admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৪ মার্চ, ২০২১ ১০:৩৭ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে শিশু অপরাধীর সর্বোচ্চ সাজা ১০ বছরের বেশি নয়। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি কোনো শিশুকে সাজা দেয়ার ক্ষেত্রে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না এবং অপরাধ যতই গুরুতর হোক না কেনো, তাদের ১০ বছরের বেশি সাজা দেয়া যাবে না বলে রায় দিয়েছেন বৃহত্তর হাইকোর্ট বেঞ্চ। আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. সওকত হোসেন, বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি এএসএম আব্দুল মবিনের সমন্বয়ে গঠিত বৃহত্তর হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে ঘোষিত সিদ্ধান্তগুলো হলো
=) কোনো শিশুর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ করা জুবেনাইল বিচার পদ্ধতির ধারণার পরিপন্থী।
=) নিউরোসায়েন্স এবং সাইকোলজিক্যাল গবেষণার তথ্যমতে শিশুরা তাদের কর্মের পরিণতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ জ্ঞাত নয়।
=) শিশুরা তাদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না এবং ব্রেনের যে অংশ আবেগ ও যৌক্তিকতা নিয়ন্ত্রণ করে, শিশু অবস্থায় সে অংশ অপরিপক্ব থাকে।
=) শিশুরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পরিণতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখে না এবং অনেক ক্ষেত্রে তারা অপরাধের দোষ নিজের ঘাড়ে চাপিয়ে নেয়।
=) অনেক সময় কিছু সুবিধা পাওয়ার প্রলোভনে পড়ে শিশুরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হয়।
হাইকোর্ট বেঞ্চ তাদের রায়ে মানবাধিকার সংগঠন ব্লাস্টের একটি মামলার রায় পর্যালোচনাসহ বাংলাদেশ, ভারত, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ আদালতের নজিরগুলো উল্লেখ করেন এবং বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের লিখিত আর্টিকেল, বই, সায়েন্টিফিক রিসার্চের ফলাফল বিবেচনায় নিয়ে নিম্নোক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
=) শিশুর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির কোনো সাক্ষ্যগত দাম নেই।
=) স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শিশুকে সাজা দেয়ার ক্ষেত্রে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
=) অপরাধ যাই হোক না কেনো, একজন শিশুকে সর্বোচ্চ ১০ বছর সাজা প্রদান করা যাবে। এর বেশি নয়।
প্রসঙ্গত, শিশুর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ সংক্রান্ত বিষয়ে দেশের ফৌজদারি কার্যবিধিতে সুনির্দিষ্ট কোনো বিধান না থাকলেও শারীরিক ও মানসিক গঠন বিবেচনায় ১৯৭৪ সালের শিশু আইন অনুযায়ী বিচারকার্য পরিচালিত হয়ে আসছে। ২০১৩ সালে বয়স, জবানবন্দি গ্রহণ, দণ্ড ও শোধনাগারসহ বিশেষ বিশেষ বিধান রেখে নতুন শিশু আইন প্রণয়ন করে সরকার।