admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারি, ২০২৩ ৭:৫০ অপরাহ্ণ
কুঞ্জ পাল, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ পরিবারের হাল ধরতে ইলেক্ট্রনিক্সের ব্যবসা শুরু করেন। কিন্তু শুরু থেকে ব্যবসা ভালোই চলছিল পারভেজের। সব খরচ বাদ দিয়ে লাভ আসছিল সন্তোষ জনক তবে মহামারি করোনায় বন্ধ হয়ে যায় তার একমাত্র আয়ের উৎস। ব্যবসায় হতে থাকে লোকসান। পরিবারের চাহিদা মেটাতে অনবরত হিমশিম খেতে থাকেন তিনি। ব্যবসায় লোকসান হওয়ার পরও করোনা সময়ে বসে না থেকে পারভেজ জমি বছর চুক্তি নিয়ে করেন পেয়ারা বাগান। বছর যেতে না যেতেই ফলনে ভরে যায় তার বাগান। আর আশানুরূপ দাম পেয়ে বদলে যায় তার ভাগ্য।
এখন তিনি পেয়ারা বিক্রয় করে লাখপতি। ঠাকুরগাঁও জেলার পৌর শহরের ১২নং ওয়ার্ডের ছিট চিলারং গ্রামের আমিনুর রহমানের ছেলে পারভেজ খান। জেলার সদর উপজেলার বুড়িবাধ এলাকায় সাড়ে চার একর জমি দশ বছরের জন্য চুক্তি নিয়ে শুরু করেন বাগান। পেয়ারা, কূল, পেঁপে, আপেল, মাল্টা, ডালিম ও সবেদাসহ অনেক ফলের বাগান দিয়ে চমক সৃষ্টি করেছেন তিনি। ইতোমধ্যে কয়েক দফায় বাগান থেকে তার আয় হয়েছে লক্ষাধিক টাকা। সৃষ্টি হয়েছে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান। তাকে দেখে বাগান করার উদ্যোগ নিতে আগ্রহী হচ্ছেন অনেক বেকার যুবকরা।
বিষয়ে বাগানে কাজ করা শ্রমিক গুরুদাস বলেন মুই শুরু থেকে বাগানডাত কাজ করেছু। গাছ দেখা-শোনা করা, স্প্রে করা, ফল গাছ থেকে পারা সব কাজ করু। এইঠে থেকে যে টাকাটা পাও সেইটা দিয়া মুই সংসারের খরচ চালাও। খেত বাড়িত দিন হাজিরা চাহিতে এইঠে কষ্ট কম। মাঝে মধ্যে ফের পেয়ারা, বরইসহ ফলমূল খাওয়া যাচে।
বাগানে পেয়ারা কিনতে আসা ক্রেতা রিফাত আহমেদ বলেন, আমি পল্লী বিদ্যুৎ এলাকা থেকে বাগানে পেয়ারা নিতে এসেছি। নিজে গাছ থেকে পেরে নিতে পারব সেজন্য এখানে আসা। এখানে এসে খুব ভালো লাগলো। দেখে শুনে ফরমালিন মুক্ত পেয়ারা কিনতে পারলাম। সেই সঙ্গে বরই আর পেয়ারা তরতাজা খেতে পারলাম। মনটাও সবুজ বাগানে তৃপ্তি পেল।
তরুণ উদ্যোক্তা ও বাগানের মালিক পারভেজ খান বলেন, আমি মূলত ইলেকট্রনিক্সের ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। করোনার সময় ব্যবসা একেবারে শেষ হয়ে যায়। পরক্ষণে ভাবতে শুরু করলাম সবকিছু সমস্যা হলেও কৃষিখাত স্থবির হবে না। তখন থেকে বিভিন্ন জায়গার বাগানগুলো দেখার জন্য যেতাম। প্রথমে যদিও বিভিন্ন ফসল আবাদ করি। পরে পেয়ারা, বরইসহ আরও যে ফলগুলো রয়েছে সেগুলোর চারা রোপন করি। আমার আশা ছিল কিভাবে ব্যবসার মতো ফল বিক্রি করে বারো মাস আয় করা যায়। সে কারণে মূলত ফলের বাগানে আসা। তবে আল্লাহর অশেষ রহমতে ভালো ফলন পেয়েছি। সেই সঙ্গে বরই ও সাথী ফসলের আয় দিয়ে বাগানের সকল খরচ বহন করতে পেরেছি। সেই সাথে লক্ষাধিক টাকা আয়ও হয়েছে। পেয়ারায় ফলন বেশ ভালো এসেছে। যদি খুব কম দামও হয় তবুও ১৫-১৬ লাখ টাকা আয় করতে পারব ইনশাআল্লাহ। বাগান দেখাশোনা করাসহ আমার এখানে ৭ জন শ্রমিক অনবরত কাজ করে থাকেন। কখনো আবার সংখ্যাটা বাড়ে। আমার ব্যক্তিগত স্বপ্ন হলো বাগানটাকে আরও বড় করা। সেই সঙ্গে আরও অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।