admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১০ ডিসেম্বর, ২০২১ ৮:৫১ পূর্বাহ্ণ
বিএনপি নেতা আলালকে মোকাবেলার হুমকি আ. লীগের, অবাঞ্ছিত ঘোষণা ছাত্রলীগের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে বিএনপি নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন দাবি করে তাকে ক্ষমা চাইতে বলেছে আওয়ামী লীগ। অন্যথায় রাজনৈতিকভাবে তাকে মোকাবেলার হুমকি দিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। একই কারণে আলালকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ। ৯ ডিসেম্বর, এক বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের বলেন, রাজনৈতিক শিষ্টাচারে বিশ্বাসী আওয়ামী লীগ ঐতিহ্যগতভাবে বিনয়, সহমর্মিতা, পরমতসহিষ্ণুতা চর্চা করে।
দল বা সরকারে শিষ্টাচারবহির্ভূত কাজ করলে কাউকে ছাড় দেয়া হয় না, দায়িত্বহীন বক্তব্য ও অসদাচরণের জন্য একজন প্রতিমন্ত্রীকে ছাড় দেননি শেখ হাসিনা। এর বিপরীতে বিএনপির একজন নেতার ‘অশ্লীল বক্তব্যকে’ দলটির মহাসচিব নির্লজ্জ ভাবে সমর্থন দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে দেশবাসী বিস্মিত, ক্ষুব্ধ ও লজ্জিত। রাজনৈতিক শিষ্টাচার ভূলুণ্ঠিত করা বিএনপি প্রতিহিংসা, ষড়যন্ত্র ও পরশ্রীকাতরতা লালন করে। রাজনীতির সুষ্ঠু ধারা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধকে কলুষিত করে আসছে তারা।
সন্তান হারানোর শোকের সময় খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী সান্ত্বনা দিতে গেলে দরজা বন্ধ করে অসম্মানজনকভাবে ফিরিয়ে দিয়েছে। গণভবনে চায়ের দাওয়াত দিলে তিনি অশালীন মন্তব্য করেন। মঞ্চে-সংসদে দাঁড়িয়েও বিএনপি নেতা-নেত্রীদের দেয়া বক্তব্য বলার ও ছাপার অযোগ্য। আলালের অরাজনৈতিক কুরুচিপূর্ণ ভাষাকে রাজনীতিতে সজ্জন হিসেবে পরিচিত মির্জা ফখরুল সাহেবরা যৌক্তিকতার সার্টিফিকেট দেন কীভাবে? তাহলে কী তাদের সব অপপ্রচার ও বিষোদগারের মতো লোক দেখানো ভদ্রতাও এক ধরনের মুখোশ, প্রশ্ন রাখেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক কাদের।
ইতিহাসের চলিষ্ণু কলমের লেখা ইতিহাস তুলে ধরে কাউকে বিব্রত করতে চান না জানিয়ে তিনি আরো বলেন, পাকবাহিনীর জানজুয়ার মৃত্যুতে কেন শোকবার্তা পাঠালেন খালেদা জিয়া! তিনি তো মুক্তিযুদ্ধের আত্মসমর্পণ দলিলে সই করা জেনারেল অরোরার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেননি। সে সময়ের নানা ধরনের মুখরোচক কথা বিশ্বাস করতে চাই না, মনে করিয়ে দিতে চাই না। এত সহজে সবকিছু ভুলে যায় না মানুষ।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগে মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ। সেইসঙ্গে তাকে মহানগরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে দেখামাত্র প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা। বৃহস্পতিবার নগরীর নিউ মার্কেট মোড়ে এক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ থেকে এ ঘোষণা দেয়া হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি ইমরান আহাম্মেদ ইমু, সহ-সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত কচি, সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর, সাংগঠনিক সম্পাদক ইরফানুল আলম জিকু, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আশরাফ উদ্দিন টিটু, এম এ হালিম শিকদার মিতু প্রমুখ।