admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ
মুক্ত কলম আন্তর্জাতিক নিউজ ডেক্সঃ প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, মার্কিন অর্থ দপ্তরের সহকারী আন্ডার সেক্রেটারি ব্রেন্ট নেইম্যানের নেতৃত্বে মার্কিন একটি শক্তিশালী প্রতিনিধি দল শনিবার ঢাকা আসছে। এ দলে থাকছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ডোনাল্ড ল্যু। তবে ডোনাল্ড ল্যু সরাসরি ওয়াশিংটন থেকে ঢাকা আসছে না। তিনি ঢাকা আসবেন দিল্লি হয়ে। সেখানে ওয়াশিংটন দিল্লি প্রতিরক্ষা বিষয়ক ইন্টারসেশনাল সংলাপে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করবেন তিনি।
এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় ইস্যুর পাশাপাশি আলোচনায় গুরুত্ব পাবে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ। এতে ঢাকাতে বিরক্ত না করার জন্য ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে দিল্লিকে বার্তা দেওয়া হবে। এই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ঢাকা দিল্লি এবং ওয়াশিংটনের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায় ঢাকায় ৫ই অগাস্টে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের বর্তমান সংকট উত্তরণের চাহিদাগুলো জানতে চাইবে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে বিষয়গুলোতে সামনের দিকে কিভাবে সহযোগিতা করা যায় তা নিয়েও আলোচনা হবে।
আগামী ১৪ই সেপ্টেম্বর তাদের ঢাকায় আসার কথা রয়েছে। ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস এর নেতৃত্বে অন্তর্ভুক্তির সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর এটি হবে ওয়াশিংটন থেকে উচ্চ পর্যায়ের কোনো প্রতিনিধি দলের প্রথম বাংলাদেশ সফর। শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে বৃহস্পতিবার আশুলিয়ায় ২১৯টি পোশাক কারখানা বন্ধ ছিল। এসব কারখানায় শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি শেষে শনিবার থেকে উত্পাদন আবার শুরু করা না গেলে বাংলাদেশের পোশাক খাত গভীর সংকটে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার এক মাসেরও বেশি সময় পরেও শিল্প পুলিশ পুরোপুরি কাজ শুরু করতে পারেনি, যা নিরাপত্তার উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সেইসাথে শ্রমিকদের ‘অস্বাভাবিক দাবি’ মালিকদের হতাশ করেছে।
কেননা তারা এরিমধ্যে পশ্চিমা দেশগুলোয় পরবর্তী ছুটির মৌসুমের আগে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের চাপের মধ্যে রয়েছে।
শিল্প সংশ্লিষ্টরা এই অস্থিরতার পিছনে ষড়যন্ত্রকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন অন্যদিকে শ্রমিক নেতারা পরিস্থিতির জন্য পক্ষপাতমূলক রাজনীতির প্রভাব এবং ফ্যাব্রিক স্ক্র্যাপ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে দায়ী করেন।
নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা চেয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি হিসেবে ব্যবসায়ীদের নিয়ে একটি দল হিসেবে কাজ করতে চাই। আমরা অতীতের পচা বাংলাদেশ থেকে নতুন বাংলাদেশ সৃষ্টি করতে চাই। আসুন, আমরা একসঙ্গে কাজ করি। বৃহস্পতিবার ‘ন্যাশনাল বিজনেস ডায়ালগে’ ড. মুহাম্মদ ইউনূস এ আহ্বান জানান। ব্যবসায়ীদের সামাজিক ব্যবসায় বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনাদের নিজ গ্রাম, উপজেলা কিংবা নিজের শিল্পকারখানা যেখানে আছে, সেখানকার মানুষের জন্য বিশুদ্ধ খাওয়ার পানি, স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন সামাজিক ব্যবসায় বিনিয়োগ করতে পারেন। যখন সফল হবেন, তখন বিনিয়োগের টাকা তুলে নেবেন। টাকা বানানো আনন্দের বিষয়, কিন্তু মানুষকে আনন্দে রাখা আরও বেশি আনন্দের।’
অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে কিছু দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে অন্যতম দাবি শিল্পাঞ্চলে চলমান ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজ বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। চলমান অস্থিরতায় ইতিমধ্যে পাঁচ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে আইসিসিবির সভাপতি মাহবুবুর রহমানের মূল প্রবন্ধে তুলে ধরা হয়। ড. মুহাম্মদ ইউনূস মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক সুন্দর করার ওপর জোর দেন। বলেন, ‘এ বিষয়ে দল হিসেবে কাজ করার জন্য আপনারা মনস্থির করে ফেলেন। আপনারা যদি সাহস দেন, তাহলে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সনদে সই করে ফেলব।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় ঘাটতির কারণে সারা দেশে ব্যাপক লোডশেডিং চলছে। দিনে তিন-চারবার থেকে শুরু করে কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ যাচ্ছে। ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস অবস্থার মধ্যে এই ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবনে দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। এতে শিল্প খাতসহ অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘাটতির পেছনের বড় কারণ মোটা বকেয়ার জন্য জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে না পারা। বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্যতম প্রধান উপকরণ হচ্ছে জ্বালানি। খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে ব্যবহৃত জ্বালানির শতকরা ৬০ ভাগই আমদানি করতে হয়। এই জ্বালানির বড় অংশ হলো ডিজেল, পেট্রল, অকটেন ও ফার্নেস অয়েল। বাকিটা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)।
দেশে এখন জ্বালানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে কয়েক দিন ধরেই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন কমেছে।
ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকারের সময় ডলার-সংকটের কারণে বকেয়া পরিশোধ করা যায়নি। এখন বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো উৎপাদন সচল রাখতে প্রয়োজনীয় জ্বালানির নিশ্চয়তা এবং বকেয়া অর্থ চাইছে। কিন্তু সরকারের কাছে ডলারের ঘাটতি থাকায় তা মেটানো যাচ্ছে না। রাষ্ট্র সংস্কার প্রক্রিয়ার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ছয়টি সেক্টরের জন্য ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠন করছে সরকার। ছয় জন বিশিষ্ট নাগরিককে একেকটি কমিশনের প্রধানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
আগামী পহেলা অক্টোবর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কমিশনের কাজ শুরু করার কথা রয়েছে। প্রতিটি কমিশনে বিশেষজ্ঞ সদস্য যুক্ত করা হবে। তারা আলোচনা করে, জনসাধারণের মতামত নিয়ে একটি প্রস্তাব তৈরি করে সরকারের কাছে উপস্থাপন করবেন। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে তৈরি হবে সংস্কারের রূপরেখা। যে ছয় কমিশন গঠনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে আগামী তিন মাসের মধ্যেই তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হবে। এভাবে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুসংহত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এজন্য তারা একটি সুপারিশমালা তৈরি করবেন।
পুলিশ প্রশাসন সংস্কার কমিশনের বিষয়ে বলা হয় উন্নত বিশ্বে যেভাবে সরকারি প্রতিষ্ঠান চলে সেভাবে চলবে। আইন-কানুন পরিবর্তন হবে। পুলিশ প্রশাসনকে জনবান্ধব করে তোলা হবে। দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশন অবশ্য দুর্নীতি দমন কমিশনের সংস্কারের ওপরই বেশি জোর দিয়েছে। যেন দুদককে আমলাতন্ত্র থেকে বের করে আনা যায়। প্রতিবছর আকাশপথে উড়ে আসছে টনের পর টন অবৈধ সোনা। সঙ্গে আছে বৈধ পথে আসা আমদানির একটি বড় অংশও।
তবে বিপুল পরিমাণ এই সোনা থাকছে না বাংলাদেশে। উড়ে আসা এই সোনার চালান স্থলপথ হয়ে পাচার হয়ে যাচ্ছে ভারতসহ বিভিন্ন দেশে। ভৌগোলিকভাবে সুবিধাগত অবস্থানের কারণে দিনে দিনে বাংলাদেশ হয়ে ওঠে আন্তর্জাতিক সোনা চোরাচালান চক্রের জন্য খুবই পছন্দ ও নিরাপদ রুট। কিন্তু পাচারের এই জালে জড়িয়ে সরকার প্রতিবছর কয়েক হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। খোদ সরকারি সংস্থার প্রতিবেদনেও এ ধরনের তথ্য উঠে এসেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশে আকাশপথে আসা অবৈধ সোনার মধ্যে গত ১০ বছরে দুই হাজার ৬৪৯ কেজি সোনা আটক করেছেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। যার দাম প্রায় এক হাজার ৩৮৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।
এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ২৯৫টি ফৌজদারি মামলা করেছে শুল্ক গোয়েন্দা। এসব মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় ২৮৮ জনকে।
ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিমানের সিট ও বিমানযাত্রীর পায়ুপথ থেকে বেশির ভাগ সোনা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া গায়ের জামার সুতার সঙ্গে মিশিয়ে, বিভিন্ন ইলেকট্রিক ডিভাইসের ভেতরে, টয়লেট, লাগেজ প্রভৃতি থেকেও সোনা উদ্ধার করা হয়। যদিও বিশেজ্ঞরা বলছেন, বিমানবন্দরগুলোতে যে পরিমাণ সোনা ধরা পড়ে, তার থেকে কয়েক গুণ বেশি সোনা বেরিয়ে যায় নির্বিঘ্নে। এক ভুক্তভোগী তরুণের অভিযোগে বেরিয়ে এসেছে সোনালী ব্যাংক হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কাস্টম হাউজ শাখায় কর্মরত অসৎ কর্তাদের ভল্টের টাকায় অবৈধ বাণিজ্যের তথ্য।
