admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৮ এপ্রিল, ২০২৪ ৩:৪২ পূর্বাহ্ণ
মিরু হাসান,স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ার শাজাহানপুর মাঝিড়া ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধাঃ সম্পাদক নুরুজ্জামান নুরুর বিরুদ্ধে থানায় ঢুকে হামলা করে মাদক মামলার আসামিকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার রাতের এ ঘটনায় পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পরে আবারো থানায় হামলার জন্য মহাসড়কের পাশে অবস্থান নিলে নুরুসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন মাঝিড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. নুরুজ্জামান নুরু, তার সহযোগী রহিমাবাদ বি-ব্লকের সাদ্দাম হোসেন রবিন, রহিমাবাদ দক্ষিণপাড়ার রমজান আলী, খলিশাকান্দির সাইদুর রহমান খোকন, খলিশাকান্দি দক্ষিণপাড়ার বোরহান উদ্দিন, মাঝিড়া মধ্যপাড়ার সেরাজুল ইসলাম, রহিমাবাদ উত্তরপাড়ার আমিনুল ইসলাম, কাটাবাড়িয়া মধ্যপাড়ার মো. মিতুল এবং সাজাপুর নতুনপাড়ার ওহাবুজ্জামান নাইম।
রোববার বিকালে নিজ কার্যালয়ে প্রেসব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার (পদোন্নতিপ্রাপ্ত অতিরিক্ত ডিআইজি) সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। নুরুজ্জামান নুরু ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক, পুলিশের ওপর হামলা এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অপরাধে তিনটি মামলার প্রস্তুতি চলছে। তাদের আদালতে হাজির করে সাত দিন করে রিমান্ড চাওয়া হবে।
প্রেস ব্রিফিং ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শাজাহানপুর থানার এসআই আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে একদল ফোর্স শনিবার রাত ৯টার দিকে আড়িয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুটি বার্মিজ চাকু ও দেশি অস্ত্রসহ হত্যা এবং একাধিক মামলার আসামি মিঠুনকে গ্রেফতার করেন। এ খবরে মিঠুনের লোকজন ক্ষুব্ধ হন। রাত ১০টার দিকে ২০-২২টি মোটরসাইকেলে মাঝিড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান নুরুর নেতৃত্বে তার সন্ত্রাসী বাহিনীর ৪০-৫০ জন সদস্য গ্রেফতার মিঠুনকে ছিনিয়ে নিতে থানায় প্রবেশ করেন।
তারা থানার মধ্যে অবস্থান করে তাণ্ডব শুরু করেন। ওসি শহিদুল ইসলাম থানায় এলে নুরু ও তার বাহিনীর সদস্যরা থানার সিঁড়িতে বসে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। সরে যেতে বললে তারা উত্তেজিত হয়ে ওসিকে ধাক্কা দিয়ে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এতে কয়েকজন কর্মকর্তাসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন। পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি বেগতিক দেখে নুরু তার বাহিনীর সদস্যরা থানা থেকে পালিয়ে যান।
পরে আবারো মিঠুনকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় হামলার জন্য নুরু ও তার লোকজন মাঝিড়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির কাছে মহাসড়কে অবস্থান নেন। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সেখানে গেলে তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। একপর্যায়ে মহাসড়কে অবস্থানকারীদের ছত্রভঙ্গ করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে নুরুজ্জামান নুরুসহ মোট নয়জনকে গ্রেফতার এবং ফেলে যাওয়া ৩৬টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরো জানানো হয়, জিজ্ঞাসাবাদে নুরুজ্জামান নুরু জানান, তার সহযোগী হাসান নাজমুলের বাড়িতে আগ্নেয়াস্ত্র আছে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে নাজমুল পালিয়ে গেলে তার ঘর থেকে আট রাউন্ড গুলিভর্তি একটি বিদেশি পিস্তল, তিন বোতল ফেনসিডিল এবং এক কেজি গাঁজা পাওয়া যায়। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে নুরুজ্জামান নুরু জানান, তার বাড়িতে আরো একটি পিস্তল আছে। তার তথ্যমতে বাড়ির তিনতলার জলছাদে শপিং ব্যাগে সাত রাউন্ড গুলিভর্তি একটি বিদেশি পিস্তল পাওয়া যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মাঝিড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান নুরুর বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্রবাজি, জমি দখল, সরকারি কাজে বাধা, মাদকদ্রব্য আইনে অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে। কিছুদিন আগে নুরু সরকারি টেন্ডারের দরপত্র চুরির অভিযোগে চেয়ারম্যানের পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিলেন। তিনি বিএনপি, জামায়াত, শিবিরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলেন। তারা পুরো এলাকায় বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত।