হোম
নির্বাচিত কলাম

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের আক্রান্তদের সুস্থ হওয়ার হার কি কম?

admin || মুক্ত কলম সংবাদ

প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল, ২০২০ ৯:৪৬ পূর্বাহ্ণ

BD-Korona-mknewsbd

ফাইল ছবি

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের আক্রান্তদের সুস্থ হওয়ার হার কি কম: করোনাভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্তে স্ক্রিনিংয়ের অংশ হিসেবে শরীরের তাপমাত্রা মাপা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৫ই এপ্রিল পর্যন্ত মারা গেছে ৫০ জন। আর এই সময়ে মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৪৯ জন।

প্রশ্ন দেখা দিয়েছে যে, তাহলে কী বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হওয়ার তুলনায় মৃত্যুহার বেশি। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট করে উত্তর দেয়ার সময় এখনো আসেনি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেনিন চৌধুরী বলেন, মৃতের সংখ্যা বা সুস্থ হওয়ার সংখ্যা এটি সারা দেশের প্রেক্ষাপটে খুব বড় কোন সংখ্যা না। এটি দিয়ে সারা দেশে রোগী বা অন্য কোন সংখ্যাও বোঝা যায় না। এই সংখ্যা দিয়ে বোঝা যায় যে, রোগের গতিপথ নিম্নমুখী নাকি উর্ধ্বমুখী।

বাংলাদেশে বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মীরা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কাজ করছেন, ২৫-০৩-২০২০।

তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুর পর রোগীর শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। তাই পুরো বিষয়টাই একটা হ-য-ব-র-ল অবস্থা। এই সংখ্যা আসলে সিদ্ধান্তে আসার মতো কিছু না। এ বিষয়ে জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইইডিসিআর এর পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, বাংলাদেশে সুস্থ হওয়ার হার কম সেটি বলার সময় এখনো আসেনি। তিনি বলেন, যারা সুস্থ হচ্ছেন তাদেরকে সুস্থ না বলে আসলে বলা উচিত সংক্রমণ মুক্ত হচ্ছেন।

অর্থাৎ তাদের মধ্যে লক্ষণ তেমন ছিল না বা মৃদু লক্ষণ ছিল কিন্তু ভাল হয়ে গেছে এমন ব্যক্তিরা। পর পর দুটি নমুনা পরীক্ষায় যদি কারো করোনাভাইরাস সংক্রমণের নেতিবাচক ফল আসে তাহলে তাকে সংক্রমণ মুক্ত বলা হয়। তবে তার জন্যও সময় দরকার হয়। তিনি বলেন, “নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে, পর পর দুটি পরীক্ষায় নেতিবাচক ফল আসতে দুই সপ্তাহ সময় লাগে। তার মতে, সে হিসেবে আমাদের দেশে সপ্তাহ খানেক ধরে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হারে বেড়েছে। অর্থাৎ তাদের সুস্থ হওয়া বা সংক্রমণ মুক্ত হওয়ার সময়সীমা এখনো আসেনি। তাদের সুস্থ হওয়ার পিরিয়ডটাই এখনো যায়নি, তিনি বলেন। এখন যারা সুস্থ হচ্ছেন তাদের মধ্যে সংক্রমণ আগে ধরা পড়েছে। যখন আক্রান্তের সংখ্যাও কম ছিল।

কারা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন?
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেনিন চৌধুরী বলেন, করোনাভাইরাসে যারা আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের মধ্যে ৮০ ভাগ মানুষ কোন চিকিৎসা সেবা ছাড়াই সুস্থ হয়ে যান। অর্থাৎ তাদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার দরকার হয় না। বাকি ১৮ বা ২০ ভাগ মানুষকে হাসপাতালে আসতে হয়। কিন্তু এদের সবার আবার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন হয় না। এদের বেশিরভাগকেই চিকিৎসা সেবা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। বাকি ৫ থেকে ৬ ভাগ মানুষের হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা সেবা নেয়ার দরকার হয়।

