admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৩০ জুলাই, ২০২১ ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতকে সতর্ক করলেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন ভারত সফরে সিভিল সোসাইটির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে ভারতের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে ভারতকে সতর্ক করেছেন তিনি। সফরে তিনি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকের আগে দেশটির সিভিল সোসাইটির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। মূলত প্রতিদ্বন্দী চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে শক্তিশালী বন্ধন গড়তে জোর দিচ্ছে। আল জাজিরা।
সিভিল সোসাইটির একটি গ্রুপ বুধবার নয়দিল্লির একটি হোটেলে প্রেস বিফিংয়ে বলেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনে করেন ভারতের সঙ্গে দেশটির এখন সর্বোচ্চ ভাল সম্পর্ক চলছে। ভারত পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর একটি বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র। ব্লিংকেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের জনগণ মনে করে, দুদেশই মানবিক সততা ও জনগণের সুযোগ-সুবিধার সমতায় বিশ্বাসী। ধর্ম ও বিশ্বাসের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগ সমভাবে হোক তা দুদেশই চায়।
এটা মানুষের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার। আমরা দুদেশ অবশ্যই গণতান্ত্রিক অগ্রগতি প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছি। সিভিলি সোসাইটির গ্রুপটির মধ্যে দালাই লামা সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের তিব্বত হাউসের নেতা গেশে দরজি দামদুলও ছিলেন।
খবরে বলা হয়, সফরে ব্লিঙ্কেন ভারতের বর্তমান সময়ে ধর্মীয় আইনের ভিত্তিতে মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা বিষয়টি ভারতকে স্মরণ করিয়ে দেন। যার মাধ্যমে ভারতের মুসলমানরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিকের সফর আমাদের গর্বিত করেছে। খবরে বলা হয়, মোদি সরকারের বিরুদ্ধে মুসলিম দমন-পীড়নের অভিযোগ বর্তমান সময়ে একটি আলোচিত বিষয়।
ধর্মীয় অধিকারের দিক দিয়ে হিন্দুরা যতটা সুবিধা পাচ্ছে মুলমানরা ততটাই নিগৃহীত হচ্ছে ভারতে। বুধবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। বৈঠকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে, বিশেষ করে করোনা মহামারি, ইন্দো-প্যাসিফিক আঞ্চলিক সমস্য এবং আফগানিস্তানের নিরাপত্তার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
জাতিসংঘের সঙ্গে সহযোগিতাপূর্ণ নানা পদক্ষেপের ব্যাপারেও আলোচনা হয়। ব্লিঙ্কেন তার সফরে কোয়াডরিলেটারেল সিকিউরিটি ডায়ালগের সম্মেলনের প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পর্কে আলোচনা করেন। ডায়ালগের সদস্য রাষ্ট্রগুলো হলো অস্ট্রেলিয়া, ভারত, জাপান এবং যুক্তরাষ্ট্র। ইন্দো-প্যাসেফিকে বেইজিং বিরোধী জোট হিসেবে এ জোটকে দেখা হয়। ভারত সফর শেষে কুয়েত রওনা করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।