হোম
আন্তর্জাতিক

ভারতকে রেল ট্রানজিট সুবিধা দিয়ে বাংলাদেশ কী পাবে?

admin || মুক্ত কলম সংবাদ

প্রকাশিত: ২৮ জুন, ২০২৪ ৪:৪৭ পূর্বাহ্ণ

ফাইল ছবি

মুক্ত কলম নিউজ ডেক্স: এটি বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের ভূ-খণ্ড ব্যবহার করে রেলযোগে দেশের এক অংশ থেকে আরেক অংশে সরাসরি নিজেদের পণ্য পরিবহনের সুবিধা পাবে ভারত।সমঝোতা স্মারক হওয়া মানে এই বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে এবং এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পরীক্ষা মূলকভাবে আগামী জুলাই মাসে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ভারতের রেল চালানো হতে পারে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলো থেকে পণ্য ও মালামাল আনার-নেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ বেগ পেতে হয় ভারতকে। মাঝখানে বাংলাদেশ থাকায় দেশের অন্য অংশের সাথে রাজ্যগুলোর পণ্য পরিবহন বেশ ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ।

সেই কারণেই বাংলাদেশের কাছে পণ্য ট্রানজিট সুবিধা চেয়ে আসছিলো ভারত। কয়েক বছর আগে দু’টি রুটে পণ্য পরিবহনের অনুমতি বা ট্রানজিট দেয় বাংলাদেশ।তবে ওই চুক্তির আওতায় ভারতের মালবাহী ট্রেন বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে সরাসরি যেতে পারে না, বরং বাংলাদেশ সেগুলো ভারতীয় সীমান্তের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে পৌঁছে দেয়।

কিন্তু নতুন সমঝোতা চুক্তির ফলে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে রেলযোগে ভারত এখন সরাসরি নিজেদের পণ্য ও মালামাল পরিবহনের সুবিধা পাবে।এই ট্রানজিট চালু হলে নিজ দেশের মধ্যে রেলপথে দূরত্ব অনেকখানি কমবে ভারতের,গত শনিবার সাংবাদিকদের বলেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিনয় মোহন কোয়াত্রা।

কিন্তু ভারতকে এই ট্রানজিট সুবিধা দিয়ে বাংলাদেশ কী পাবে? নতুন চুক্তি সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে
ভারতকে ট্রানজিট সুবিধা দেওয়া বাংলাদেশের জন্য একেবারে নতুন কোন বিষয় নয়। দেশটি আগেও প্রতিবেশী এই রাষ্ট্রকে ট্রানজিট সুবিধা দিয়েছে।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে প্রথমবারের মতো ‘অভ্যন্তরীণ নৌ-ট্রানজিট ও বাণিজ্য প্রটোকল স্বাক্ষর হয়েছিলো বলে জানা যায়।এরপর স্থলপথে ট্রানজিট সুবিধা পেতে ২০১০ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি চুক্তি করে ভারত।২০১৮ সালে দু’দেশের মধ্যে আরেকটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে সড়কপথে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোতে পণ্য পরিবহনেরও অনুমতি পায় ভারত।

বর্তমানে পাঁচটি রুটে বাংলাদেশ-ভারত ট্রেন চলাচল করে। এর মধ্যে তিনটি যাত্রীবাহী ইন্টারচেঞ্জ, বাকি দুটি পণ্যবাহী।তবে বর্তমান পদ্ধতিতে ট্রেন সীমান্তে আসার পর বাংলাদেশি ইঞ্জিনে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আসে।এরপর বাংলাদেশি চালক তা চালিয়ে আনেন। ফেরার সময়েও একই রকম পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।

নতুন যে চুক্তিটি হয়েছে, সেটির আওতায় ভারতের মালবাহী ট্রেন পশ্চিমবঙ্গের গেদে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গায় প্রবেশ করবে বলে জানা যাচ্ছে। এরপর দর্শনা রেল স্টেশন থেকে পাবনার ঈশ্বরদী, নাটোরের আব্দুলপুর, দিনাজপুরের পার্বতীপুর, নীলফামারীর চিলাহাটি হয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার হলদিবাড়ী স্টেশনে মালবাহী ট্রেন নিতে চায় ভারত।

সেখান থেকে রেল লাইনটি ভুটান সীমান্তবর্তী ডালগাঁও পর্যন্ত যাবে বলেও জানা যাচ্ছে।ভারত আগে থেকেই এটা চেয়েছিলো। এটা কীভাবে বাস্তবায়ন হবে তারও একটি পরিকল্পনা এরই মধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে,” দুই দেশের সরকার প্রধানের বৈঠক শেষে গত শনিবার সাংবাদিকদের বলেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিনয় মোহন কোয়াত্রা।এই ট্রানজিট চালু হলে সেটা উভয় দেশের মানুষের জীবন ও অর্থনীতিতে অবদান রাখবে বলেও জানান মি. কোয়াত্রা।

