admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১০ এপ্রিল, ২০২১ ১:৫৪ অপরাহ্ণ
চীনের হাতে মিয়ানমার সংকট সমাধানের চাবি। মিয়ানমারের জনগণ গত ফেব্রুয়ারি থেকেই সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছে। প্রতিদিনই জান্তার হাতে বিক্ষোভকারীরা মারা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে নিহতের সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়ে গেছে। আড়াই হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুততম সময়ে গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে মিয়ানমারের সেনাশাসকদের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে প্রতিনিয়ত। কিন্তু এসবে কোনো মাথাব্যথাই নেই তাদের। জান্তা সরকারের মতে, ‘মিয়ানমারে তো কোনো অভ্যুত্থানই হয়নি।
এমন প্রেক্ষপটে চলতি মাসের শেষ দিকে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে যাচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ান। এ সম্মেলন ঘিরে বিশেষজ্ঞরা সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, মিয়ানমারের সংকট সমাধানে তারা যেন চীনকে সহায়তা করে। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, এখন পর্যন্ত ১০ দেশের এ জোট জান্তার সরকারকে সংঘাতের পথ থেকেই নিবৃত্ত করতে পারেনি।
দি ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি মালয়েশিয়ার প্রভাষক আযমি হাসান মিয়ানমারের কড়া সমালোচনা করে এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর জান্তা সরকারকে থামাতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে এখন আসিয়ানের সামনে একটিই পথ, চীনের মতো শক্তিশালী কোনো রাষ্ট্রকে সহযোগিতা করে, তার মাধ্যমে জান্তা সরকারের ওপর চাপ তৈরি করা।
ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী তেওকু ফাইজাশাহ জানিয়েছেন, এপ্রিলের শেষ দিকে তারা বিশেষ সম্মেলন করার প্রত্যাশা করছেন। কিন্তু তিনিও মনে করেন, শুধু আসিয়ানের পক্ষে মিয়ানমারের ওপর চাপ তৈরি করা কঠিন, যা ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। সুতরাং আসিয়ানের সম্মেলনে চীনকে প্রয়োজন।
মিয়ানমার ১৯৫০ সালে চীনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে। সরকারি তথ্য বলছে, ২০১৯ সালের জুলাই পর্যন্ত মিয়ানমারে বৈদেশিক বিনিয়োগের ২৫ শতাংশের বেশি চীনের। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, দুদেশের মধ্যে ২০০৪ সালে যেখানে মাত্র ১১ বিলিয়ন ডলারের আমদানি-রপ্তানি হয়েছিল, ২০১৯ সালের ১১ মাসে তা বেড়ে ১৬৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। ইন্দোনেশিয়ার দি সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের গবেষক রিজাল সুকমা বলেন, ‘চীন একমাত্র দেশ যারা চলমান সংকট সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ জান্তা সরকারের সঙ্গে তাদের সুসম্পর্ক রয়েছে। তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় আসিয়ান চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী (তাতম্যাডো) যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করে না।
তিনি আরও বলেন, আসিয়ান ও তাতম্যাডোকে মানবিক বিপর্যয়কে স্বীকার করে, ত্রাণ সহায়তা শুরু করা উচিত। আসিয়ানকে সম্মেলন শুরুর আগেই মিয়ানমারে গিয়ে করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য খাদ্য, সুরক্ষাসামগ্রী ও স্বাস্থ্য সহায়তা দেওয়া উচিত। ইন্দোনেশিয়ান ইনস্টিটিউট অব সাইন্সের (এলআইপিআই) আসিয়ান গবেষক লিডা ক্রিস্টিয়ান স্নিগ্ধা বলেন, ‘সংকট সমাধানে মিয়ানমারের জান্তাকে আলোচনায় বসার জন্য সম্মেলনটি খুবই সময়োপযোগী। কারণ এখানে এসে ঠিক দেশটিতে কী ঘটছে, তা স্বাধীনভাবে বলতে পারবে জান্তা।
অবশ্য তিনি স্বীকার করেন, আসিয়ান সংকট সমাধানে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেও তাদের চীন অথবা রাশিয়ার সহায়তা প্রয়োজন হবে। কারণ মিয়ানমারের চলমান সংকট সমাধানের চাবি দেশ দুটির হাতে, স্পষ্ট করলে বললে চীনের হাতে।
ইতোমধ্যে জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলে রাশিয়া ও চীন তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। গত সপ্তাহে চীন মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ প্রস্তাবের বিরোধিতা করে। একই সঙ্গে দেশটি গণতান্ত্রিক পথে মিয়ানমারের ক্ষমতা হস্তান্তরে নিরাপত্তা কাউন্সিলের পদক্ষেপের প্রত্যাশার কথা জানায়।