admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৪ আগস্ট, ২০২১ ২:৫১ অপরাহ্ণ
চাকরি সে তো সোনার হরিণ। এ কথাটা সব যুগেই সমানভাবে বলা হয়ে আসছে। ভারতের মতো বিশাল জনসংখ্যার দেশের চাকরির বাজারের ক্ষেত্রে সে তো বলাই যায়। আর কথাটা যে মিথ্যে নয় তার প্রমাণ সম্প্রতি মিলেছে আবারো। পশ্চিমবঙ্গে ডোমের চাকরির জন্য আবেদন করেছেন স্নাতক পাস, স্নাতকোত্তর পাস এমনকি পাস করা ইঞ্জিনিয়াররাও। ভারতে মাঝে মধ্যেই আলোচনায় ওঠে আসে এমন সব সংবাদ।
তবে সম্প্রতি স্বর্ণালি সামন্ত নামের এক নারীর এ পদে আবেদন করার বিষয়টি জানাজানি হতেই আলোচনার ঝড় ওঠে। স্বর্ণালি সামন্ত ইতিহাসে প্রথম শ্রেণির স্নাতক। তিনিই কি না ডোম পদে চাকরিপ্রার্থী হিসাবে আবেদন করেছেন! অবশ্য এতে বিস্ময়ের কিছু দেখছেন না হাওড়া শিবপুরের বাসিন্দা স্বর্ণালি। তার কথায়, যাদের কোনো চাকরি নেই, তাদের যে পদের হোক না কেন একটা চাকরি তো দরকার।
এক্ষেত্রে কাজের কোনো ছোট বড় হয় না বলেই মন্তব্য করেন তিনি। এনআরএস হাসপাতালের পক্ষ থেকে গত বছর ডিসেম্বর মাসে ‘পরীক্ষাগার সহকারী’ পদে নিয়োগের ওই বিজ্ঞাপন দেয়া হয়েছিল। পদের নাম ল্যাব অ্যাটেনড্যান্ট বা পরীক্ষাগার সহকারী হলেও কাজটা আসলের ডোমেরই। ফেসবুকে এ বিজ্ঞাপন দেখে শিবপুরের স্বর্ণালি ওই পদে আবেদন করেন। সিভি, সমস্ত প্রশংসাপত্র এবং মার্কশিট নিয়োগকর্তার ঠিকানায় পাঠান। সেখান থেকে অ্যাডমিট কার্ডও পাঠানো হয় গত ফেব্রুয়ারিতে। গত ২১ মার্চ পরীক্ষা ছিল। তবে সেই পরীক্ষা পিছিয়ে যায় আগস্টে।
তিনি যে ডোমের বিষয়টি জানতেন না তা নয়, বরং তিনি বলেন, প্রথমে ‘পরীক্ষাগার সহকারী’ বিষয়টি না জানলেও, কিছুটা খোঁজখবর নিতেই তাঁর কাছে ওই পদ সম্পর্কে ধারণা স্পষ্ট হয়ে যায়। জেনেছিলাম, ওটা মূলত ডোমের কাজ। তারপরও ভাল বেতন পাওয়া যাবে, তা ভেবেই আবেদন করেছিলাম।
ডোম পদে কাজ পেলে কী করবেন এ প্রশ্নের জবাবে স্বর্ণালি সোজাসুজিই বলেন, চাকরি পেলে কেন করব না? কোনো খ্যাতির লোভে তো আর আবেদন করিনি। আমার বাড়ির লোকও এটা মেনে নেবে। বিবাহিত স্বর্ণালির স্বামী দেবব্রত কর্মকার একটি অ্যাপ-ক্যাব সংস্থায় গাড়ি চালান। আর তিনি ডালহৌসির একটি বেসরকারি সংস্থার রিসিপশনিস্ট হিসাবে চাকরি করেন। তাদের একটি মেয়েও রয়েছে। তবে জানা গেছেম এনআরএসর ওই আবেদনে শুধু স্বর্ণালিই নন, অনেক স্নাতকোত্তররাও আবেদন করেছে ওই পদে। আবেদন করেছেন ইঞ্জিনিয়াররাও।