তবে এই ট্রানজিট চালু করতে নতুন করে রেলপথ নির্মাণ হবে নাকি বর্তমানে যেটি আছে সেটিকে সংস্কার করা হবে, সেটি পরিষ্কার করেননি ভারতের পররাষ্ট্র সচিব।বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও নতুন ট্রানজিট চুক্তি শর্ত, মাশুল, অর্থায়ন কিংবা অন্য কোনও বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

চুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত জানতে বিবিসি বাংলার পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারাও কথা বলতে রাজি হননি। বাংলাদেশের লাভ কতটা? ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের নতুন স্বাক্ষরিত ট্রানজিট চুক্তিটির বিষয়ে দু’দেশের সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করায় লাভ-ক্ষতির বিষয়টি এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট হওয়া যাচ্ছে না।তবে এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য এবং ট্রানজিটের অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশের লাভের বিষয়ে খুব একটা আশাবাদী হতে পারছেন না বিশ্লেষকরা।

এ যাবৎ যা অভিজ্ঞতা তাতে বলা যায় যে, নতুন এই চুক্তির বিনিময়ে বাংলাদেশ তেমন কিছু পাবে না, বলেন সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মো: তৌহিদ হোসেন।

২০১০ সালে ট্রানজিট চুক্তি সইয়ের পর বাংলাদেশ সরকারেরে পক্ষ থেকে বলা হয়েছিলো যে, এর মাধ্যমে দেশটি আর্থিকভাবে বেশ লাভবান হবে।মূলতঃ পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে টন প্রতি হিসেবে একটি ট্রানজিট ফি বা মাশুল দিয়ে থাকে ভারত।স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে দেখা যাচ্ছে, সব মিলিয়ে প্রতি টনে দেশটি মাশুল পায় মাত্র তিনশ টাকার মতো।

অথচ তখন বলা হয়েছিলো যে, বছরে প্রায় পাঁচশ মিলিয়ন ডলারের মতো লাভ হবে। কিন্তু পরে আদৌ কী কোনও মিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে? তেমন কিছু তো শোনা যায় না,বলেন মি. তৌহিদ।তবে অতীতে না পারলেও নতুন চুক্তির মাধ্যমে মাশুলের হার বাড়ানোর একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান।বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে পণ্য আনা-নেওয়ার সুযোগের ফলে আগের তুলনায় ভারতের পণ্য পরিবহন ব্যয় অনেক কমে আসবে। কাজেই তাদের যত টাকা সাশ্রয় হচ্ছে, সেটি বিবেচনায় নিয়ে একটি বেনিফিট শেয়ারিংয়ের ফর্মুলায় বাংলাদেশ যেতে পারে, বলেন মি. রহমান।

ট্রানজিট পাওয়ার পর দর্শনা থেকে চিলাহাটি পর্যন্ত যে রেল লাইনটি ভারত ব্যবহার করার সুযোগ পাবে, সেটির উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার খরচ তারা দিবে কী-না, সেটি এখনও পরিষ্কার নয়।তবে চুক্তিতে শর্ত রেখে যদি খরচটা ভারতকে দিয়ে বহন করানো যায়, তাহলে বাংলাদেশ লাভবান হবে। কারণ লাইনটি বাংলাদেশও ব্যবহার করতে পারবে বলেন মি. রহমান।নেপাল ও ভুটান যথাক্রমে ১৯৭৬ ও ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশের সাথে ট্রানজিট চুক্তি করেছিলো।

ফেসবুক মন্তব্য

মতামত জানান :

Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  

সর্বশেষ খবর

ঠাকুরগাঁওয়ে ২য় বিভাগ ফুটবল লীগ ফ্রিডম ক্রীড়া ও সাহিত্য সংসদ
রংপুর 17 hours আগে

বোচাগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত ক্রিকেট টুর্নামেন্ট এর ফাইনাল অনুষ্ঠিত। 
খেলাধুলা 19 hours আগে

নাগরিক ভাবনা: গর্ভধারিণী মায়ের শেষ বিদায়ের শেষ অশ্রু এবং শেষ
ঢাকা 1 day আগে

সাভার আনন্দপুর মতিনের বাড়িতে চলে পাইকারি ইয়াবা ব্যবসা।
অপরাধ 1 day আগে

আদমদীঘিতে বিএনপি দুই নেতার বিরুদ্ধে স্কুলের অর্থ আত্মসাৎ।
অপরাধ 2 days আগে

বীরগঞ্জে ইকো অর্গানাইজেশনের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত।
রংপুর 3 days আগে

