেও ব্যবসা বাণিজ্যে বড় সুযোগ তৈরি হতে পারে বাংলাদেশের জন্য। কেননা, গেলো অর্থবছরে কাবুলে ৮৬ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে ঢাকা। যা আগের অর্থবছরে ছিল মাত্র ৫৭ লাখ ডলারে, বলেন তিনি।