admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৫ মে, ২০২২ ৮:৫৪ অপরাহ্ণ
মুক্ত কলম নিউজ ডেক্সঃ আজ ১১ জ্যৈষ্ঠ ২৫ মে বুধবার, বিশ্ব কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৩তম জন্মবার্ষিকী। ১৮৯৯ ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ই জ্যৈষ্ঠ, মঙ্গলবার, ২৪শে মে ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার
চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম। পিতামহ কাজী আমিনুল্লাহ। পিতা কাজী ফকির আহমদ। মাতামহ তোফায়েল আলী। মাতা
জাহেদা খাতুন। জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা কাজী সাহেবজান। কনিষ্ঠ ভ্রাতা কাজী আলী হোসেন। ভগ্নী উম্মে কুলসুম।
কাজী নজরুল ইসলামের সংক্ষিপ্ত জীবনীঃ
নজরুলের ডাক-নাম ছিল দুখু মিয়া।
১৯০৮ পিতা কাজী ফকির আহমদের মৃত্যু।
১৯০৯ গ্রামের মক্তব থেকে নিম্ন প্রাইমারি পাশ, মক্তবে শিক্ষকতা, মাজারের খাদেম, লেটো দলের সদস্য ও পালাগান ইত্যাদি
রচনা।
১৯১১ মাথ্রুন গ্রামে নবীনচন্দ্র ইনস্টিটিউটে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র।
১৯১২ স্কুল ত্যাগ, বাসুদেবের কবিদলের সঙ্গে সম্পর্ক, রেলওয়ে গার্ড সাহেবের খানসামা, আসানসোলে এম বখ্শের চা-রুটির
দোকানে চাকুরি, আসানসোলে পুলিশ সাব-ইন্সপেক্টর ময়মনসিংহের কাজী রফিজউল্লাহ ও তাঁর পত্নী শামসুন্নেসা
খানমের স্নেহ লাভ।
১৯১৪ কাজী রফিজউল্লাহ্র সহায়তায় ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালের কাজীর সিমলা, দরিরামপুর গমন এবং দরিরামপুর স্কুলের
সপ্তম শ্রেণির ছাত্র।
১৯১৫-১৭ রানিগঞ্জের সিয়ারসোল রাজ স্কুলে অষ্টম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত অধ্যয়ন, শৈলজানন্দের সঙ্গে বন্ধুত্ব। প্রিটেস্ট পরীক্ষার
আগে সেনাবাহিনীর ৪৯নং বাঙালি পল্টনে যোগদান।
১৯১৭-১৯ সৈনিক জীবন, প্রধানত, করাচিতে গন্জা বা আবিসিনিয়া লাইনে অতিবাহিত, ব্যাটালিয়ান কোয়ার্টার মাস্টার পদে
উন্নতি, সাহিত্যচর্চা। কলকাতার মাসিক সওগাতে ‘বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী’ গল্প এবং ত্রৈমাসিক বঙ্গীয়-মুসলমানসাহিত্য-পত্রিকায় ‘মুক্তি’ কবিতা প্রকাশ।
১৯২০ মার্চ মাসে সেনাবাহিনী থেকে প্রত্যাবর্তন, বঙ্গীয়-মুসলমান-সাহিত্য-সমিতির ৩২নং কলেজ স্ট্রিটস্থ দফ্তরে মুজফ্ফর
আহমদের সঙ্গে অবস্থান, কলকাতায় সাহিত্যিক ও সাংবাদিক জীবন শুরু, ‘মোসলেম ভারত’, ‘বঙ্গীয়-মুসলমান-সাহিত্য-
পত্রিকা’ প্রভৃতি পত্র-পত্রিকায় বিবিধ রচনা প্রকাশ। এবার জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী উদযাপনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বিদ্রোহীর শতবর্ষ। এ উপলক্ষে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ২৫ মে সকাল সাড়ে ৬টায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের নেতৃত্বে কবি নজরুল ইনস্টিটিউটসহ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ঢাকায় অবস্থিত বিভিন্ন দফতর-সংস্থা কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবে। এ বছর বিদ্রোহী কবির জন্মবার্ষিকীর মূল অনুষ্ঠান হবে নজরুল স্মৃতিবিজড়িত কুমিল্লায়। কুমিল্লার বীরচন্দ্র গণপাঠাগার ও নগর মিলনায়তন প্রাঙ্গণে (টাউন হল) ২৫ মে সকাল ১১টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানায়, প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন। অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সিমিন হোসেন (রিমি), কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. ক. ম. বাহাউদ্দিন বাহার ও কবি নাতনি খিলখিল কাজী উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব আবুল মনসুর। স্মারক বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও নজরুল গবেষক শান্তিরঞ্জন ভৌমিক।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৩তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হবে। এ উপলক্ষে নজরুল মেলা, নজরুল বিষয়ক আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করবে স্থানীয় প্রশাসন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকাসহ দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, রচনা ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলো যথাযথ কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করেছে ।
