ডাঃ নুরল হক,বিরামপুর দিনাজপুর প্রতিনিধি || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৬ জুন, ২০২৬ ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বাংলাদেশের নাগরিক হত্যা নিয়ে দু’দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর মধ্যে বহুবার পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। নয়া দিল্লীতে অনেকবার বৈঠক হয়েছে মন্ত্রিপর্যায়ে। ২০০৪ সালে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের অপতৎপরতা বিরুদ্ধে প্রেস নোট পাঠিয়েছিল। কিন্তু সীমান্তে বাংলাদেশী হত্যা আজও বন্ধ হয়নি। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী (বিএসএফ) কর্তৃক গুলি করে হত্যা, নির্যাতন ও অপহরণ অব্যাহত রয়েছে।
১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ রোববার রাতে মায়ের সাথে ভারতের ত্রিপুরায় থাকা ভাইকে দেখতে যাওয়ার সময় মৌলভীবাজার কুলাউড়া সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে ১৪ বছরের কিশোরী স্বর্ণা দাস নিহত হয়। ১৫ বছর বয়সি ফেলানি খাতুনকে হত্যা করা হয় ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারী। ফেলানি কুড়িগ্রাম অনন্তপুর সীমান্ত দিয়ে তার পিতার সঙ্গে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরছিল। ফেলানি হত্যাকান্ডের পর তার লাশ ৫ ঘন্টা কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলে ছিল।
ফেলানি হত্যাকাণ্ড দেশ-বিদেশে আলোড়ন তুলেছিল কিন্তু আলোড়নের পরও শাস্তি হয়নি ফেলানি হত্যাকারী বিএসএফ সদস্যের। শুধু কিশোরী ফেলানী বা স্বর্ণা দাস নয় সীমান্ত রক্ষী বিএসএফ নিয়মিত বাংলাদেশের মানুষকে সীমান্তে গুলি করে বা নির্মম নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করছে।
বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফ ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড চালালেও বাংলাদেশের বিগত সরকারের দিক থেকে কোন প্রতিবাদ জানানো হতো না । হাসিনা সরকার একদিকে ভারতকে একতরফাভাবে ট্রানজিট, বন্দর, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ব্যবসা সহ নানা ধরনের সুযোগ সুবিধা দিয়ে গেছে অন্যদিকে ভারত বাংলাদেশকে আন্ত -সীমান্ত নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা দেয়নি এবং সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে বাংলাদেশকে কারাগারে পরিণত করে একের পর এক বাংলাদেশ নাগরিককে হত্যা করছে। বহুবার সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিলেও কথা রাখেনি ভারত।
অধিকার নামের মানবাধিকার সংস্থার সূত্রে ২০০৯ থেকে ২০২৪ জুন পর্যন্ত ৫৮২ জন নিহত ৭৬১ জন আহত হয়েছেন। আরেকটি হিসেবে তথ্য পাওয়া গেছে ,১৯৯৬ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ২৮ বছরে বিএসএফের গুলিতে ১ হাজার ৪১৩ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন ।২০০০ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১৫০০ সাধারণ ও বেসরকারি বাংলাদেশে হত্যার অভিযোগ আছে।
একটি মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ২০২৫ সালে বিএসএফের হাতে ৩৪ জন, ২০২৪ সালে ৩০ জন, ২০২৩ সালে ১৩ জন, ২০২২ সালে ২৩ জন, এবং ২০২১ সালে ১৮ জন বাংলাদেশী নিহত হয়েছে।
সম্প্রতি সময়ে পত্রিকান্তরে প্রকাশিত বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত জুড়ে এক নজিরবিহীন উদ্বেগ ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি করেছে । উত্তপ্ত, উদ্বেগ সৃষ্টি করা কি বন্ধু রাষ্ট্রের কাজ হতে পারে ? আমরা জানি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে নিয়ম-নীতি আলোকে যৌক্তিক আচরণ করায় সঙ্গত। সীমান্ত হত্যার পাশাপাশি এখন বি এস এফ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে জোর পূর্বক পুশ ইনের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর বিপরীতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) পুশ ইন এর বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে।
চলতি জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, লালমনিরহাট ও জামালপুর সীমান্তে কয়েক হাজার মানুষকে পুশইনের এমন বহু চেষ্টা বিজিবির কড়া সতর্কতায় ব্যার্থ হয়েছে।
যেই মুহূর্তে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে সীমান্ত বৈঠক চলছে ঠিক সেই মুহূর্তে সীমান্তে বিএসএফের পুষিনের হিড়িক ও বিজিবিকে লক্ষ্য করে গুলির হুমকি অত্যন্ত অসভনীয় ও দুঃখজনক। আ’লীগ সরকারের আমলে সীমান্তের ছাড় দেওয়া নীতি থেকে বেরিয়ে এসে বিজিবি এখন দেশের সীমানা রক্ষায় যথাযথ পেশাদারিত্ব দেখাচ্ছে যা প্রশংসিত।
আমরা বিজিবির এই অবস্থানকে যথাযথ মনে করি এবং সীমান্তে হত্যা ও অবৈধ পুশ ইন বন্ধ করতে হবে এর জন্য সীমান্তে বিজিবি’র মনোবল বাড়াতে হবে এবং তাঁদের হাতে যথেষ্ট পরিমাণ আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র তুলে দেওয়া প্রয়োজন।