admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর, ২০২১ ১:১১ অপরাহ্ণ
পাকিস্তানের পরমাণু কর্মসুচির জনক প্রখ্যাত পরমাণু বিজ্ঞানী ড. আবদুল কাদির খান (এ কিউ খান) মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ার পর আজ রোববার তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। মুসলিম বিশ্বের প্রথম পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য ডক্টর এ কিউ খানকে বীর হিসেবে শ্রদ্ধা করা হয়। জিও টিভি। খবরে বলা হচ্ছে, পাকিস্তানের এই পরমাণু বিজ্ঞানীর স্বাস্থ্যের অবনতি শুরু হয় গতকাল শনিবার রাতে।
শ্বাসকষ্ট অনুভব করলে আজ রোববার সকাল ৬টায় একটি অ্যাম্বুলেন্সে কেআরএল হাসপাতালে আনা হয়। এরপর তার ফুসফুসে রক্তক্ষরণ শুরু হলে স্বাস্থ্য আরও খারাপ হয়ে যায়। চিকিৎসকরা বিখ্যাত এই বিজ্ঞানীর জীবন বাঁচানোর জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেন, তবে বাঁচাতে পারেননি। সকাল ৭টা ৪ মিনিটে তিনি মারা যান। মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিকিৎসকরা বলেছেন, আবদুল কাদির খান ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মারা গেছেন।
হাসপাতাল প্রশাসন এই বিজ্ঞানীর মরদেহ তার ই-৭ বাসভবনে স্থানান্তর করেছে। তার জানাজার নামাজ ইসলামাবাদের ফয়সাল মসজিদে বিকেল সাাড়ে ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে পরিবারের পক্ষ থেকে। জিও নিউজের সাথে কথা বলতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রশিদ এই পরমাণু বিজ্ঞানীর প্রশংসা করেন এবং বলেন, এ কিউ খানের জীবন বাঁচাতে সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। পাকিস্তান যখন একটি সংবেদনশীল সময় পার করছে তখন তিনি দূরদর্শী নেতা ছিলেন। তিনি আসলেই একজন মহসিন-ই-পাকিস্তান।
১৯৯৮ সালের মে মাসে পাকিস্তান যখন পরমাণু পরীক্ষা চালিয়ে ভারতকে উপযুক্ত জবাব দিতে সক্ষম হয়, তখন এ কিউ খান রাতারাতি জাতীয় বীর হয়ে ওঠেন। শুধু পাকিস্তান নয়, পুরো ইসলামী বিশ্বে তিনি একজন বীর। ওই পারমাণবিক পরীক্ষার পর পাকিস্তান মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পরমাণু শক্তি এবং বিশ্বের মধ্যে পরমাণু অস্ত্রধারী সপ্তম দেশ হয়ে ওঠে।