admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট, ২০২২ ১১:১১ পূর্বাহ্ণ
মুক্ত কলম তথ্য ও প্রযুক্তি নিউজ ডেক্সঃ বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের ব্যবহার শুরু কত সাল থেকে? নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশে যোগাযোগের বিশাল বড় বিপ্লব আনে মোবাইল ফোন প্রযুক্তি। তবে এই পরিবর্তনটা খুব সহজ ছিল না। আশির দশকের শেষে চালু ছিল পেজার। স্মার্টফোনের নোটিফিকেশনের এই যুগে অনেকেই হয়তো জানেন না পেজারের কথা। আজ থেকে প্রায় ৩০ বছর আগেও পেজার ছিল মানুষের যোগাযোগের ভালো এক মাধ্যম। ১৯৫০ থেকে ১৯৬০ সালের মধ্যে চালু হয় পেজার। ১৯৮০ সাল নাগাদ জনপ্রিয়তা পেয়ে যায় যন্ত্রটি। মুঠোফোনের প্রচলন শুরু হওয়ায় দ্রুতই বাজার থেকে ছিটকে পড়ে পেজার। এটি এক ধরনের বার্তা পাঠানোর ছোট যন্ত্র, যা কোমরের বেল্টে বেঁধে অনেকেই ঘুরতেন।
ওই সময়েই ওয়াকিটকি ধরনের একটি মোবাইল ফোনও চালু হয়েছিল বাংলাদেশে। তত কালীন বি এন পি সরকার এশিয়ার প্রথম মোবাইল অপারেটর হাচিন্সন তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছে বাংলাদেশে অনুমতি দেন সাবেক প্রধান মন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। কিন্তু লাইসেন্স পেলেও সে সময় ঠিক মোবাইল ফোন নিয়ে বাজারে আসতে পারেনি হাচিন্সন এবং তাদের বাংলাদেশি সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড (বিটিএল)।
১৯৮৯ সালে বেতার যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন তিন ধরনের লাইসেন্স দিয়েছিল তখনকার বাংলাদেশ সরকার। সেগুলো হলোÑ পেজার, মোবাইল ফোন এবং নদী এলাকায় বেতার যোগাযোগব্যবস্থার লাইসেন্স। সেই সময় (১৯৮৯-৯০ সাল) রাজধানী ঢাকার রাস্তায় দু-একজনের হাতে থাকা বিস্ময়কর যন্ত্র ছিল এই নতুন ধরনের ফোন, যা নিয়ে লোকে চলাফেরা করতে পারে।
বছর দুয়েকের মধ্যে ১৯৯১ সালে সে লাইসেন্সগুলো বাতিল করে তৎকালীন সরকার। তবে বিটিএল ও হাচিন্সন আদালতে গেলে আদালত তাদের পক্ষেই রায় দেন। পরে অবশ্য হাচিন্সন ও বিটিএল তাদের মোবাইল ফোনসেবা প্রদানকারী লাইসেন্স বিক্রি করে দেয়।
সে সময় বাংলাদেশে একটি মোবাইল ফোন কোম্পানি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশের প্রথম মোবাইল ফোন কোম্পানি সিটিসেল। ১৯৮৯ সালে বিটিআরসি থেকে মোবাইল ফোন প্রবর্তনার জন্য তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বরাদ্দ লাভ করে। ততকালীন বিএন পি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন তখন থেকে সিটিসেল বাংলাদেশের একমাত্র সিডিএমএর মোবাইল সেবা প্রদানকারী অপারেটর হিসেবে ২০১৬ পর্যন্ত সেবা দেয়। শুরুর দিকে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক শুধু ঢাকা শহর এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় ছিল। এর কিছুদিন পর মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত হয় বন্দরনগরী চট্টগ্রামে।
১৯৯৬ সালে তিনটি প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন, একটেল (বর্তমানে রবি) ও সেবা (বর্তমানে বাংলালিংক) জিএসএম প্রযুক্তির মোবাইল ফোন সেবা দেওয়ার জন্য লাইসেন্স পায়। দ্রুত এই সেবা ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশের গ্রামগঞ্জে। ১৯৮৯ সালে যে কয়েকশ ব্যবহারকারী নিয়ে মোবাইল ফোন চালু হয়েছিল বাংলাদেশে, দুই দশক পর ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে এসে তা দাঁড়িয়েছে ১৬ কোটির বেশিতে।
