admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৪ জুলাই, ২০২০ ১০:২৪ অপরাহ্ণ
চিকিৎসা নিয়ে নানা অভিযোগের মুখে হাসপাতাল মনিটরিং কতটা প্রভাব ফেলবে। চিকিৎসার বেহালদশায় মানুষ হাসপাতাল বিমূখ হয়েছে। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস চিকিৎসার ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা অভিযোগ ওঠার পর এখন সারাদেশে হাসপাতালগুলো মনিটরিং জোরদার করার কথা বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ৪৫ জন কর্মকর্তার সমন্বয়ে মনিটরিং কমিটি পুনর্গঠন করেছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, চিকিৎসা না পাওয়া এবং ভোগান্তির কারণে মানুষ হাসপাতাল বিমুখ হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে অনেক বিলম্বে মনিটরিংয়ের দিকে নজর দেয়া হচ্ছে। দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রথম দিকে মানুষ হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরেও চিকিৎসা পায়নি। এর পরীক্ষাও ছিল একেবারে সীমিত পর্যায়ে। পরে ধীরে ধীরে এই রোগের পরীক্ষা এবং চিকিৎসার জন্য সরকারি বেসরকারি হাসপাতালের সংখ্যা বেড়েছে।
কিন্তু এরপরও হাসপাতালে গিয়ে যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়া এবং দুর্ভোগ ও অব্যবস্থাপনার নানা অভিযোগ ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সারাদেশে সরকারি বেসরকারি সব হাসপাতালের জন্য মনিটরিং কমিটি পুনগর্ঠন করেছে। পঁয়তাল্লিশ জন কর্মকর্তার এই কমিটির প্রত্যেক সদস্যকে প্রতিমাসে অন্তত একটি হাসপাতাল পরিদর্শন করতে হবে এবং সমস্যা চিহ্নিত করে রিপোর্ট দিতে হবে মন্ত্রণালয়কে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও সারাদেশে হাসপাতালগুলোতে আকস্মিক পরিদর্শন শুরু করার কথা জানিয়েছে। অধিদপ্তরের মুখপাত্র ড: আয়শা আকতার বলেছেন, হাসপাতালগুলোতে যাতে অব্যবস্থাপনা না থাকে, সেজন্য মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। আকস্মিক পরিদর্শনে হাসপাতালের পুরো ব্যবস্থাপনা দেখা হবে। বিভিন্ন হাসপাতাল লাইসেন্স ছাড়া চালাচ্ছে-এই বিষয়ের সাথে হাসপাতালে চিকিৎসার সব বিষয়গুলোই দেখবে পরিদর্শক দল। বিভিন্ন অভিযোগ যে আসছে, সে ব্যাপারে অভিযানতো চলছেই। অভিযোগ ছাড়াও হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে সমস্যা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, করোনাভাইরাসের পরীক্ষা থেকে শুরু করে চিকিৎসা-প্রতিটি ক্ষেত্রেই চরম অব্যবস্থাপনার নানান অভিযোগ যখন ওঠে, তখন জেকেজি এবং রিজেন্ট হাসপাতালের প্রতারণা ধরার পরার পর মানুষের মাঝে চিকিৎসা নিয়ে অনাস্থা আরও বেড়ে গেছে। আর এই অনাস্থা থেকে মানুষ হাসপাতাল বিমুখ হয়েছে বলে তারা মনে করেন। সরকারি হিসাবে সারাদেশে হাসপাতালগুলোতে করোনাভাইরাসের রোগী জন্য নির্ধারিত প্রায় ১৫০০০ শয্যার মধ্যে ৭০ শতাংশের বেশি শয্যা খালি রয়েছে রোগীর অভাবে। করোনাভাইরাসের চিকিৎসার নিধারিত হাসপাতালগুলোতে ৭০শতাংশের বেশি ময্যা খালি রয়েছে রোগীর অভাবে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা: লেলিন চৌধুরী বলছিলেন, অনেক দেরিতে হলেও এখন যে হাসপাতাল মনিটরিংয়ে নজর দেয়া হচ্ছে, সেটা তিনি ইতিবাচক হিসাবেই দেখছেন।
অন্তত একটা মনিটরিং কমিটি হয়েছে। তারা হাসপাতালগুলো পরিদর্মন করবে। এই বিষয়টিকে আমি স্বাগত জানাই।অন্তত একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেছেন, কিন্তু হাসপাতাল গুলোতে যেভাবে অব্যবস্থাপনা এবং মানুষের কাছে মিথ্যাচার করা হয়েছে, মানুষজন হাসপাতালের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলছে। এখন প্রত্যেকটা জায়গাতেই যেমন টেস্টের ভোগান্তি শূণ্যে নিয়ে আসা, হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় উন্নতি, রোগীর সাথে মানবিক আচরণ, ঔষধ বাইরে থেকে যে কিনতে হচ্ছে, সে গুলোর সাপ্লাই দেয়াসহ পুরো বিষয়টা যদি আন্তরিকভাবে হ্যান্ডেল করা হয়, তাহলে মানুষের আস্থা আবার ধীরে ধীরে ফিরে আসবে।
আরেকজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা: মাহফুজা রিফাত মনে করেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের পাঁচ মাস চললেও এখনও চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত করা সম্ভব। আমি মনে করি, ভাল কিছু শুরু করার জন্য যে কোন সময়ই যথেষ্ট। যদি এই মনিটরিং কমিটি ভাল কিছু করতে পারে, সেবার মানটাকে নিয়ে আসতে পারে, তাহলে ভাল হতে পারে। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বলেছেন,চিকিৎসা নিয়ে মানুষের আস্থার সংকট আছে বলে তারা মনে করেন না। তিনি বলেছেন, কিছু সমস্যা বা অভিযোগ আছে, সেগুলোই সমাধানের জন্য মনিটরিং জোরদার করাসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা তারা নিচ্ছেন।