হাসপাতালে তিন ধরণের রোগী আসেন। যাদের মধ্যে এক ধরণের রোগীদের বলা হয় “হেলদি ক্যারিয়ার”। অর্থাৎ তাদের মধ্যে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি রয়েছে কিন্তু কোন লক্ষণ নেই। তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি না করে বাসায় কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। দ্বিতীয়ত, যাদের মৃদু লক্ষণ থাকে তাদেরকেও চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। তৃতীয়ত, যাদের শ্বাসকষ্ট দেখা দিচ্ছে, জ্বর বেশি, রক্তে অক্সিজেনের স্বল্পতা তৈরি হচ্ছে এবং প্রচণ্ড ক্লান্ত বোধ করছে তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে করোনাভাইরাসের কী সেবা দেয়া হচ্ছে?
শুধু বাংলাদেশ নয় বরং বিশ্বের কোথাও করোনাভাইরাস সংক্রমণের কোন সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা বা প্রতিষেধক নেই। এ বিষয়ে ডা. লেনিন চৌধুরী বলেন, এ পর্যন্ত ৫৬ থেকে ৬০টির মতো ওষুধ পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে যে সেগুলো করোনাভাইরাস ঠেকাতে কাজ করে কিনা। তবে এগুলোর কোনটির বিষয়েই এখনো কোন সিদ্ধান্ত আসেনি। তাহলে যারা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন তাদেরকে কী ধরণের চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে এমন প্রশ্নে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে যে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে সেটা মূলত রোগীদের উপসর্গ ভিত্তিক।

মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, অনেককেই হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের মতো ঔষধ দেয়া হয় তবে বেশিরভাগ চিকিৎসাই রোগীর উপসর্গ ভিত্তিক। অর্থাৎ কারো যদি, জ্বর থাকে তাহলে তাকে জ্বরের ওষুধ দেয়া হয়। আবার কারো যদি শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা হয় তাহলে তাকে অক্সিজেন দেয়া হয়। এটা পুরোটাই নির্ভর করে যে, ওই নির্দিষ্ট রোগীর লক্ষণ আসলে কি তার উপর। ডা. লেনিন চৌধুরী বলেন, যাদের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি অন্য কোন সংক্রমণ থাকে তাদেরকে অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হয়। বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।

বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।

যারা মারা যাচ্ছেন তাদের বৈশিষ্ট্য কী?
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে যারা মারা যাচ্ছেন তাদের মধ্যে এখনো সুনির্দিষ্ট কোন বৈশিষ্ট্য ধরা পড়েনি।চীন বা ইউরোপের দেশগুলোতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে বেশিরভাগই বয়স্ক বা তাদের অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা ছিল। কিন্তু মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এমন কোন সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য নেই। কার ণ বাংলাদেশে একজন শিশুও এরইমধ্যে মারা গেছে। এমন অনেকে মারা গেছেন যাদের বয়স ৩৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে।

তিনি বলেন, তবে যারা মারা গেছে, তাদের বেশিরভাগই হাসপাতালে আসার কিছুক্ষণ পর পরই মারা গেছে। বা অনেকে এসেই মারা গেছে। আবার অনেককে মৃতই নিয়ে আসা হয়েছে। এছাড়া অনেকে মারা যাওয়ার পর তার নমুনা পরীক্ষা করে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিতে নিতে মারা গেছে এমন সংখ্যা খুবই কম। তবে যারা মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্যে পড়ছেন তারা বেশিরভাগ বাড়িতেই এমন অবস্থার মুখে পড়ছেন।

ফেসবুক মন্তব্য

মতামত জানান :

সর্বশেষ খবর

দিনাজপুরের বীরগঞ্জের শতগ্রাম ইউনিয়ন বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম মুক্ত ঘোষণা।
রংপুর 60 minutes আগে

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে মাদক সেবনের অপরাধে তিনজনের কারান্ড ও অর্থ জরিমানা।
অপরাধ 2 hours আগে

সুনামগঞ্জে অবৈধ পাড় কাটা বন্ধে মাঠে প্রশাসন, ঝুঁকিতে শিমুল বাগানসহ
সারা বাংলা 2 hours আগে

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত।
আইন-বিচার 2 hours আগে

রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে মানবিক পরিবেশ গড়ে তুলতে জেল সুপার মামুনের
আইন-বিচার 7 hours আগে

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলা পরিষদ রোডে চলাচলের অযোগ্য জনসাধারণ দুর্ভোগের শিকার।
জনদুর্ভোগ 7 hours আগে

