admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৬ এপ্রিল, ২০২০ ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ
নাগরিক ভাবনা, মুক্ত কলম সিঙ্গাপুর বক্স অফিসঃ ইন্ডিয়ার প্রধানমন্ত্রী যদি সিঙ্গাপুর সরকারকে ফোন দিয়ে তার দেশের প্রবাসীদের ভালোমন্দ খোঁজ খবর নিতে পারে তাহলে আমাদের দেশের শিক্ষিত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কেনো সেই কাজটা করছেন না! যেখানে ইন্ডিয়ার চেয়ে দ্বিগুণ শ্রমিক সিঙ্গাপুরে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে! তাহলে আমরা কেনো এতোটা অকৃতজ্ঞ হচ্ছি! এগুলো কি সিঙ্গাপুর প্রবাসীদের প্রতি বাংলাদেশ সরকারের অবহেলা নয়? একজন নরেন্দ্র মোদীর কাছে কিছু শেখার নয়!
প্রায় ৪ হাজার বাঙালি আজ এ দেশে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছে। আইসিইউতে একজন বাংলাদেশীকে দুই মাস রেখে চিকিৎসা সেবা দিয়ে সুস্থ করে তুলেছে এ দেশের সরকার। কত নমনীয় হয়ে একজন প্রধান মন্ত্রী সেই পরিবারের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা জানিয়েছেন তা বিষ্ময়কর অনুভূতি নিয়ে বিশ্ববাসী দেখেছে! আচ্ছা আমদের কি ধারনা আছে এই দেশে দুই মাসের আইসিইউর বিল কত আসতে পারে!!
কতটা দায়িত্বশীল থেকে একটা দেশের প্রধানমন্ত্রী বলতে পারে তার দেশের প্রবাসী শ্রমিকরা সাধারণ নাগরিকদের মতো চিকিৎসা সেবা পাবে! পবিত্র রমজান মাসে তার সরকার লকডাউনে থাকা সকল মুসলিমদের বিশেষভাবে যত্ন নিবে! তাহলে আমাদের দেশের সরকার কিংবা সিঙ্গাপুরে থাকা বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে কি তাদের প্রতি এই দূর্যোগের সময় দুই একটা কৃতজ্ঞতার ভাষা প্রকাশ করা উচিত নয়! আমরা আর কবে সভ্য হবো!
সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে মাথা মোটা কর্মকর্তারা প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে ইতিমধ্যে বলে দিয়েছে তাদের যাবতীয় চিকিৎসা সেবা দিবে সিঙ্গাপুর সরকার। মানে ব্যাপারটা এরকম যে, বাংলাদেশীদের প্রতি তাদের আর কোন দায়িত্ব নেই! তারা হয়তো এখন বিলাস বহুল ফ্লাটে বসে রমজানের নিত্যনতুন রেসিপি আওরাচ্ছে! বুঝিনা লক্ষ লক্ষ ডলার এদের পিছনে খরচ করে বাংলাদেশ সরকার কি উপকার পাচ্ছে। সিঙ্গাপুরে কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশ হাইকমিশনের কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ। শ্রমিকদের প্রতি তাদের মনোভাব বলে দেয় তারা আসলে নিন্ম আয়ের শ্রমিকদের মাঠ পর্যায়ে সেবা দিতে প্রস্তুত নয়! তারা মূলত সিঙ্গাপুরে কিছু এলিট শ্রেনীর বাঙালিদের সেবা করার জন্যই প্রস্তুত! যা প্রতিনিয়ত দেখে দেখে আমাদের চোখ ক্লান্ত হয়ে গেছে! জানিনা এই বৈষম্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হয়েছে কিনা