admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর, ২০২১ ৯:৫৬ পূর্বাহ্ণ
মিয়ানমারে ফের ভয়াবহ নৃশংসতার শঙ্কা। চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থান ঘটিয়ে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করে দেশটির সেনাবাহিনী। এরপর থেকে অব্যাহতভাবে গণতন্ত্রপন্থীদের বিক্ষোভ দমন নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রয়েছেন জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং। এরমধ্যেই দেশটির উত্তরাঞ্চলে হাজার হাজার সৈন্য এবং ভারি অস্ত্রশস্ত্রের সমাবেশ ঘটানো হয়েছে। এমতাবস্থায় রাখাইনের মতো ওই অঞ্চলে আরেক দমনাভিযান তথা ভয়াবহ নৃশংসতার শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এমনকি খোদ জাতিসংঘও ব্যাপক মানবাধিকার বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে গতকাল শুক্রবার।

সংস্থাটির সাধারণ পরিষদে জমা দেয়া এক প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরেন মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি টম অ্যান্ড্রুজ। বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদনে তিনি বলেন, বিপুল সংখ্যক সৈন্য এবং ভারি অস্ত্রশস্ত্র দেশটির উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। একই ধরনের ভয়ঙ্কর কৌশল ২০১৬ ও ২০১৭ সালে রাখাইনে রোহিঙ্গা গণহত্যার আগের ঘটনা প্রবাহকে স্মরণ করিয়ে দেয়। অনুসন্ধানে জান্তা সরকারের যুদ্ধাপরাধে জড়িত থাকার আলামত মিলেছে জানিয়ে টম অ্যান্ড্রুজ বলেন, মিয়ানমারের ওই অঞ্চলের বাসিন্দারা ব্যাপক নৃশংসতার আশঙ্কায় অপেক্ষার প্রহর গুনছে। সে ব্যাপারে সবার প্রস্তুত থাকা উচিত।
এই আশঙ্কা ভুল প্রমাণিত হোক, সেটাই চাই আমরা। স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থা এএপিপি জানিয়েছে, ক্ষমতা দখলের পর ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী অভিযান চালাচ্ছে সেনাবাহিনী। এতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ১০০ জন নিহত এবং ৮ হাজার মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছে। এখনো দেশটিতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। খবর এএফপির।
২০১৭ সালেরে আগস্টে রাখাইনে সেনাবাহিনীর রক্তক্ষয়ী অভিযানের মুখে প্রায় ৭ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম পালিয়ে বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়। সে সময় রোহিঙ্গাদের বাড়িঘরে আগুন, হত্যা, নারীদের ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে দেশটির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। ওই ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ বলে নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ।