admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৭ নভেম্বর, ২০২১ ৬:০০ অপরাহ্ণ
ভারতীয় বিএসএফ মানুষ মেরে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে দেয়। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ক্ষমতা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় প্রস্তাব পাস হয়েছে। পাঞ্জাবের পর দ্বিতীয় রাজ্য হিসেবে এ ধরনের প্রস্তাব পাস করল পশ্চিমবঙ্গ। প্রস্তাবের আলোচনায় তৃণমূলের এক বিধায়ক দাবি করেছেন, বিএসএফ মানুষ মেরে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে দেয়। এতদিন এমন অভিযোগ বাংলাদেশের মানুষ করে আসলেও ভারতের পক্ষ থেকে তা সব সময়ই অস্বীকার করা হয়েছে। বিএসএফের ক্ষমতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে চলছে সমালোচনা।

কেন্দ্রীয় শাসকদল বিজেপি এই সিদ্ধান্তের পক্ষে থাকলেও বিরোধিতা করছে আঞ্চলিক দলগুলো। এর প্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশনে বিএসএফের এখতিয়ার বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হয়। তাতে বিএসএফের বিরুদ্ধে সরব হন দিনহাটার সদ্য নির্বাচিত তৃণমূল বিধায়ক উদয়ন গুহ। সীমান্তরক্ষী এই বাহিনীর বিরুদ্ধে তিনি বিস্ফোরক অভিযোগ আনেন। তার দাবি, তল্লাশির সময় নারীদের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয় বিএসএফ।
তার এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাজ্য বিধানসভায় দেশের বাহিনী নিয়ে এমন আলোচনা করা যায় কি-না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় শাসকদলের নেতারা দাবি করছেন, অনুপ্রবেশকারীদের সাহায্য করতেই তৃণমূল নেতা এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। তৃণমূল বিধায়ক উদয়ন গুহের অভিযোগ এ পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি দাবি করেন, সীমান্তে বিএসএফ নৃশংস নির্যাতন চালায়। মানুষকে অসম্মান করে। কখনো ছেলের সামনে বাবাকে কান ধরে উঠবসও করায়। এমন মন্তব্যের প্রতিবাদ করেন বিজেপির বিধায়ক মিহির গোস্বামী। তৃণমূলে আরেক বিধায়ক তাপস রায় এ সময় দাবি করেন, বিএসএফ মানুষ মেরে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে দেয়।
বিজেপির পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়, তৃণমূলের এহেন অবস্থান কার স্বার্থে? সীমান্তে দিন দিন চোরাচালান বাড়ছে। গরুপাচার ও অন্যান্য সামগ্রী পাচার নিয়ন্ত্রণ করতে বিএসএফ পুলিশকে জানালেও তারা তৎপর হয় না। তাই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এখতিয়ার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিএসএফের ক্ষমতার আওতা বাড়িয়ে ১১ অক্টোবর একটি নোটিশ জারি করে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। এর ফলে পাঞ্জাব, পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের আন্তর্জাতিক সীমান্তে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত ভারতীয় অংশে তল্লাশি, বাজেয়াপ্ত আর গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা পেয়েছে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী। তবে এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছে তৃণমূল কংগ্রেস।
তাদের অভিযোগ, রাজ্য পুলিশের এলাকার মধ্যে গিয়ে কাজ করার ছাড়পত্র দেয়া হচ্ছে বিএসএফকে। এর ফলে রাজ্য পুলিশের এলাকার মধ্যে নাক গলাতে পারে বিএসএফ। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় মঙ্গলবার এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রস্তাব উত্থাপন করে তৃণমূল কংগ্রেস। তুমুল হট্টগোল ও আলোচনা শেষে প্রস্তাবটি ১১২ ভোটে পাস হয়, এর বিপক্ষে পড়ে ৬৩ ভোট।