admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৩ জানুয়ারি, ২০২২ ২:২৯ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিলে দাঙ্গার এক বছরেও আতঙ্ক কাটেনি। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকদের সহিংস হামলার এক বছর পূর্তি হতে যাচ্ছে আগামী ৬ জানুয়ারি। ওই ঘটনায় আমেরিকানরা এখনও আতঙ্ক অনুভব করে। তারা গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। একটি জরিপে বলা হচ্ছে, সরকারের বিরুদ্ধে সহিংসতা কখনও কখনও ন্যায়সঙ্গত হতে পারে। ওই জরিপে প্রায় এক তৃতীয়াংশ এমন মত দিয়েছেন। জরিপের বরাত দিয়ে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ট্রাম্পের সমর্থকদের নেতৃত্বে ক্যাপিটল হিলে ওই হামলা ছিল ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক সহিংসতার প্রতিচ্ছবি, যা আমেরিকান গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।
মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিবিএস নিউজ রোববার জরিপটি প্রকাশ করে। ইতোমধ্যে আমেরিকানদের গণতন্ত্রের ধারণায় ধস নামছে। ২০০২ সালে যা ছিল ৯০ শতাংশ, আর এখন সেটা দাঁড়িয়েছে ৫৪ শতাংশে। ওয়াশিংটন পোস্ট-ইউনিভার্সিটি অফ মেরিল্যান্ডের একটি সমীক্ষায় এ চিত্র দেখা গেছে৷ সিবিএস জরিপ দেখাচ্ছে, ২৮ শতাংশ উত্তরদাতা বিশ্বাস করেন, নির্বাচনের ফলাফল রক্ষার জন্য শক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে। যেখানে ৩৪ শতাংশ ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেছে, সরকারের বিরুদ্ধে একটি সহিংস পদক্ষেপ কখনও ন্যায়সঙ্গত হতে পারে। কয়েক দশকের মধ্যে এত বেশি সংখ্যক মানুষ এমন মত দিল।
প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্যাপিটল দাঙ্গার ১৪ দিন পর ক্ষমতা গ্রহণ করেছিলেন। তিনি গণতন্ত্রের সংকট কাটিয়ে উঠতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ট্রাম্প সমর্থকদের দুই-তৃতীয়াংশ এখনও বিশ্বাস করে, বাইডেন বৈধভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট নন। ট্রাম্প ক্যাপিটল হামলার কিছুক্ষণ আগে হাজার হাজার সমর্থককে সম্বোধন করেছিলেন, নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে এবং তাদের নরকের মতো লড়াই করা উচিত। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৬০ শতাংশ বলেছেন, ক্যাপিটলে আক্রমণের জন্য ট্রাম্প সবচেয়ে বেশি দায়ী।
অপরদিকে, ২৬ শতাংশ আমেরিকান চায় ট্রাম্প ২০২৪ সালে আবার প্রার্থী হোক। হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের একটি বাছাই কমিটি কয়েক মাস ধরে ক্যাপিটলে হামলাকারীদের নিয়ে কাজ করছে। ট্রাম্প ও তার সমর্থকদের পক্ষ থেকে সীমিত সহযোগিতা সত্ত্বেও প্যানেলটি তিন শ’র বেশি সাক্ষাৎকার নিয়েছে এবং হাজার হাজার নথি সংগ্রহ করেছে।
প্যানেলের চেয়ারম্যান প্রতিনিধি বেনি থম্পসন গতকাল রোববার এবিসিকে বলেছেন, আমরা এমন কিছু বিষয় উন্মোচন করেছি, যা প্রকৃত উদ্বেগের কারণ। লোকেরা আমাদের গণতন্ত্রের অখণ্ডতাকে ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। এটি নির্বাচনকে দুর্বল করার জন্য অনেক লোকের পক্ষ থেকে একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা বলে মনে হচ্ছে। এটি নির্বাহী শাখার লোক হতে পারে। এমনকি প্রতিরক্ষা বিভাগের লোক ও কিছু খুব ধনী ব্যক্তি এর সঙ্গে যুক্ত।
বেনি থম্পসন বলছেন, তিনি বিচার বিভাগের কাছে বেআইনি কোনো প্রমাণ উল্লেখ করতে দ্বিধা করবেন না। প্যানেলের মাত্র দুই রিপাবলিকানের একজন লিজ চেনি রোববার ক্যাপিটলে দাঙ্গাবাজদের হামলা করার জন্য ট্রাম্পের কঠোর নিন্দা করেছেন। কারণ হামলার সময় ট্রাম্প একটি ফোনকল দিতে পারতেন। কিন্তু তার এই অবহেলা সীমাহীন।