সাহিত্য চর্চাঃ প্রথম মহাযুদ্ধ শেষ হয়ে গেলে নজরুল ইসলাম চলে আসেন কলকাতায়। এখান থেকেই তিনি সাহিত্য চর্চার মাধ্যমে দেশের সেবা করার এক মহান ব্রত গ্রহণ করেন। শুরু হয় তার কবি জীবন । লিখতে থাকেন বিদ্রোহী, কামাল পাশা, আনন্দময়ীর আগমনে, রক্তাম্বরধারিণী মা-সহ অজস্র বিপ্লবাত্মক ও প্রেমের কবিতা। ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ অগ্নিবীণা। অতঃপর একে একে প্রকাশিত হয় দোলন চাঁপা, ছায়ানট, পূবের হাওয়া, ফণি-মনসা, সিন্ধু-হিন্দোল’, জিঞ্জির’, চক্রবাক, সন্ধ্যা, বুলবুল, ঝিঙেফুল, ভাঙার গান,বিষের বাঁশি’ ইত্যাদি কাব্যগ্রন্থ । লিখেন উপন্যাস- বাঁধন হারা’, ‘মৃত্যু ক্ষুধা’, কুহেলিকা’। গল্পগ্রন্থ- ব্যথার দান’, ‘রিক্তের বেদন’, ‘শিউলিমালা’। লিখেন নাটক, প্রায় তিন হাজার গান, অনুবাদ করেন
রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম’ প্রভৃতি। এছাড়া তিনি সম্পাদনা করেন, অর্ধসাপ্তাহিক ‘ধূমকেতু’, সপ্তাহিক ‘লাঙল’, দৈনিক নবযুগ’ প্রভৃতি পত্রিকা। সম্পৃক্ত হন রাজনীতিতে, গঠন করেন শ্রমিক কৃষক স্বরাজ পার্টি এবং নির্বাচনে ঢাকা বিভাগ থেকে আইনসভার সদস্য পদপ্রার্থী হন। পরাজিত হন বিপুল ভােটের ব্যবধানে, জামানতও হয় বাজেয়াপ্ত ।
অসুস্থতাঃ ১৯৪২ সালের ৭ জুন কবি কলকাতা বেতারের এক অনুষ্ঠান রেকর্ডিংকালে এক দুরারােগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং আর কোনােদিন সুস্থ হননি।
নাগরিকত্ব প্রদানঃ ১৯৭৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কবিকে রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। ১৯৭৬ সালে তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয় এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। সেই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কবিকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করেন এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তাদের সমর সঙ্গীত রচয়িতা কবিকে আর্মি ক্রেস্ট প্রদান করে। ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ সালে কবি ঢাকার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ৭৭ বছরের এই দীর্ঘ জীবনে প্রকৃতপক্ষে কবি কর্মক্ষম ছিলেন মাত্র ৪২ বছর । বাকি ৩৫ বছর তিনি জীবন্ত অবস্থায় কাটান। এই ৪২ বছরের মধ্যে তাঁর প্রকৃত পরিণত রচনা কাল মাত্র ২২ বছর। এ সময়ে তাঁর ৫১টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। অসুস্থ হওয়ার পরেও তার বেশ কয়েকটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। তাই সব মিলিয়ে কাজী নজরুল ইসলামের গ্রন্থ সংখ্যা ৬১টি।
উপসংহারঃ বিদ্রোহের কবি, যৌবনের কবি, প্রেমের কবি, মানবতার কবি কাজী নজরুল ইসলাম নিজেই বলেছেন যে, তিনি সকল দশের সকল কালের সকল মানুষের। তবু বাংলাদেশ সরকার কবি নজরুলকে বাংলাদেশের জাতীয় কবি ঘােষণা করে তাঁকে একান্ত আপনার করে গ্রহণ করেছেন এবং সম্মানিত করতে চেয়েছে হৃদয়ের অন্তস্তল থেকে। কবি, গীতিকার, সুরকার, নাট্যকার, গল্পকার ওঔপন্যাসিক এই অমর সাহিত্যস্রষ্টা চিরকাল বেচে থাকবেন বাংলাদেশের হৃদয়ে, বাঙালির হৃদয়ে। আমরা তাকে স্মরণ করি সশ্রদ্ধ
মুক্ত কলম পরিবারের পক্ষ থেকে জাতীয় কবিকে বিনম্র চিত্তে স্মরণ করবে অনন্তকাল।