১৭ পিস ইয়াবাসহ সুমন নামের এক ব্যক্তি আটক করেছে ঠাকুরগাঁও
অপরাধ 17 hours আগে

হনুমাান এলো হাত কর্তনের বিচার চাইতে।
খুলনা 21 hours আগে

দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনে অত্যাধুনিক ডায়ালাইসিস মেশিনের উদ্বোধন।
রংপুর 1 day আগে

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে নবাগত ইউএনও সখিনা আক্তারের সঙ্গে মত বিনিময়।
রংপুর 1 day আগে

পাঠকপ্রিয়

শিরোনাম :

কুড়িগ্রামে ঐতিহাসিক আসনে কঠিন চ্যালেঞ্জে জাপা,মাঠ গরম এনসিপি-বিএনপির। হাদীর ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় দিনাজপুর সীমান্ত ৪২ বিজিবির রেড অ্যালার্ট জারি। রোহিঙ্গা মেয়েরা পাচার ছাড়াও বিদেশীদের দ্বারা যৌন কাজে ব্যবহারের টার্গেট হয়ে উঠছে ঠাকুরগাঁওয়ে নানা কর্মসূচিতে হানাদার মুক্ত দিবস উদযাপিত। ঠাকুরগাঁও জেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ৪র্থ জেলা রোভার মুট-২০২৫। কুড়িগ্রামের রাজারহাটে প্রাণিসম্পদ সপ্তাহের প্রদর্শনী ও সমাপনী অনুষ্ঠিত। পার্বতীপুরে জাতীয় প্রাণি সম্পদ ও ডেইরি প্রকল্পের উদ্বোধন। রাণীশংকৈলে জাতীয় প্রাণীসম্পদ সপ্তাহ ও প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত পলাতক শেখ হাসিনার অগ্রণী ব্যাংকের লকার ভেঙে ৮৩২ ভরি স্বর্ণ জব্দ রাজশাহীতে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০ জন ৩ ডিসেম্বর রংপুরে বিভাগীয় মহাসমাবেশ সফল করতে দিনাজপুরে ৮ ইসলামী দলের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত। দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে সব বাহিনী প্রস্তুত: সিইসি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৬ হাজার কৃষক পাচ্ছে বিনামূল্যে গম বীজ ও সার। মাত্র চার মাসের শিশু সুমাইয়া বাঁচতে চায়! পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় হেফাজতে ইসলামের নতুন কমিটি গঠন। ভূমিকম্পে সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে এখনই শক্তিশালী ও সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে: সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান রাজধানীতে  আজ থেকে ঘরে বসেই মেট্রোরেলের কার্ড রিচার্জ করবেন? নীলফামারীতে পাটবীজ উৎপাদনকারী চাষীদের প্রশিক্ষণ। আর কোনো পরিস্থিতি নেই যে নির্বাচন ব্যাহত হবে-ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল  ৫-বছরেও শেষ হয়নি ওয়াশব্লকের নির্মাণ কাজ-জনস্বাস্থ্য অফিস বলছেন বাদ দেন চা খাওয়ার জন্য কিছু নেন। পার্বতীপুরে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকারের দাবীতে কর্মী সভা। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় নদী বাঁচাও আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নাগরিক সমাবেশ। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ইউএনও এক গৃহহীন ভারসাম্যহীন নারীর পাশে দাঁড়ালো। ৮ দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর নার্সিং এসোসিয়েশন দিনাজপুর জেলা শাখার স্মারকলিপি ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে ইউনিয়ন সিএসওর লাইভস্টক সংলাপ সভা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় প্রেম করে বিয়ে অতপর ভাড়া বাসায় স্ত্রীকে হত্যা করল স্বামী। দিনাজপুরে ৩ দিনব্যাপী উদ্যোক্তা মেলা ও পিঠা উৎসবের সমাপনী। দিনাজপুরের বিরলে শতাধিক নেতা-কর্মীর মামলা থেকে বাঁচতে ফ্যাসিস্ট আ,লীগ থেকে পদত্যাগ! অভিযোগ দিয়ে ও কাজ বন্ধ হচ্ছে না আদমদিঘীতে সরকারি জায়গা দখল করে করা হচ্ছে অবকাঠামো নির্মাণ! বগুড়ার কইপাড়ায় নববধূ শম্পা হত্যার অভিযোগ, যৌতুক দাবির জেরে স্বামী আটক