মিরু হাসান, স্টাফ রিপোর্টার || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌর এলাকায় উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে মাদকের বিস্তার। স্থানীয়দের অভিযোগ, হাত বাড়ালেই মিলছে নানা ধরনের মাদক। প্রকাশ্যেই চলছে মাদক বিক্রি ও সেবন। মরণ নেশায় জড়িয়ে পড়ছে কিশোর, তরুণ ও বয়স্করা।
এর প্রভাব পড়ছে সামাজিক নিরাপত্তায়; বাড়ছে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ। এতে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কে রয়েছেন সাধারণ মানুষ। তবে পুলিশের দাবি, মাদক নির্মূলে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরে প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন বড় মাদক ডিলার সক্রিয় রয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তারা বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে মাদকের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। তাদের নিয়ন্ত্রণে পৌর শহরের প্রায় ২০টি স্পটে নিয়মিত মাদক বিক্রি হচ্ছে।
যেসব এলাকায় প্রকাশ্যে চলছে মাদক বেচাকেনা, এর মধ্যে রয়েছে পৌর শহরের চা-বাগান, হরিজন কলোনী, নাটোর বাইপাসের শান্তিনগর, বাহারপট্টি, মালসন, তারাপুর, ইয়াড কলোনী, বসুন্ধরা বটতলী, রথবাড়ি, মালগুদাম, হাটখোলা, হঠাৎপাড়া, বশিপুর বাইপাস, পৌঁওতা স্কুল মাঠ ও একই এলাকা লোকো কলোন, তিয়রপাড়া মোড়, দৈনিক বাজার, স্টেশন এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন কৌশলে ট্রেন ও বাসযোগে সান্তাহারে প্রবেশ করছে মাদক। এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছেন বেশ কয়েকজন তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী। তাদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মাদক মামলাও রয়েছে। এর মধ্যে অনেকে গ্রেপ্তার হলেও জামিনে বেরিয়ে পুনরায় মাদকের কারবার শুরু করেন। মাঝে মধ্যে ছোট মাদক ব্যবসায়ীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়লেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান রাঘববোয়ালরা।
মাদকের টাকা জোগাড় করতে সেবনকারীরা জড়িয়ে পড়ছে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।স্থানীয় বাসিন্দা এনামুল হক, সিদ্দিকুর রহমান, জাকিরুল ইসলাম ও রাজু আহমেদ বলেন, হঠাৎ করে নানা ধরনের মাদক পৌর এলাকায় ছেয়ে গেছে। পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে যুব সমাজ ধ্বংস হয়ে যাবে।
আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, “মাদকের বিষয়ে ছাড় নেই। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ তৎপর রয়েছে। মাদক কারবারি যেই হোক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (আদমদীঘি সার্কেল) আসিফ হোসেন বলেন, মাদক নির্মূল ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।