তহমিনা বেগম,দিনাজপুর প্রতিনিধি || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:২০ অপরাহ্ণ
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ইয়াবা সেবন ও বিক্রির অভিযোগে ৩ মাদক সেবী ও কারবারির কারাদণ্ড এবং জরিমানা আদায় করা হয়েছে। স্থানীয় জনতা বৃহস্পতিবার (২২অক্টোবর) গভীর রাতে ওই তিন জনকে ইয়াবা ট্যাবলেট সহ হাতেনাতে আটক করে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। তাঁদের উপজেলা ভূমি কার্যালয়ে ভ্রাম্যমান আদালতে হাজির করা হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার ভূমি আব্দুল আল মামুন কাওসার শেখ প্রত্যেকের এক মাস করে কারাদণ্ড প্রদান ও ১০০ টাকা জরিমানা আদায় করেন।
কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলো: চান মিয়া(৫০), মোঃ সনেট (৩০)ও মোঃ মাসুদ (২৮)। এ ঘটনায় এলাকায় মাদক সেবন, তরুণদের মধ্যে মাদকের বিস্তার এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে মাদক সেবন প্রতিরোধে বিচ্ছিন্ন অভিযান কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে স্থানীয় মহলে।
স্থানীয় পর্যায়ে মাদকবিরোধী তৎপরতা জোরদারে দাবী দীর্ঘদিনের। মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ব্যক্তি,পরিবার ও সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে তরুণদের মাদকাসক্তি কর্মক্ষমতা, শিক্ষাজীবন ও পারিবারিক স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগজনক। এমন পরিস্থিতিতে মাদক সেবনের অভিযোগে আটক এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের ঘটনা অপরাধ প্রতিরোধে প্রশাসনিক তৎপরতার গুরুত্ব তুলে ধরে।
আটক ও দণ্ড, প্রতিরোধ কতটা কার্যকর? ঘটনাটির তাৎপর্য কেবল ৩ ব্যক্তিকে আটক কিংবা দণ্ড প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং এলাকায় মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে নিয়মিত নজরদারি, মাদকের উৎস শনাক্তকরণ এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু অভিযান নয়, দরকার ধারাবাহিক নজরদারি: মাদকবিরোধী কার্যক্রমের স্থায়ী ফল পেতে হলে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ মাদক প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এলাকায় মাদক সেবন বা কেনাবেচার নির্ভরযোগ্য অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া, ঝুঁকিপূর্ণ তরুণদের কাউন্সেলিংয়ের আওতায় আনা এবং মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সুযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি।
কেবল আটক ও দণ্ডের পরিসংখ্যান দিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানের সাফল্য বিচার করা যায় না,মাদকের সহজলভ্যতা কমছে কি না, নতুন করে আসক্তির ঝুঁকি কমছে কি না এবং অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ হচ্ছে কি না, সেদিকেও নজর দিতে হবে। প্রশাসনের কাছে জবাবদিহির প্রত্যাশা ঘোড়াঘাটের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে মাদকবিরোধী কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি গুরুত্ব পাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ, আইনগত পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যৎ প্রতিরোধমূলক পরিকল্পনা সম্পর্কে তথ্য জানানো।
একই সঙ্গে মাদক সেবনের অভিযোগে আটক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং আদালতের আদেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা জরুরি।
সব মিলিয়ে, ঘোড়াঘাটে ৩ ব্যক্তিকে আটক ও ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ড প্রদানের ঘটনাটি মাদকবিরোধী তৎপরতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এনেছে। তবে এই পদক্ষেপের প্রকৃত কার্যকারিতা নির্ভর করবে পরবর্তী নজরদারি, মাদকের উৎস শনাক্তকরণ,আইনানুগ ব্যবস্থা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে সাময়িক অভিযান নয়, প্রয়োজন ধারাবাহিক জবাবদিহি মূলক উদ্যোগ।