admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১ নভেম্বর, ২০২১ ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ
বিশ্বকে বাঁচাতে কপ-২৬ শীর্ষ সম্মেলন যুক্তরাজ্যের স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় আজ রোববার শুরু হয়েছে এবারের কপ-২৬ শীর্ষ সম্মেলন, চলবে আগামী ১২ নভেম্বর পর্যন্ত। জাতিসংঘের আয়োজনে যুক্তরাজ্যের স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে চলছে সম্মেলনটি। এতে ১২০টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান ভয়াবহ হুঁশিয়ারির মধ্যেই বিশ্বকে বাঁচাতে পরবর্তী পরিকল্পনা তৈরি করবেন। বাংলাদেশ থেকে ৪৫ জন প্রতিনিধি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ব্যবসায়ী নেতাদের নিয়ে সম্মেলনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। করোনা মহামারির কারণে এক বছর পিছিয়ে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধে আগের নেয়া সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হবে এবার। ২০১৫ সালে প্যারিস সম্মেলনে একটি চুক্তি সই করেছিলেন প্রায় ২০০টি দেশের নেতারা। সে অনুযায়ী, ২০২০ সাল থেকে বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলার অনুদান দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন ধনী দেশগুলোর নেতারা। সেটি বাস্তবায়নের তেমন কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। কার্বন নিঃসরণকারী উন্নত দেশগুলোর এই উদাসীনতায় বৈশ্বিক উষ্ণতা ভয়াবহভাবে বেড়ে যাচ্ছে। এর ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ায় তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে দ্বীপরাষ্ট্রগুলো।
জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে ৪ মহাদেশের ৪৮টি দেশ অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছে। লবণাক্ততা বাড়ায় বন্ধ্যা ভূমিতে পরিণত হওয়ার হুমকিতে রয়েছে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা। এই বিপদ থেকে বাঁচতে ৪৮টি দেশের জন্য এখনই জরুরি তহবিল প্রয়োজন। সম্মেলনে অভিযোজন ও প্রশমনে সমপরিমাণ অর্থ বরাদ্দসহ বেশ কিছু দাবি-দাওয়া তুলে ধরবে বাংলাদেশ। এরমধ্যে রয়েছে- অভিযোজন কার্যক্রম বাড়ানো এবং বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখা এবং একটি সেক্রেটারিয়েট প্রতিষ্ঠা করা।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উত্তর মেরু অঞ্চলের বরফ ভয়াবহভাবে গলে যাওয়ায় মাটির নিচে জমে থাকা শক্তিশালী গ্রিনহাউস গ্যাস বেরিয়ে আসছে, যা মানব সভ্যতার জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, যে হারে মেরু অঞ্চলের বরফ গলছে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে নিকট ভবিষ্যতে পৃথিবীতে ভয়াবহ উষ্ণতা দেখা দেবে। সেই পরিস্থিতি আর নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। তেমনটি ঘটলে ওই অঞ্চলের শক্তিশালী গ্রিনহাউস গ্যাসের উপাদানগুলো দ্রুত উন্মুক্ত হয়ে যাবে।
ধারণা করা হচ্ছে, পুরো উত্তর গোলার্ধের এক চতুর্থাংশে ১ হাজার ৬০০ বিলিয়ন টন অর্গানিক কার্বন বরফের নিচে চাপা পড়ে আছে। এটি বর্তমানে পৃথিবীর উপরিভাগে যে পরিমাণ রয়েছে, তার দুই গুণ। এই কার্বন উন্মুক্ত হয়ে পড়লে পৃথিবীকে আর বাঁচানোর কোনো উপায় থাকবে না।