admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৯ জানুয়ারি, ২০২০ ১২:১৯ অপরাহ্ণ
বোরোর বীজতলা নিয়ে কৃষক শঙ্কিত ঘন কুয়াশা আর শীতের কারণে দিনাজপুর সহ উত্তরের জেলা আশপাশের অনেক এলাকায় এবার ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীতের কারণে বোরো ধানের বীজতলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন এই অঞ্চলের কৃষকরা। শীতের কারণে ধানের বীজতলা সঠিকভাবে বেড়ে না ওঠায় ধান চাষে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় আছেন তারা। কুয়াশা আর শীতের কারণে ধানের বীজতলায় দেখা দিয়েছে হলুদ ও বিবর্ণ আকৃতি। কৃষকেরা মনে করছেন, এমন শীত আর কুয়াশা থাকলে এবার জমিতে অনেকেই ধান লাগাতে পারবে না। বীজতলা ভালো না হলেও ধান লাগানোও সম্ভব হবে না। চলতি বোরো মৌসুমে দিনাজপুরসহ আশপাশের অঞ্চলগুলোতে কুয়াশার আর তীব্র শীত চলমান থাকবে বলেও জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তর।
দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার চলতি বোরো মৌসুমে দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলায় মোট ১ লাখ ৭১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব জমিতে ধান রোপণের জন্য জেলায় ৯ হাজার ২৬৯ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের বীজতলা তৈরি করছেন কৃষকেরা। বর্তমান সময়ে বীজতলা পরিচর্যার কাজ চলমান। কিন্তু বোরো বীজতলা তৈরির কাজ শুরু থেকেই এই অঞ্চল দিয়ে অব্যাহত ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীতের কারণে বীজতলার সবুজ রং বদলে গিয়ে হলুদ ও বিবর্ণ হয়ে পড়েছে। যা বীজতলাকে সঠিকভাবে বৃদ্ধিতে বাধাগ্রস্ত করছে। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন এই এলাকার কৃষকেরা।

ঘন কুয়াশা আর শীতে বোরোর বীজতলা নিয়ে শঙ্কিত কৃষক
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার আলাদীপুর ইউনিয়নের মেলাবাড়ী গ্রামের কৃষক খতিব উদ্দিন বলেন, বোরো ধান রোপণ করতে উন্নত জাতের বীজ দিয়ে বীজতলা তৈরি করছি কিন্তু চারা গাছগুলো বেশ পুষ্ট হলেও ঘন কুয়াশা, বৃষ্টি আর তীব্র শীতে হলুদ এবং ফ্যাকাশে হয়ে যাচ্ছে। অনেক বীজতলা মৃতপ্রায় অবস্থায় রয়েছে। তবে কৃষি বিভাগ থেকে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিচ্ছে বীজতলা সংরক্ষণের জন্য।
খানসামা উপজেলার ছাতিয়ানগড় গ্রামের কৃষক ময়নুল ইসলাম জানান, অব্যাহত ঘন কুয়াশার কারণে বীজতলা নষ্ট হওয়ায় ধানের চারা সংকট হতে পারে। এতে খরচের পরিমাণও বেড়ে যাবে। তবুও ধানের দাম তো পাই না। জেলার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা যায়, প্রতিকূল ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে কৃষকেরা বীজতলা রক্ষায় কেউ কেউ পলিথিন ঢাকা দিয়েছে আবার কেউ কেউ বীজতলায় ছাই প্রয়োগ করছেন। এরপরও শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকেরা। তবে এই বৈরী আবহাওয়া ও তীব্র শীতে বীজতলা খুব একটা নষ্ট হবে না বলে দাবি করছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এটিএম হামিম আশরাফ বলেন, ‘বৈরী আবহাওয়ার কারণে বীজতলায় কিছুটা সমস্যা দেখা দিলেও বীজতলা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা কম। শীত বা কুয়াশা থেকে বীজতলা রক্ষার জন্য পলিথিন দিয়ে বীজতলা রাতের বেলা ঢেকে রাখাসহ সকালে বীজতলায় সেচ দিয়ে চারাগাছের পাতা ও ডগা থেকে কুয়াশার ঠান্ডা পানি ফেলে দেওয়ার পরামর্শ কৃষকদের দেওয়া হয়েছে। বীজতলা ফ্যাকাশে রং হলেও বীজতলার কোনো ক্ষতি হবে না। খানসামা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আফজাল হোসেন জানান, শীতের কারণে এমন হয়েছে এর জন্য প্রতি সন্ধ্যায় পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখতে ও সকালে পলিথিন সরিয়ে দিতে এবং বীজতলায় সেচ দেওয়ার পরামর্শও কৃষকদের দেওয়া হচ্ছে।
দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা শামীম আশরাফ বলেন, ‘ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের হাত থেকে বীজতলা রক্ষার্থে কৃষকদের জিপসাম ও ছাই প্রয়োগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা কাজ করছেন। আশা করি ক্ষতির পরিমাণ অনেকাংশে কমে যাবে।