admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল, ২০২১ ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ
সরকারের রোষানলে পড়ে হেফাজতে ইসলাম কী কৌশলে এগুবে সংগঠনটি ? বাংলাদেশে সম্প্রতি হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘাত বা সহিংসতার প্রেক্ষাপটে সংগঠনটি চাপে পড়েছে। সংগঠনের একজন শীর্ষ নেতা মামুনুল হককে নিয়েও হেফাজত বিব্রত। চলছে নেতাকর্মীদের ধরপাকড়।অতীতে কওমী মাদ্রাসা ভিত্তিক এই সংগঠনটি আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে সুসম্পর্কের সুবাদে নানা ধরনের দাবি আদায় করেছে।কিন্তু পাল্টে গেছে পরিস্থিতি। এটা কি সরকারের জন্য সুযোগ তৈরি করছে?
সরকারের মুখোমুখি হেফাজতঃ হেফাজতে ইসলাম নিজেরা মনে করছে, গত কিছুদিনের ঘটনাপ্রবাহ তাদের বড় ধরনের সংকটে ফেলেছে। পরিস্থিতিটা হেফাজত এবং আওয়ামী লীগ সরকারকে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের সময় গত ২৬শে মার্চ থেকে তিন দিন ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়, চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে এবং ঢাকায় বায়তুল মোকাররম মসজিদ এলাকায় হেফাজতের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতা হয়েছে। হাটহাজারী এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের থানা আক্রমণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি অফিসে অগ্নিসংযোগসহ নাশকতার নানা ঘটনা ঘটেছে। প্রাণহানি হয়েছে কমপক্ষে ১৭জনের।
নরেন্দ্র মোদী বিরোধী বিক্ষোভে ব্যাপাক সহিংসতা হয় চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে। সেই সহিংসতার পর নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে একটি রিসোর্টে একজন নারীসহ হেফাজত নেতা মামুনুল হকের অবস্থান করার ঘটনা ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। যদিও তার পক্ষ নিয়ে হেফাজতে ইসলাম ঐ ঘটনায় তাকেই হেনস্তা করার অভিযোগ তুলেছে। এছাড়াও সহিংস ঘটনা গুলোর ক্ষেত্রে হেফাজতের অভিযোগ হচ্ছে, ঢাকায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত ছাত্রলীগ-যুবলীগের হামলার পরই বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ বা এমন অবস্থান তুলে ধরলেও হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব নুরুল ইসলাম জেহাদী বলেছেন, সহিংসতা এবং মামুনুল হকের ঘটনা সব মিলিয়ে পরিস্থিতিটা তাদের সংগঠনের ভাবমূর্তির জন্য সংকট তৈরি করেছে বলেই তারা মনে করেন। হেফাজততো অবশ্যই সংকটে পড়ছে হেফাজত মনে করতেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবেও তা মনে করতেছি। কিছু মানুষ বায়তুল মোকাররমে একটা অঘটন ঘটাইছে, অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছে মসজিদের মতো পবিত্র জায়গায়। এটাকে কেন্দ্র করেই হাটহাজারী, বি-বাড়িয়া এবং বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতা হইচে এবং আহত-নিহত হইচে। সব মিলিয়েতো হেফাজতের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে বলেন নুরুল ইসলাম জেহাদী। তিনি আরও বলেন, “আর মামুনুল হকের ঘটনা-যদিও সেটা হেফাতের কর্মসূচিতে আসে না, তারপরও যেহেতু তিনি হেফাজতের দায়িত্বশীল (ব্যক্তি)। এটাও বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করচে অবশ্যই।
সরকারের চাপে সংকটে হেফাজত ?
হেফাজত ইসলামের বিব্রতকর অবস্থায় বা সংকটে পড়ার যে কথা তিনি বলছেন, তাতে তাদের কী সমস্যা হচ্ছে? এই প্রশ্ন করা হলে হেফাজত নেতা নুরুল ইসলাম জেহাদী বলেছেন, অসুবিধা না? যদি আমাদেরকে সরকার প্রতিপক্ষ মনে করে, আমাদের কাজেতো বাধা আসতেছে। বাধা আসাটা একটা সংকট বা বিব্রবতকর পরিস্থিতি না? সরকার এবং হেফাজতে ইসলাম হাত মিলিয়ে চলছিল সাম্প্রতিক বছরগুলোতে। কিন্তু কিছুদিন ধরে তাদের সম্পর্কের দ্রুত অবনতি দৃশ্যমান হয়েছে। প্রায় এক দশকে এই প্রথম হেফাজতে ইসলাম বড় চাপের মুখে পড়েছে।
হেফাজতে ইসলাম মনে করছে, সরকার তাদেরকে প্রতিপক্ষ মনে করছে এবং সেটাই তাদের জন্য নানামুখী সংকট তৈরি করছে। হেফাজত নেতা নুরুল ইসলাম জেহাদী বলেছেন, তারা এমন অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছেন। সমস্যা হচ্ছে, এখানে কিছু সরকার এবং সরকার দলীয় আওয়ামী লীগ-যুবলীগ বা ছাত্রলীগ তারা হেফাজতকে প্রতিপক্ষ মনে করে ফেলতেছে। এটাও একটা বিব্রতকর পরিস্থিতি। আমাদের আমীরে হেফাজত ঘোষণা দিয়েছেন যে, আমরা সরকার বিরোধী নই। কাউকে ক্ষমতায় বসানো বা কাউকে ক্ষমতা থেকে নামানো-এটা আমাদের এজেণ্ডা নয়। আমাদের প্রতিপক্ষ মনে করাটা সরকার ঠিক করতেছে না। আমরাতো প্রতিপক্ষ বা প্রতিদ্বন্দ্বী না। কারণ প্রতিদ্বন্দ্বী হলে যারা রাজনীতি করে তারাই প্রতিদ্বন্দ্বী। আমাদেরতো রাজনীতির কোন এজেণ্ডা নাই। আমাদের এজেণ্ডা ইসলামী এজেণ্ডা। অতএব প্রতিপক্ষ মনে করাটা দুঃখজনক। এই জন্য কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে। এই ভুল বোঝাবুঝির নিরসন হওয়া দরকার যে কোন মূল্যে বলেন হেফাজত নেতা নুরুল ইসলাম জেহাদী।
হেফাজতে ইসলামের সাথে সরকারের এক ধরনের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল সেই ২০১৩ সালে সংগঠনটির ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি পর থেকে। তখন হেফাজতের নেতৃত্বে ছিলেন আহমদ শফী। তার মৃত্যুর পর গত বছর হেফাজতের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসে এবং তখন থেকে শুরু হয় দু’পক্ষের সম্পর্কের টানাপোড়েন।