ওই তরুণের ব্যবসায় পুঁজির সংকট দেখা দিলে তিনি ওই ব্যাংক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করেন। ব্যাংকের সুরক্ষিত ভল্ট থেকে অতিগোপনে বেআইনিভাবে তিনি ৫৫ লাখ টাকা বের করে তুলে দেন ওই তরুণের হাতে। শর্ত-এক মাস পর সুদ-আসল মিলিয়ে ৭০ লাখ টাকা ফেরত দিতে হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে টাকা ফেরত দিতে না পারায় তাকে নানাভাবে হয়রানির কবলে পড়তে হয় তাকে। তখনই তিনি এই অনিয়মের খবর ফাঁস করে দেন। অভিযোগ আছে-শুধু সোনালী ব্যাংকের হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কাস্টম হাউজ শাখায় নয়, অসৎ কর্মকর্তাদের ভয়ংকর সিন্ডিকেট আছে বিভিন্ন ব্যাংকের শাখায়।
তারা দীর্ঘদিন ধরেই বেআইনিভাবে ভল্টের টাকায় জমজমাট কারবার চালিয়ে আসছে। একাধিক ব্যাংকে এমন জালিয়াতি ও ভল্টের টাকা উধাও হওয়ার ঘটনার তদন্ত চলছে। একটি ঘটনায় মামলাও করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এরপরও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর মনিটরিংয়ের অভাবে অবৈধ এ কারবার বন্ধ করা যাচ্ছে না। একের পর এক সার কারখানা বন্ধ, ডলার সঙ্কটে সার আমদানির জন্য এলসি খুলতে না পারায় খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার বড় চ্যালেঞ্জে পড়তে যাচ্ছে।
কৃষিসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে সারের যে মজুদ রয়েছে তা আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। এই সার দিয়ে চলমান আমন, আউশসহ অন্যান্য ফসল ঘরে তুলতে পারবেন কৃষক। কিন্তু ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া দেশের সবচেয়ে বড় রবি মৌসুমে সারের সঙ্কট দেখা দিতে পারে। সে সময় সারের চাহিদা থাকে বেশি। সেই চাহিদা মেটাতে জরুরি ভিত্তিতে ইউরিয়া ও নন ইউরিয়া সার আমদানি করতে হবে। তবে ডলার সঙ্কটের কারণে ব্যাংকগুলো এলসি খুলতে পারছে না। এতে কয়েক মাস ধরে বন্ধ আছে সার আমদানি।
এ আশঙ্কার মধ্যেই গতকাল বৃহস্পতিবার হঠাৎই বন্ধ হয়ে যায় সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের হজরত শাহজালাল সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম। এমনিতেই চলমান বন্যায় এবার আউশ ও আমন মিলে প্রায় সাত-আট লাখ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন কম হবে। এ ঘাটতি মেটানোর লক্ষ্যে আগামী বোরো মৌসুমকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছিল এ অবস্থায়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সামনে যতগুলো সমস্যা রয়েছে তার মধ্যে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্ক্যান্ডিনেভীয় দেশ ফিনল্যান্ডে প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়েই শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রমটি পুরোপুরি মেধাভিত্তিক ও উচ্চ পর্যায়ের প্রশিক্ষণ নির্ভর।
বাংলাদেশেও ‘ফিনল্যান্ডের আদলে একই ধরনের শিক্ষাক্রম’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছিল বিগত আওয়ামী লীগ সরকার। যদিও এ শিক্ষাক্রমকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের পূর্বশর্তগুলো উপেক্ষিতই থেকে যায়। নতুন শিক্ষাক্রমের জন্য প্রণীত পাঠ্যপুস্তক নিয়েও ছিল মানহীনতার অভিযোগ। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণে প্রচুর অর্থ ব্যয় হলেও এর মান নিয়েও প্রশ্ন ছিল শুরু থেকেই।
অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষে এ শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন শুরু হয় গত বছর। সে সময় নতুন শিক্ষাক্রম ও এর জন্য প্রণীত পাঠ্যপুস্তক নিয়ে প্রশ্ন তুলতে থাকেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
অভিযোগ ওঠে, এ শিক্ষাক্রম তৈরি করতে গিয়ে দেশের বাস্তব প্রেক্ষাপটকে বিবেচনায় নেয়া হয়নি। আবার নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিকে বইয়ের কনটেন্টও ছিল নিম্নমানের। যদিও তৎকালীন সরকারের দাবি ছিল, নতুন এ শিক্ষাক্রম তৈরি হয়েছে ফিনল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, জাপানসহ বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর শিক্ষাব্যবস্থার আদলে। নতুন শিক্ষাক্রম তৈরি এবং এর জন্য পাঠ্যপুস্তক গ্রন্থনার সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থাগুলোর উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি শিক্ষাবিদরাও জড়িত ছিলেন। দেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয় ২০১৭ সালের দিকে। শুরু থেকেই এ গবেষণা ও সমীক্ষা কার্যক্রম দায়সারাভাবে পরিচালিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এ শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন না করে ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও এরই মধ্যে এর পেছনে ব্যয় হয়েছে প্রায় কয়েক হাজার কোটি টাকা।