admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট, ২০২৪ ৪:০২ পূর্বাহ্ণ
মুক্ত কলম নিউজ ডেক্স: বুধবার রাতে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।র্যাবের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মুনিম ফেরদৌস বৃহস্পতিবার সকালে বিবিসিকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, টিপু মুনশিকে ঢাকার গুলশান এক নম্বর থেকে রাত একটা ১০ মিনিটে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারের পর রাত দুইটার দিকে তাকে গুলশান থানায় সোপর্দ করা হয়।গতকাল রাতে টিপু মুনশি গুলশানের ১২৩ নম্বর সড়কে অবস্থিত এমজি গ্রুপের মালিকের বাড়িতে ছিলেন। খবর পেয়ে সেখান থেকেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাবের মুখপাত্র মি.ফেরদৌস বলেছেন, রংপুরে করা একটি মামলায় মি. মুনশিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার বিস্তারিত জুলাই মাসে রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান শ্রমিক মুসলিম উদ্দিন মিলন।
ওই ঘটনায় সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।গত ২২শে অগাস্ট টিপু মুনশি ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব স্থগিত করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।সেই সঙ্গে মি. মুনশির মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের লেনদেনও স্থগিত করা হয়।
চলতি মাসের পাঁচ তারিখে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে দলটির বিভিন্ন সারির নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে চলে যান, কেউ কেউ দেশ ছেড়েছেন বলেও খবর পাওয়া যায়।অন্য অনেক নেতাকর্মীর মতো সাবেক সংসদ সদস্য টিপু মুনশিও আত্মগোপনে ছিলেন। তিনি রংপুর-৪ আসনের (পীরগাছা-কাউনিয়া) সাবেক সংসদ সদস্য।
তিনি ২০১৮ সালে ওই আসন থেকে টানা তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হন।এরপর আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর তাকে বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। নেতা ও কর্মকর্তাদের যত মামলা এবং গ্রেফতার
পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে পাঁচই অগাস্ট থেকে ২৮শে অগাস্ট পর্যন্ত মোট ৮০টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৪টি হত্যা মামলা। বাকি মামলার মধ্যে গণহত্যা এবং অপহরণের মত মামলাও রয়েছে।পাঁচই অগাস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যাবার পরপরই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে দেশত্যাগের চেষ্টা করেন তার আয়ামীলীগ সরকারের মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য।
সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয়।একই দিনে তার কিছুক্ষণ পর আটক হন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটকে দেয়।তাদেরকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে বিমানবন্দর সূত্র নিশ্চিত করেছিল।
যদিও পরে আবার পলক, সৈকত ও সাবেক ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকুকে একই দিনে খিলক্ষেত থানার নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকা থেকে আত্মগোপনে থাকাবস্থায় গ্রেফতার দেখানো হয়।তবে, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ সম্পর্কে এখনও কিছু জানায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।সে সময় বিমানবন্দর থেকে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত এবং ঢাকা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ মাহমুদকেও আটকের খবর আসে গণমাধ্যমে।তবে, তাদের সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে কি না সে ব্যাপারে কোনও তথ্য মেলে নি।
এদিকে, সরকার পতনের পর আওয়ামীলীগ সভাপতি শেখ হাসিনাসহ দলের অনেক নেতার বিরুদ্ধে গণহত্যা, হত্যা, গুম ইত্যাদির মামলা করা হচ্ছে।তাদেরকে অনেককে টিপু মতো গ্রেফতার করা হয়েছে, অনেককে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।এসব ঘটনায় ঢাকা, চাঁদপুর, যশোর, সাতক্ষীরা, বরিশাল, সিরাজগঞ্জ, লালমনিরহাটসহ বেশ কিছু জেলায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অনেকে নিহত ও আহত হন।
এমন পরিস্থিতিতে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দলটির শীর্ষনেতাদের অনেকেই গা ঢাকা দেন।বিদেশে পালিয়ে যান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাসহ বহু নেতা।