আবিষ্কারের পর থেকেই তারবিহীন টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার কথা গবেষক, বিজ্ঞানীরা ভাবতে শুরু করেন। তবে আমরা এত দীর্ঘ ইতিহাসের দিকে না যেয়ে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ থেকে শুরু করব। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় অর্থাৎ ১৯৪০ সালে মিলিটারিরা রেডিও টেলিফোন ব্যবহার করে। এই রেডিও টেলিফোন ব্যবস্থার আবিষ্কারক ছিলেন রেজিনালদ ফেসেন্দেন। তারপর ১৯৪৬ সালে প্রথম কল করা হয় একটি গাড়ি থেকে।
১৯৪৬ সালের ১৭ জুন মিসৌরির লাওস থেকে বেল টেলিফোন সার্ভিসের আওতায় প্রথম কল করা হয়। তারপর ১৯৪৬ সালের ২ অক্টোবর শিকাগো শহর থেকে পূর্বের পথ অনুসরণ করে এলিওন বেল টেলিফোন কোম্পানির মাধ্যমে আবার টেলিফোন কল করেন। এই টেলিফোনটি ছিল ভ্যাকুয়াম টিউবে তৈরি। এটার ওজন ছিল প্রায় ৩৬ কেজি অর্থাৎ ৮০ পাউন্ড। প্রথমে মেট্রো পলিট্রন এলাকার সকল ব্যবহারকারীর জন্য শুধুমাত্র একটা চ্যানেলই বরাদ্দ ছিল।

১৯৯০এর দশকের কিছু মোবাইল ফোন।
পরে ৩টি ব্যান্ডের আয়তায় ৩২টি চানেলের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হয়। এই ব্যবস্থায় যোগাযোগ চলছিল ১৯৮০ সাল পর্যন্ত। এর মধ্যে ১৯৭৩ সালে বিশ্ববিখ্যাত মটরলা কোম্পানির প্রধান জন মিচেল পোর্টেবল যোগাযোগ ব্যবস্থার দিকে নজর দেন যার মাধ্যমে মুঠোফোন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে গুরুত্বর্পূণ ভূমিকা পালন করে। মিচেল তারবিহীন যোগাযোগ ব্যবস্থার দিকে হাত বাড়ান, যা যেকোনো জায়গায় থেকে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়। মিচেলের এই কাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন মটোরোলার গবেষক ও নির্বাহী মার্টিন কুপার। এই মার্টিন কুপার প্রথম সেলুলার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সর্বপ্রথম মুঠোফোন আবিষ্কার করে বিজ্ঞানের ইতিহাসে নিজের নামটা স্বর্ণাঅক্ষরে লিপিবদ্ধ করেন। প্রথম মুঠোফোনটির ওজন ছিল ২.৫ পাউন্ড। এর দৈর্ঘ্য ছিল ৯ ইঞ্চি, প্রস্থ ১,৭৫ ইঞ্চি এবং উচ্চতা ৫ ইঞ্চি।
মোবাইল ফোন কে আবিষ্কার করে? বা মোবাইল ফোনের জনক কে?
মোবাইল ফোনটি আবিষ্কার করেছিলেন – মার্টিন কুপার ১৯৭৩ সালে, যিনি ছিলেন মটোরোলা কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও। আমেরিকান বিজ্ঞানী মার্টিন কুপার তার সহকর্মী জন এফ মিশেলের সাথে যৌথভাবে মোবাইল ফোন বা সেলুলার ফোন আবিষ্কার করেন।
আসুন এখন আমরা মোবাইল ফোন এর ইতিহাস নিয়ে কিছুটা তথ্য জানিঃ
১৯২৬: Deutsche Reichsbahn (German National Railway) এর প্রথম শ্রেণীর যাত্রীদের প্রথম সফল মোবাইল টেলিফোনি পরিষেবা দেওয়া হয়েছিল।
১৯৪৬: Chicago নামের জায়গা থেকে car radiotelephone এর দ্বারা সর্ব প্রথম call করা হয়েছিল।
১৯৫৬: Sweden নামের জায়গাতে ব্যক্তিগত যানবাহন এর জন্য প্রথম স্বয়ংক্রিয় মোবাইল ফোন সিস্টেম (first automated mobile phone system) নিয়ে আসা হলো। এই device আলাদা করে গাড়িতে install করতে হতো। ১৯৬৯: The Nordic Mobile Telephone (NMT) Group প্রতিষ্ঠিত করা হলো। একটি মোবাইল ফোন সিস্টেম বিকশিত করা ছিল এর উদ্দেশ্য।
১৯৭৩: Dr Martin Cooper যিনি ছিলেন Motorola communications এর general manager, তিনি প্রথম পাবলিক মোবাইল ফোন কল করেছিল। যেই ডিভাইস এর মাধ্যমে তিনি কল করেছিলেন সেটার ওজন ছিল 1.1Kg.
