admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর, ২০২১ ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ
পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড় জেলার সদর ও আটোয়ারীতে সতীনকে বিজয়ী করতে মাঠে দুই নারী। আমাদের সমাজে প্রচলিত ধারণা হলো, সতীন মানেই একে অপরের শত্রু। প্রতিনিয়ত ঝগড়া-বিবাদ আরো কত কী। তবে সাধারণ এই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছেন শাহিনা বেগম, আকলিমা বেগম ও রত্না বেগম। তারা একে অপরের সতীন। সংসার জীবনে তারা মিলেমিশে তো চলছেনই, এবার আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ, ইউপি, নির্বাচনে বড় জা শাহিনার পক্ষে প্রচার চালাতে কোমড় বেঁধে নেমেছেন বাকি দুই জন। জানা যায়, তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার ৪ নং রাধানগর ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে লড়বেন শাহিনা বেগম। এ জন্য আগাম প্রচারণা শুরু করেছেন তিনি।
আর বড় সতীনকে জেতাতে প্রচারণায় নেমেছেন বাকি দুই জন। একই সঙ্গে রয়েছেন স্বামী দেলোয়ার হোসেন। নির্বাচন কমিশন, ইসি, ঘোষিত তৃতীয় ধাপের তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৮ নভেম্বর পঞ্চগড় জেলার সদর ও আটোয়ারী উপজেলায় ইউপি অনুষ্ঠিত হবে। আলোচিত তিন সতীনের দাবি, শুধু নির্বাচন উপলক্ষেই নয়, বরং তাদের তিন জনের মধ্যে মধুর সম্পর্ক রয়েছে আগে থেকেই। এ ব্যাপারে স্থানীয়রাও জানান, তিন সতীনের সংসার হলেও তারা সুখে-শান্তিতেই রয়েছে। কোনো দিনও বিবাদে জড়াননি।
আসন্ন নির্বাচনে বড় সতীনের জয়ের ব্যাপারেও আশাবাদী তারা। এ বিষয়ে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে প্রার্থী হতে যাওয়া শাহিনা বেগম বলেন, তারা তিন সতীন সুখে-দুঃখে একে অপরের পাশে দাঁড়ান। তাদের মধ্যে বড় ধরনের কোনো ঝামেলা নেই। এবারের নির্বাচনে স্বামী ও দুই সতীনের পরামর্শেই অংশ নিতে যাচ্ছেন। ভোট উপলক্ষে আগাম প্রচারণায় অনেকটাই সহযোগিতা করছেন এলাকার মানুষ। ইনশাল্লাহ জয়ী হবেন বলে জানান তিনি।
মেঝো সতীন আকলিমা বেগম এ বিষয়ে বলেন, তার স্বামী তিনটা বিয়ে করেছেন। সবাই একসঙ্গে থাকেন। এবারের ইউপি নির্বাচনে তার আপা তথা বড় সতীন অংশ নিচ্ছেন। তাকে জয়যুক্ত করতেই একসঙ্গে প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা।
অপরদিকে, সবচেয়ে ছোট সতীন রত্না বেগম বলছেন, তারা স্বামীসহ তিন সতীন মিলে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন। এলাকার মানুষ বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছেন। এ নিয়ে এলাকায় অনেক সাড়া পড়েছে। আশা করছেন, এলাকাবাসী তাদের প্রার্থীকে ভোট দেবেন। উল্লিখিত তিন সতীনের স্বামী হলেন দেলোয়ার হোসেন। তিনি একজন মৎস্য চাষী। এক মেয়ে ও তিন ছেলের এই জনকের দাবি, তিন সতীন একসঙ্গে বসে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাকি দুই জন শাহিনাকে সমর্থন দিয়েছে।