সুনামগঞ্জ চারাগাঁও সীমান্তে ইয়াবাসহ তিনজন আটক, মাদক চক্রের মূল হোতা
অপরাধ 3 days আগে

আহসানগঞ্জ রেল স্টেশনের পাশে পড়ে ছিল কলেজ অধ্যক্ষের মরদেহ।
দুর্ঘটনা 3 days আগে

সুনামগঞ্জ যাদুকাটা নদীর বালু লুটঃ ইউপি সদস্যসহ ৬ জনের নামে
অপরাধ 4 days আগে

নাগরিক ভাবনা: সর্বোচ্চ আদালতের মান-মর্যাদা বনাম বিচার প্রার্থীর বাস্তবত।
নাগরিক ভাবনা 4 days আগে

পাঠকপ্রিয়

শিরোনাম :

কুড়িগ্রামে ঐতিহাসিক আসনে কঠিন চ্যালেঞ্জে জাপা,মাঠ গরম এনসিপি-বিএনপির। হাদীর ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় দিনাজপুর সীমান্ত ৪২ বিজিবির রেড অ্যালার্ট জারি। রোহিঙ্গা মেয়েরা পাচার ছাড়াও বিদেশীদের দ্বারা যৌন কাজে ব্যবহারের টার্গেট হয়ে উঠছে ঠাকুরগাঁওয়ে নানা কর্মসূচিতে হানাদার মুক্ত দিবস উদযাপিত। ঠাকুরগাঁও জেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ৪র্থ জেলা রোভার মুট-২০২৫। কুড়িগ্রামের রাজারহাটে প্রাণিসম্পদ সপ্তাহের প্রদর্শনী ও সমাপনী অনুষ্ঠিত। পার্বতীপুরে জাতীয় প্রাণি সম্পদ ও ডেইরি প্রকল্পের উদ্বোধন। রাণীশংকৈলে জাতীয় প্রাণীসম্পদ সপ্তাহ ও প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত পলাতক শেখ হাসিনার অগ্রণী ব্যাংকের লকার ভেঙে ৮৩২ ভরি স্বর্ণ জব্দ রাজশাহীতে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০ জন ৩ ডিসেম্বর রংপুরে বিভাগীয় মহাসমাবেশ সফল করতে দিনাজপুরে ৮ ইসলামী দলের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত। দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে সব বাহিনী প্রস্তুত: সিইসি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৬ হাজার কৃষক পাচ্ছে বিনামূল্যে গম বীজ ও সার। মাত্র চার মাসের শিশু সুমাইয়া বাঁচতে চায়! পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় হেফাজতে ইসলামের নতুন কমিটি গঠন। ভূমিকম্পে সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে এখনই শক্তিশালী ও সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে: সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান রাজধানীতে  আজ থেকে ঘরে বসেই মেট্রোরেলের কার্ড রিচার্জ করবেন? নীলফামারীতে পাটবীজ উৎপাদনকারী চাষীদের প্রশিক্ষণ। আর কোনো পরিস্থিতি নেই যে নির্বাচন ব্যাহত হবে-ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল  ৫-বছরেও শেষ হয়নি ওয়াশব্লকের নির্মাণ কাজ-জনস্বাস্থ্য অফিস বলছেন বাদ দেন চা খাওয়ার জন্য কিছু নেন। পার্বতীপুরে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকারের দাবীতে কর্মী সভা। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় নদী বাঁচাও আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নাগরিক সমাবেশ। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ইউএনও এক গৃহহীন ভারসাম্যহীন নারীর পাশে দাঁড়ালো। ৮ দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর নার্সিং এসোসিয়েশন দিনাজপুর জেলা শাখার স্মারকলিপি ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে ইউনিয়ন সিএসওর লাইভস্টক সংলাপ সভা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় প্রেম করে বিয়ে অতপর ভাড়া বাসায় স্ত্রীকে হত্যা করল স্বামী। দিনাজপুরে ৩ দিনব্যাপী উদ্যোক্তা মেলা ও পিঠা উৎসবের সমাপনী। দিনাজপুরের বিরলে শতাধিক নেতা-কর্মীর মামলা থেকে বাঁচতে ফ্যাসিস্ট আ,লীগ থেকে পদত্যাগ! অভিযোগ দিয়ে ও কাজ বন্ধ হচ্ছে না আদমদিঘীতে সরকারি জায়গা দখল করে করা হচ্ছে অবকাঠামো নির্মাণ! বগুড়ার কইপাড়ায় নববধূ শম্পা হত্যার অভিযোগ, যৌতুক দাবির জেরে স্বামী আটক