admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৮ মে, ২০২১ ৮:২২ অপরাহ্ণ
ডা. জাফরুল্লাহ প্রধান বিচারপতির সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দাবি। বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ৫৯ জন ছাত্রকে জামিন না দিয়ে আরো ৫টি মামলা দিয়ে আটকে রাখার অভিযোগ করা হয়েছে। ফলে কারাগার থেকে বেরুতে প্রতিটি মামলায় জামিন নিতে হচ্ছে তাদের। এ ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সুনিদিষ্ট নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নাগরিক সমাজ। এ ব্যাপারে বাধ্যতামূলক নির্দেশনা প্রয়োজন বলে আজ শনিবার উল্লেখ করা হয়।
রাজধানীর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে আয়োজিত এক নাগরিক সংবাদ সম্মেলনে সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া ৫৯ শিক্ষার্থীর জামিন দাবি করা হয়। আসন্ন ঈদের আগে তাদের চেয়ে প্রধান বিচারপ্রতির কাছে একটি চিঠি দিয়েছেন বিশিষ্ট নাগরিকরা। এ বিষয়ে বলেতে গিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, জামিন পাওয়া নাগরিকদের মানবিক ও আইনগত অধিকার। ছাত্র জীবন থেকেই এটি সহজ ব্যাপার হিসেবে দেখে আসছি।
বর্তমানে বিষয়টি কঠিন করে তোলা হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এর মূল কারণ হলো- বিচারকগণ বিবেকবান নয়, তারা সরকার ও পুলিশ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। আদালতে গেলে বলে, সরকার না বললে জামিন হবে না। বিষয়টি প্রধান বিচারপতিকে পাঠানো চিঠির বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বিচারের এই দীর্ঘসূত্রিতা হচ্ছে বড় অত্যাচার। এ ব্যাপারে জানতে পাওয়া হয়েছে।
প্রধান বিচারপতিকে তার সাংবিধানিক অধিকার ও ক্ষমতা প্রয়োগ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ঈদের আগে গ্রেপ্তারকৃত ছাত্রদের জামিনের ব্যবস্থা করুন। মনে রাখতে হবে- এই ছাত্ররাই ভাষা আন্দোলন করেছে, বাংলাদেশ সৃষ্টি করেছে। সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন প্রবীন আইনজীবী ডা. কামাল হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল ও গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়াদ সাকি।
ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে কামাল হোসেন বলেন, ছাত্ররা সময় উপযোগী বিভিন্ন বিষয়ে জনমত গঠন করে, আন্দোলন করে। গ্রেপ্তার হলে জামিন পাওয়া তাদের অধিকার, দয়া-মায়ার ব্যাপার না। অন্য বিশিষ্ট নাগরিকরা বলেছেন, কেউ গ্রেপ্তার বা আটক হলে মানুষ হিসেবে জামিন পাওয়াটা তার অধিকার। এটি কোনো দয়া বা মায়ার ব্যাপার নয়, নাগরিক অধিকারের প্রশ্ন। আদালত ও বিচারকরা সরকারের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছেন- এমন অভিযোগ করে বলা হয়, পাকিস্তান আমলেও গ্রেপ্তারকৃতরা নিম্ন আদালতে জামিন পেতেন। এখন উচ্চ আদালতে গেলেও জামিন মিলছে না।