admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৫ এপ্রিল, ২০২১ ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ
মোদিকে ওয়াইসি মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক হলে বাংলাদেশি তাড়াচ্ছেন কেন ? ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শুক্রবার জানিয়ে ছিলেন, তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে সত্যাগ্রহ করেছেন। শনিবার তার সেই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তোপ দাগলেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন-এর প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। তার প্রশ্ন, তাহলে কেন মুর্শিদাবাদের মানুষদের বাংলাদেশি বলে ডাকেন প্রধানমন্ত্রী। ভোটপ্রচারে মুর্শিদাবাদে রয়েছেন ওয়াইসি। শনিবার সেখানেই এক জনসভায় এমনই কটাক্ষ করতে দেখা গেল তাকে। সংবাদ সংস্থা এএনআই সূত্রে জানা যাচ্ছে, ওই জনসভায় ওয়াইসি বলেন, গতকাল বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য সত্যাগ্রহ করেছিলেন। যদি আপনি বাংলাদেশের জন্য সত্যাগ্রহ করেই থাকেন, তাহলে কেন মুর্শিদাবাদিদের বাংলাদেশি বলেন? কেন তাদের প্রতি খারাপ আচরণ করেন? কেন তাদের বিতাড়িত করতে চান
আসাদউদ্দিন ওয়াইসি ও মোদি: তার এ বক্তব্য নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশে সমালোচনা হচ্ছে। সেই বক্তব্যকেই কাঠগড়ায় তুলে আক্রমণ শানালেন ওয়াইসি। পশ্চিমবঙ্গে শনিবারই প্রথম সভা করলেন ওয়াইসি। এর আগে মেটিয়াব্রুজে সভা করার কথা ছিল তার। কিন্তু পুলিশি অনুমতি না মেলায় শেষ পর্যন্ত সেই সভা বাতিল হয়। বহুদিন ধরেই মুর্শিদাবাদ জেলায় ওয়াইসির দলের নজর রয়েছে। এর আগে রাজ্যে আব্বাস সিদ্দিকীর সঙ্গে আলোচনাও সারেন ওয়াইসি। তারপর অবশ্য পরিস্থিতির অনেক বদল হয়েছে। আব্বাস নিজের দল গড়ে বাম-কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করেছেন। মুর্শিদাবাদে মুসলিম-অধ্যুষিত কেন্দ্রগুলিতে লড়াই করতে চেয়েছিলেন ওয়াইসি। কিন্তু আপাতত জানা যাচ্ছে, সাগরদিঘি ও জলঙ্গি, এই দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে তার দল। সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের মন্দিরে পানি খেতে গিয়ে মুসলমান কিশোরের নিগ্রহ প্রসঙ্গও টেনে আনেন ওয়াইসি।
তার কথায়, বিজেপি দেশের মধ্যে এমন ঘৃণা ছড়িয়েছে যে, কোনো মুসলমান বালক পানি খেতে গেলেও তাকে নিগৃহীত হতে হয়। মুসলমানদের জিহাদি, আদিবাসীদের নকশাল এবং ধর্মনিরপেক্ষ চিন্তাবিদদের দেশদ্রোহীর তকমা দেওয়া হচ্ছে। মুজিববর্ষ উদযাপনে আমন্ত্রিত হয়ে শুক্রবার বাংলাদেশে পৌঁছান নরেন্দ্র মোদি। ঢাকা-নয়াদিল্লির সম্পর্কে নতুন দিগন্তের সূচনা করে তিনি বলেন, পরাধীন বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য আমিও লড়াই করেছিলাম। মুক্তিযুদ্ধের জন্য সহযোগীদের সঙ্গে সত্যাগ্রহ করে জেলে গিয়েছিলাম আমরা। এই লড়াইয়ে কৃষক, জওয়ান, শিক্ষক ও চাকরিজীবী সবাই একসঙ্গে এসে মুক্তিবাহিনী গঠন করে লড়াই করেছেন।