admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১০ নভেম্বর, ২০২১ ৯:২৪ পূর্বাহ্ণ
ব্রিটেন কার্বনশূন্য বিমান আনছে! কার্বন নিঃসরণের দিক বিবেচনায় অন্যান্য যেকোনো পরিবহন ব্যবস্থার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি কার্বন ছাড়ে বিমান। আকাশ যানটির এই কার্বন নিঃসরণ অনেকটা তার আকার ও ইঞ্জিনের কার্যকারিতার ওপর নির্ভর করে। এসব বিষয় মাথায় নিয়ে কার্বনশূন্য বিমান বাজারে আনছে ব্রিটেন। ইতোমধ্যে নতুন এই প্রযুক্তি উন্মুক্ত করা হয়েছে। এতে তেলের বদলে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হবে তরল অ্যামোনিয়া।
এ নিয়ে এখনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। ২০৩০ সালের মধ্যেই বিমানটি আকাশে ওড়ানো সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ অনেকটা কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে। দ্য গার্ডিয়ান বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে বলছে, বাণিজ্যিক বিমানের চেয়ে অনেক বেশি কার্বন নির্গত করে ব্যক্তিগত বিমানগুলো। আর তাই কার্বন নির্গমন ও পরিবেশ-আবহাওয়া দূষণ কমাতে আরও উন্নত বিমান প্রযুক্তি তৈরির চেষ্টা চলছে।
গত শুক্রবার গ্লাসগোতে চলমান কপ২৬ জলবায়ু সম্মেলনে বিমানের একেবারেই নতুন একটি প্রযুক্তি উন্মোচন করে ব্রিটিশ-আমেরিকান অ্যাভিয়েশন কোম্পানি জিরোঅ্যাভিয়া। এই প্রযুক্তিতে অর্থায়ন করছে বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইপি গ্রুপ। তাদের দাবি, এই বিমান হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় হাইড্রোজেন-চালিত বিমান। এই প্রযুক্তি কোনো ধরনের কার্বন নিঃসরণ করবে না।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, তারা হালকা ওজনের এমন একটি রিঅ্যাক্টর তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন, যা অ্যামোনিয়াকে ভেঙে হাইড্রোজনে রূপান্তর করবে। সেই হাইড্রোজেন পুড়িয়েই চলবে বিমান। তারা আরও বলছেন, নতুন এই প্রযুক্তি এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যাতে বর্তমান বিমানগুলোকেও নতুন প্রযুক্তিতে বদলে ফেলা সম্ভব হবে।ভবিষ্যৎ বিমান পরিবহনের ক্ষেত্রে হাইড্রোজেনকে বর্তমানে একমাত্র সম্ভাবনাময় পরিচ্ছন্ন জ্বালানি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে একটি সমস্যাও রয়েছে। সেটা হচ্ছে, হাইড্রোজেনকে গ্যাস বা ঠান্ডা তরলিকৃতভাবে জ্বালানি ট্যাংকে ধরে রাখা কঠিন। এই সমস্যা সমাধানে একেবারেই ভিন্ন ধরনের বিমান দরকার হতে পারে বলে মনে করছেন বিমান নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।