admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৪ জুন, ২০২৩ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
রফিকুল ইসলাম জিলু, ব্যুরো প্রধান ঢাকা: সাভারের আশুলিয়ায় সন্দেহের জেরে স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় স্বামী ফারুক হোসেনকে রংপুরের পীরগাছা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৪।
শুক্রবার (২৩ জুন) বেলা ১১ টার দিকে র্যাব-৪ সিপিসি-২ এর কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিং এর মাধ্যমে এসব তথ্য জানান কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রাকিব মাহমুদ খান।
এরআগে, বৃহস্পতিবার (২২ জুন) গভীর রাতে হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফারুককে রংপুরের পীরগাছা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার মো: ফারুক হোসেন গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানার মুকুন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার স্ত্রী নিহত শিমু আক্তার একই এলাকার বাসিন্দা। তারা দুই সপ্তাহ আগে আশুলিয়ার গাজিচট নয়াপাড়া এলাকায় এসে বসবাস করে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব জানায়, গত ২০ জুন দুপুরে আশুলিয়ার গাজিরচট এলাকায় গলা কেটে হত্যা করে শিশু সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে যায় ফারুক। এ ঘটনায় নিহতের বড় বোন আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে র্যাব আসামিকে খোঁজতে ছায়া তদন্তে শুরু করে। মামলাটির তদন্তে গিয়ে দেখা যায়, ৬ বছর আগে ফারুকের সাথে পারিবারিকভাবে বিবাহ হয় শিমুর। এরপর তাদের একটি চারবছরের ছেলে সন্তানও রয়েছে৷ তারা দুইজন আশুলিয়ায় একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন। শিমুর বড় বোন লাবনীর বাসা আশুলিয়ার ওই এলাকাতে ছিলো।
র্যাব আরও জানায়, ১০-১৫ দিন আগে তাদের গ্রামের বাড়িতে শিমুর সঙ্গে স্বামীর ফারুকের বাকবিতন্ডা হয়। এসময় শিমুর গলা টিপে ধরে নির্যাতন করেন ফারুক৷ ঢাকায় আসার পর গত ১৯ জুন রাতে ভুক্তভোগী শিমুর বড় বোনের বাসায় রাতের খাবার শেষে তাদের নিজ বাসায় চয়ে যায় শিমু ও ফারুক৷ পরদিন সকালে শিমু ও তার বড় বোন কর্মস্থলে যাওয়া পথে শিমুর বাসার কক্ষের দরজার বন্ধ দেখতে পায়। পরে অনেক ডাকাডাকির পর দরজা না খুললে দরজাটি ধাক্কা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে লাবনী। ভেতরে গিয়ে তিনি দেখতে পায় শিমুর গলা কাটা রক্তাক্ত মরদেহটি ওড়না দিয়ে পেচানো অবস্থায় রয়েছে৷ পরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
র্যাব-৪ সিপিসি-২ এর কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রাকিব মাহমুদ খান বলেন, আমরা ঘটনার পর পর ছায়া তদন্ত শুরু করি। আসামি ফারুককে গতকাল রাতে রংপুরের পীরগাছা থেকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক জানায়, ভুক্তভোগী শিমুর সাথে ফারুকের পারিবারিক কলহের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে পিছন থেকে হাতের কাছে থাকা সবজি কাটার ছুড়ি দিয়ে শিমুর গলায় ছুরিকাঘাত করে প্রায় দ্বি-খন্ডিত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। ফারুকের ধারণা তার স্ত্রীর অন্য সম্পর্কে জড়িয়ে গিয়েছিলো। তাই তিনি তার স্ত্রীকে হত্যা করে৷ আসামিকে থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে৷