admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট, ২০২১ ৮:৩৪ অপরাহ্ণ
বিএনপি মহাসচিব ফখরুল বলেছেন বঙ্গবন্ধু-জিয়াকে নিয়ে টানাটানি অনুচিত। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সরকার জনগণের দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতেই চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের সমাধি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। এক সংবাদ সম্মেলন আজ শনিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব এ অভিযোগ করে বলেন, লাখ লাখ মানুষ জানাজায় অংশ নিয়েছে, দাফন হয়েছে। এমনকি তার (প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান) বডি ক্যারি করেছেন তৎকালীন সেনাপ্রধান এরশাদ সাহেব।
এটা একটা স্বচ্ছ বিষয়, এর চেয়ে বড় সত্য আর কিছু হতে পারে না। বিএনপি মহাসচিব বলেন, এরপরও এ ধরনের ইস্যুগুলো সামনে নিয়ে আসা হয়, তারা যে কতটা রাজনীতিশূন্য হয়ে গেছে, রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে- এটা তার প্রমাণ। আচ্ছা, তারা মূল জায়গায় আসে না কেন? কীভাবে নির্বাচন করবেন, কীভাবে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করবেন, মানুষের অধিকার, ভোটের অধিকার কীভাবে ফিরিয়ে দেবেন- এসব নিয়ে তারা কোনো কথা বলে না।
মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি জেনারেল ওবায়দুর কাদের সাহেব গতকাল বলেছেন, তার কথার উত্তর আমি নাকি দেই না। উনি কি পত্রিকা পড়েন? শুধু তার প্রত্যেকটা কথার উত্তর না, সঠিক ও সত্যকে আমরা সব সময় তুলে ধরি। গতকাল উনি ছবি দেখাতে বলেছেন। কি আর বলব বলেন এখন? এসব কথার জবাব দিতে গেলে মানহানি মামলা করবেন। তাছাড়া এই ধরনের কথা আমাদের রুচিতে বাঁধে।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদককে উদ্দেশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এটা তো কাজ না, পয়েন্ট না। কাম ডাউন। বরং বলেন করোনায় কী করেছেন? মানুষের জীবন-জীবিকার জন্য আপনি কী করেছেন সেটা বলেন। যেসব মানুষ দিন আনে দিন খায় তাদের জন্য কী করেছেন সেটা বলেন। এখন মানুষ দরিদ্র থেকে দরিদ্র হচ্ছে, আর আওয়ামী লীগের প্রত্যেকটি মানুষ ধনী থেকে আরো ধনী হচ্ছে, বড় লোক আরো বড় হচ্ছে, বিদেশে টাকা পাচার করছে- এসব নিয়ে বলেন। সমাজে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে, অসামাজিক কার্যকলাপে ছেয়ে গেছে। কোনো কিছুই কাজ করছে- তাহলে কি এটা ব্যর্থ রাষ্ট্র হতে যাচ্ছে।
চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের কবর নিয়ে কথা উঠেছে, এ প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, জিয়াউর রহমান সাহেবের মাজার সম্পর্কে যেসব কথা তারা বলেছেন- এতে ধর্মপ্রাণ মানুষের মনের ভেতরে আঘাত এসেছে, সাধারণ মানুষ এটা কখনো ভালোভাবে নেয়নি। এ দেশের মানুষের হৃদয়ের মধ্যে আছেন, মনের মধ্যে আছেন জিয়াউর রহমান। শবে বরাতের রাতে ওদিকে (চন্দ্রিমা উদ্যান) যারা যান, তারা দেখবেন যে সাধারণ মানুষ এসে তার মাজার জিয়ারত করছে।
আমরা অযথা উনাদের (জিয়াউর রহমান ও শেখ মুজিবুর রহমান) নিয়ে টানাটানি করতে চাই না। তারা আমাদের সবার শ্রদ্ধেয় নেতা। তাই তাদের জায়গায় তাদেরকে রাখা উচিত। এ দেশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে যাদের অবদান আছে, যারা স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রাণ দিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা এবং রাজনৈতিক নেতা তাদের সম্পর্কে নোংরা কথাবার্তা বলা হয়, এটা জাতির জন্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য খুবই দুঃখজনক। এতে বোঝা যায়, তারা রাজনৈতিকভাবে কতটা দেউলিয়া হয়ে গেছে, তাদের কোনো রাজনীতি নেই, বলেন বিএনপি মহাসচিব।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের কবর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যকে ‘রুচিহীন’ মিথ্যাচার অভিহিত করে এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে বিএনপির গতকালের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায়। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কখন কী বক্তব্য দেন, কীভাবে দেন, কেন দেন- আমাদের কাছে এটা এখন পর্যন্ত বোধগম্য হয়নি। গতকাল তিনি (প্রধানমন্ত্রী) যেসব বক্তব্য দিয়েছেন, কোনো রুচিসম্পন্ন মানুষ এটা করতে পারেন না বলে আমি মনে করি।। এটা রুচিহীন, কদর্য, একটা মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছু নয় বলে আমার কাছে মনে হয়েছে। এ ধরনের বক্তব্য মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে।