admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৩ মে, ২০২০ ৭:৫৪ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে সুস্থ হওয়াদের সংখ্যা ১৭৭ থেকে একলাফে বেড়ে সহস্রাধিক। ইনফ্রারেড হ্যান্ডহেল্ড থার্মোমিটার দিয়ে তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে। বাংলাদেশে কোভিড-১৯ থেকে সেরে ওঠার সংখ্যা ১৭৭ থেকে একলাফে ১০৬৩ জনে দাঁড়িয়েছে। কীভাবে এত অল্প সময়ের মধ্যে এত বেশি রোগী সুস্থ হলো তার কারণ হিসেবে আইইডিসিআর বলছে, কাদেরকে সুস্থ বলা হবে সে ব্যাপারে বাংলাদেশের ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট কমিটির দেয়া একটি নতুন গাইডলাইন অনুসরন করা হয়েছে।এদিকে, বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬৬৫ জনের মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এটাই এযাবৎকালের সবোর্চ্চ সংখ্যক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার ঘটনা। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪৫৫ জনে। এই সময়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২ জন। ফলে এ নিয়ে বাংলাদেশে কোভিড-১৯ এ মৃতের সংখ্যা ১৭৭। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৫,৩৬৮টি ।
বর্তমানে দেশের ৩১টি ল্যাবরেটরিতে করোনাভাইরাস আক্রান্তদের নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে পহেলা মে’র নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে জানানো হয়। এদিকে মারা যাওয়াদের ২ জনের মধ্যে একজনের বয়স ১১-২০ বছরের মধ্যে। আরেক জনের বয়স ষাট বছরের ওপরে। তাদের একজন রংপুরের বাসিন্দা, আরেকজন নারায়নগঞ্জের। বাংলাদেশের ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য ডা. এম এ ফয়েজ জানিয়েছেন, আগের গাইডলাইন অনুযায়ী কারও মধ্যে যদি করোনাভাইরাস পজিটিভ শনাক্ত হতো তাহলে তার ১৪-২১ দিনের মধ্যে দ্বিতীয় টেস্ট করা হতো।
সেখানে ফলাফল নেগেটিভ আসলে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা অথবা দুই তিনদিনের মধ্যে আরেকটি টেস্ট করা হতো। সেখানেও ফলাফল নেগেটিভ আসলে রোগীকে সুস্থ ঘোষণা করে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া হতো। এবং বলা হতো তারা যেন আরও ১৪ দিন বাড়িতে কোয়ারেন্টিনে থাকেন। তবে নতুন নিয়মে রোগী যদি ক্লিনিক্যালি সুস্থ হয়ে ওঠেন অর্থাৎ পর পর তিন দিন যদি তার আর জ্বর না থাকে, কাশি বা শ্বাসকষ্ট না হয় তাহলে তাকে হাসপাতালে না রেখে বাড়িতে ১৪ দিনের আইসোলেশনে পাঠিয়ে দেয়া হবে। বাড়ি থেকেই তার পরবর্তী দুটো পরীক্ষা করা হবে। যেটা কিনা আগে হাসপাতালে থেকে করা লাগতো। হাসাপাতালে রোগীর চাপ ক্রমশ বাড়তে থাকায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৫ জনকে আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে। আইসোলেশন থেকে ছাড়া হয়েছে ৬০ জনকে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টিনে নেয়া হয়েছে ৯৮৭৪ জনকে। ছাড় পেয়েছেন ২১৪৯ জন। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় লাখের মতো সুরক্ষা সামগ্রী মজুদ আছে বলে গতকালকের বুলেটিনে জানানো হয়। নতুন করে সংগ্রহ করা হয়েছে ৩২,৬৭০টি সুরক্ষা সামগ্রী। গত ২৪ ঘণ্টায় চারটি হটলাইনে ৭০,২২১ টি ফোন এসেছে। সেখানে কোভিড-১৯ বিষয়সহ নানা স্বাস্থ্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এছাড়া মোবাইল ফোন এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও ১৭,০০৮ জনকে সেবা দেয়া হয়েছে। বিমানবন্দর, স্থলবন্দর এবং সমুদ্রবন্দর মিলিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় স্ক্রিনিং করা হয়েছে ৫৬৯ জনকে। করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় রাস্তাঘাটে বহু মানুষকে দেখা যাচ্ছে মাস্ক দিয়ে মুখ ঢেকে চলাচল করতে।