admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৯ নভেম্বর, ২০২০ ৯:১৬ পূর্বাহ্ণ
আজারি সেনারা শুশা দখলমুক্ত করেছে, পুনরুদ্ধার ২৮ বছর পর হবে আজান। নাগর্নো-কারাবাখ ইস্যুতে সম্প্রতি প্রতিবেশী দুই দেশ আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দখল থেকে বেশ কিছু এলাকা পুনরুদ্ধার করেছে আজারি সেনারা। এর ধারাবাহিকতায় এবার গুরুত্বপূর্ণ শহর শুশা দখলমুক্ত করেছে তারা। এর ফলে দীর্ঘ ২৮ বছর পর শুশায় আজানের ধ্বনি শোনা যাবে বলে জানা গেছে।
তুর্কি গণমাধ্যম ডেইলি সাবাহ জানিয়েছে, আর্মেনিয়ার সেনাবাহিনী সমর্থিত ওই বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দখল থেকে রোববার কারাবাখের দ্বিতীয় এ শহরটি মুক্ত করার পরই এমন ঘোষণা দেন আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ। আজারি প্রেসিডেন্ট দেশটির রাজধানী বাকুতে শহীদদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে বলেন, কারাবাখ যে ঐতিহাসিকভাবে আজারবাইজানের অঞ্চল, সেটা আমরা বিশ্বকে প্রমাণ করে দেব। দীর্ঘ বছর পর সেখানে এখন আজানের ধ্বনি উচ্চারিত হবে।
ইলহাম আলিয়েভ বলেন, ধারাবাহিকভাবে আমরা জয়ের বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছি। আর্মেনিয়া সরকার যদি আমাদের দাবিতে সাড়া না দেয়, তাহলে আমরা এর শেষ দেখে ছাড়বো। এর আগেও তিনি যুদ্ধের শেষ দেখার কথা বলেন। তার ওই বক্তব্যের জবাবে আর্মেনিয়া জানায়, তারাও শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ করে যাবে।
প্রসঙ্গত, শুশা শহরটি ১৯৯২ সালের ৮ মে আর্মেনিয়ার বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দখলে চলে যায়। আপার কারাবাখ অঞ্চলের একটি স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ শহর এটি। এর পর থেকেই সেখানে আজান বন্ধ রয়েছে।আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নাগর্নো-কারাবাখ আজারবাইজানের ভূখণ্ড। ৯০-এর দশকে আর্মেনীয় সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় অঞ্চলটি দখল করে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। এর পর দুই দেশের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। তার পর থেকে যুদ্ধবিরতি চলছিল।
কিন্তু ২৭ সেপ্টেম্বর আজারবাইজানের সেনাদের ওপর হামলা চালায় বিচ্ছিন্নবাদীরা। এর পর থেকেই চলছে নতুন যুদ্ধ। ইতোমধ্যে উভয়পক্ষের সেনাসহ পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে বলে জানা যায়। যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার মধ্যস্থতায় দুই দফা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এক দফা যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় দুই দেশ। কিন্তু যুদ্ধবিরতি শুরুর মাত্র কয়েক মিনিট বা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফের পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। এর জন্য একে অপরকে অভিযুক্ত করে আসছে।
এদিকে, চলমান যুদ্ধে আজারবাইজানকে সমর্থন দেওয়া তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ান শনিবার বলেন, আজারবাইজান নাগর্নো-কারাবাখে আর্মেনিয়ার ৩০ বছরের দীর্ঘ দখলদারিত্বের অবসান ঘটানোর যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, তার কাছাকাছি চলে এসেছে তারা। তুর্কি প্রেসিডন্ট জানান, তিনি তার ভাই আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। এ সময় আলিয়েভ তাকে নাগর্নো-কারাবাখের ব্যাপারে ইতিবাচক অগ্রগতির খবর দিয়েছেন।