admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৯ মে, ২০২৪ ৯:১১ অপরাহ্ণ
মিরু হাসান,স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ায় স্ত্রীর পরকীয়া নিয়ে এক বছর পূর্বর শত্রুতার জেরে ঘনিষ্ঠ বন্ধু একাধিক মামলার আসামি আলী হাসানকে (৩২) নিজ বাড়িতে ডেকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে আরেক বন্ধু সবুজ সওদাগর(৩৪)।অবশেষে সবুজ সওদাগরকে গ্রেপ্তার করেছে।শুক্রবার (১৭ মে) রাতের শহরতলীর হরিগাড়ি এলাকার মিলঘর থেকে তাকে আটক করেছে সদর থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত সবুজের বিরুদ্ধে নিজ দলে নেতা হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। নিহত আলী হাসান হত্যাকান্ডে বুধবার (১৫ মে) বগুড়া সদর থানায় সবুজ সওদাগরকে প্রধান করে চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বগুড়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) শরাফত ইসলাম।
এর আগে, গত মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়া সদরের শহরদীঘি এলাকায় জেলা বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সভাপতি সবুজ সওদাগরের বিরুদ্ধে তার বন্ধু আলী হাসানকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। নিহত আলী হাসান বগুড়া শহরের মালগ্রাম পশ্চিমপাড়া এলাকার জিন্নাহ মিঞার ছেলে। তিনি ট্রাকচালকের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন।আলী হাসান বগুড়ার ফাঁপোর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মমিনুল ইসলাম হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। অভিযুক্ত সবুজ সওদাগরও হত্যা মামলার আসামি। পরে এ ঘটনায় নিহতের বাবা আলী জিন্না সবুজ সওদাগরকে প্রধান করে চারজনের নামে হত্যা মামলা করেন। আসামিরা হলেন- সবুজের মা সিল্কী বেগম, সবুজের ভাই সম্রাট সওদাগর ও তার স্ত্রী লিপি বেগম।
মামলার বরাত দিয়ে শরাফত ইসলাম আরও জানান, নিহত আলী হাসান এবং সবুজ দুজনে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। এজন্য তারা একে অপরের বাড়িতে যাতায়াত করত। এক বছর আগে আলী হাসান যখন জেলহাজতে ছিল তখন সবুজের সঙ্গে হাসানের স্ত্রী মিতু বেগমের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে তারা বিয়ে করে। এর মধ্যে আলী হাসান জামিনে বের হলে ওই ঘটনা জানতে পারে এবং সবুজের সঙ্গে হাসানের কথা কাটাকাটি হয়। পরে তারা দুজন আপস মীমাংসা করে আবারও আগের মতো চলাফেরা করলেও ভেতরে সেই শত্রুতা থেকেই যায়।এমতাবস্থায় গত মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সবুজ তার শহরদীঘি বাড়িতে কৌশলে আলী হাসানকে ডেকে নেয়। সেই পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সবুজ তার বন্ধু আলী হাসানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। পরে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক হাসানকে মৃত ঘোষণা করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেফতারকৃত সবুজ সওদাগর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব স্বীকার করেছে। আলী হাসান হত্যা মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।