ইব্রাহিম আলম সবুজ || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস দায়সারাভাবে পালিত হয়েছে। সোমবার ৮ সেপ্টেম্বর সরকারিভাবে ঢাকঢোল পিটিয়ে দিবসটি উপজেলা পর্যায়ে পালিত না হলেও দায়সারাভাবে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় ইকো সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন ইএসডিও নামের একটি এনজিওর ইসিই প্রকল্প নামমাত্র কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী নিয়ে মডেল মসজিদ হল রুমে সাবলীল পাঠ, চিত্রাঙ্কন ও উপস্থিত বক্তব্য এবং আলোচনা দিয়েই দিবসটি পালন করেন। অনাড়ম্বর ভাবে দিবসটি পালন করা হয়।
দিবসটি পালনে উপজেলার রাজনৈতিক, সামাজিক কিংবা গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতি ছিল না। ছিল না ঝরে পড়া শিক্ষার্থী কিংবা সাক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন ব্যক্তি বর্গ। মূলত: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালন করে। সে কারণে প্রতিবছর প্রতিটি প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়। কিন্তু এ বছর দিবসটি নিয়ে রাজারহাট উপজেলায় কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোন কর্মসূচী পালিত হয়নি। ১৯৯৩ সালের একটি সংজ্ঞায় বলা হয় ব্যক্তিকে সাক্ষর হওয়ার জন্য তিনটি শর্ত পূরণ করতে হয়।
শর্ত তিনটি হচ্ছে-১.ব্যক্তি নিজ ভাষায় সহজ ও ছোট বাক্য পড়তে পারবে, ২. ব্যক্তি নিজ ভাষায় সহজ ও ছোট বাক্য লিখতে পারবে ও ৩. ব্যক্তি দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ হিসাব-নিকাশ করতে পারবে। স্বাধীন বাংলাদেশে মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য জাতিকে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশের সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদে অবৈতনিক বাধ্যতামূলক শিক্ষার অধিকার সন্নিবেশিত হয়েছে।
সাক্ষরতা ও উন্নয়ন একই সূত্রে গাঁথা। নিরক্ষরতা উন্নয়নের অন্তরায়। টেকসই সমাজ গঠনের জন্য যে জ্ঞান ও দক্ষতা প্রয়োজন, তা সাক্ষরতার মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব। দেশকে উন্নত করতে হলে আগে নিজেদের উন্নত হতে হবে। এজন্য সাক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন হওয়ার বিকল্প নেই। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পড়ালেখার পাশাপাশি ডিজিটাল সাক্ষরতাও অর্জন করতে হবে। যথাযথ শিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহ একটি বড়ো বাঁধা। ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া যেনো কোনোভাবেই থেমে না যায়, সে ব্যাপারে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।
এছাড়াও শতভাগ সাক্ষরতা অর্জনের জন্য বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ করা এই দিবসটির তাৎপর্য্য। ওইদিন সকাল ১১টায় মডেল মসজিদ গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার আশপাশের নাম মাত্র কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিয়ে মডেল মসজিদ হল রুমে চিত্রাঙ্কন হচ্ছে। হল রুমের বাইরে চেয়ার-টেবিলের মঞ্চে এবং মঞ্চের বাইরে কয়েকজন শিক্ষক খোশগল্পে মগ্ন ছিলেন। কেউ কেউ ক্যামেরার সামনে ফটোসেশনে মর্ত্য ছিলেন। দুপুরের পর নিয়ম অনুযায়ী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের পৃষ্ট পোষকতায় আলোচনা সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল ইমরানকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে প্রধান অতিথির আসন অলংকিত করে সভার কাজ সমাপ্ত করেন। মূলত: ইএসডিও নামের এনজিওটি দীর্ঘদিন ধরে রাজারহাট উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করছেন। তারা প্রাথমিক শিক্ষকদের মান সম্মত শিক্ষা ব্যবস্থার প্রশিক্ষণ দিয়ে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের বিশেষ বই ও উপকরণ বিতরণ করেন।
যাতে করে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ায় এগিয়ে যাবেন। কিন্তু শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন তেমন না থাকায় এ উপজেলায় ইএসডিও এর শিক্ষা ব্যবস্থাও ভেস্তে যেতে বসেছে। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই অনুষ্ঠানের এক বিচারক বলেন, ইএসডিও যেসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করে শুধু সেই শিক্ষার্থীদের নিয়ে এসেছে। মূল্যায়ন নয়, দিবসটি পালন করা দরকার তাই করেছে সংস্থাটি।
সংস্থার ম্যানেজার মোস্তফা কামাল বলেন, ৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৯০জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহন করেছে। এর মধ্যে ৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মোট ৯০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ৩টি বিভাগে ৩০জন করে ভাগ করে প্রতিযোগীতায় অংশ গ্রহন করা হয়। প্রতিযোগীদের এবং প্রতিষ্ঠানের মাঝে পুরষ্কারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এছাড়া আমাদের ডাকার চেয়েও বেশী পার্টিসিপেট এসেছে। আমরা হিমসিম খেয়েছি।
রাজারহাট উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আনিছুর রহমান বলেন, এনজিও কোন অনুষ্ঠানে আমাদের ডাকা হয়নি। এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল ইমরান বলেন, এবারে সম্ভবত একটি এনজিও প্রোগ্রাম করছে। কয়েকদিন আগেওই এনজিও বলেছিল, আজ ৮সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা পযন্ত আমকে জানায়নি। হয়তো ফোন দিলে সেখানে যাবো।