১৯৮৭: GSM standard এর Technical specifications গুলো approved করা হলো।
১৯৯২: UK তে বিশ্বের প্রথম SMS message পাঠানো হয়। Neil Papworth নামের ২২ বছরের একজন telecom developer ছিলেন যাকে Vodafone এর জন্য একটি messaging service বিকশিত করতে বলা হয়েছিল। Text message টি ছিল “Merry Christmas” এবং পাঠানো হয়েছিল Richard Jarvis নামের ব্যক্তিকে যিনি Vodafone এর একজন director ছিলেন।
১৯৯৬/৯৭: UK তে এই সময় পর্যন্ত প্রায় 16% পরিবার নিজেদের কাছে ফোন রেখেছিলেন এবং ফোন ব্যবহার করতেন। প্রায় এক দশক পর এই সংখ্যা 80% হয়ে দাঁড়ালো।
১৯৯৮: মোবাইল ফোনে বিক্রি হওয়া প্রথম ডাউনলোডযোগ্য কনটেন্টটি ছিল ফিনল্যান্ডের রেডিওলিনজা দ্বারা চালু করা রিংটোন।
১৯৯৯: এই সময় জাপানের শিগেটাকা কুরিতা আবিষ্কার করেছিলেন ইমোজিস, আমরা সময় বা বছর হিসেবে মোবাইল ফোন এর ইতিহাস এর বিষয়ে জেনেনিতে পেরেছি।
বিশ্বের সেরা দশটি স্মার্টফোন কোম্পানিঃ
১। অ্যাপেলঃ সম্প্রতি গোটা বিশ্বে অ্যাপেল আইফোনের জনপ্রিয়তা ক্মতে শুরু করেছে। তাই স্মার্টফোন বাজারে তিন নম্বরে নেমে এসেছে ক্যালিফোর্নিয়ার কোম্পানিটি। এই মুহুর্তে বিশ্বব্যাপী বিক্রি হওয়া মোট স্মার্টফোনের ১০.৩ শতাংশ অ্যাপেল আইফোন।
২। হুয়াওয়েইঃ মোট স্মার্টফোন বিক্রির নিরিখে বিশ্বে দুই নম্বরে রয়েছে চিনের স্মার্টফোন ব্র্যান্ড হুয়াওয়েই। বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন বাজারের ১৫.৮ শতাংশ দখল করে রয়েছে বিতর্কিত চিনা কোম্পানিটি।
৩। স্যামসাংঃ গোটা বিশ্বের স্মার্টফোন বাজারে এক নম্বর স্থানে রয়েছে স্যামসাং। বিশ্বের স্মার্টফোন বাজারের ২১.৩ শতাংশ দখল করে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানিটি।
৪। শাওমিঃ এক নম্বরে থাকলেও বিশ্বের স্মার্টফোন বাজারে চার নম্বরে রয়েছে শাওমি। বিশ্বের স্মার্টফোন বাজারের ৯ শতাংশ সখল করে রয়েছে বেজিং এর কোম্পানিটি। সম্প্রতি গোটা বিশ্বে অ্যাপেল আইফোনের জনপ্রিয়তা ক্মতে শুরু করেছে। তাই স্মার্টফোন বাজারে তিন নম্বরে নেমে এসেছে ক্যালিফোর্নিয়ার কোম্পানিটি। এই মুহুর্তে বিশ্বব্যাপী বিক্রি হওয়া মোট স্মার্টফোনের ১০.৩ শতাংশ অ্যাপেল আইফোন।
৫। ওপ্পোঃ পাঁচ নম্বরে রয়েছে ওপ্পো। কোম্পানির বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন বাজারে শেয়ার ৮.১ শতাংশ।
৬। ভিভো বিশ্ব বাজারের ৭.৫ শতাংশ দখল করে বিশ্বের ছয় নম্বর স্মার্টফোন ব্র্যান্ড ভিভো।
৭। লিনোভো (সাথে মোটোরোলা) ৬ শতাংশ মার্কেট শেয়ার সহ বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম স্মার্টফোন ব্র্যান্ড লিনোভো (সাথে মোটোরোলা)।
৮। এলজি ২.২ শতাংশ মার্কেট শেয়ার সহ বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম স্মার্টফোন ব্র্যান্ড এলজি। ৯। এইচএমডি এই মুহুর্তে নয় নম্বরে রয়েছে নোকিয়ার প্যারেন্ট কোম্পানি এইচএমডি। ১০। রিয়েলমি গত বছর লঞ্চ হলেও ভারত ও চিনের স্মার্টফোন বাজারে দুর্দান্ত সাফল্যের ফলে ইতিমধ্যেই প্রথম দশে উঠে এসেছে চিনের স্মার্টফোন ব্র্যান্ড রিয়েলমি।
৯। এইচএমডি এই মুহুর্তে নয় নম্বরে রয়েছে নোকিয়ার প্যারেন্ট কোম্পানি এইচএমডি।
১০। রিয়েলমি গত বছর লঞ্চ হলেও ভারত ও চিনের স্মার্টফোন বাজারে দুর্দান্ত সাফল্যের ফলে ইতিমধ্যেই প্রথম দশে উঠে এসেছে চিনের স্মার্টফোন ব্র্যান্ড রিয়েলমি।