মিরু হাসান, স্টাফ রিপোর্টার || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৫ জুলাই, ২০২৬ ৯:২৯ পূর্বাহ্ণ
নওগাঁয় ডাবের পানির সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে অটোরিকশা চালককে অজ্ঞান করে টাকা-পয়সা ও মালামাল হাতিয়ে নেওয়া একটি প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে তাদের কাছ থেকে চুরি হওয়া অটোরিকশা, একটি মোটরসাইকেল, একাধিক মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও ঘুমের ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় নওগাঁ সদর থানা ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ টিম সোমবার বগুড়া ও গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন এলাকায় টানা ১৮ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে নওগাঁয় নিয়ে আসে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার লোহাই মুরি এলাকার মন্ত মিয়ার ছেলে ইব্রাহীম ওরফে ইমন (৩৪), বরগুনা জেলার খেজুর তলা এলাকার মৃত ইসাইল হোসেনের ছেলে হুমায়ন কবির (৫০), বগুড়া জেলার শাহজাহানপুর উপজেলার ফুল দিঘি পূর্ব পাড়া এলাকার মৃত মজিবর রহমানের ছেলে খাজা মিয়া (৫৬) এবং গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার জিরাই এলাকার মৃত ছই মুদ্দিনের ছেলে আব্দুল গফুর (৪১)।
পুলিশ জানায়, গত ১০ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এক ব্যক্তি নওগাঁ সদর হাসপাতালে রোগী দেখার কথা বলে একটি অটোরিকশা রিজার্ভ ভাড়া করেন। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর আরও দুজন ব্যক্তি নিজেদের নবজাতক সন্তান জন্ম নেওয়ার আনন্দের কথা বলে মিষ্টি খাওয়ান। এভাবে তারা চালকের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে চালককে একটি ডাব খেতে দেওয়া হয়, যার পানিতে আগে থেকেই বিষাক্ত চেতনানাশক ওষুধ মেশানো ছিল। ডাবের পানি পান করার পর চালক অজ্ঞান হয়ে পড়লে প্রতারকরা অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর পুলিশ সুপারের নির্দেশে সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল সিসিটিভি ফুটেজ, অপরাধীদের তথ্যভান্ডার, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের শনাক্ত করে। পরে বগুড়া ও গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানের সময় আসামিদের কাছ থেকে চুরি হওয়া একটি অটোরিকশা, একটি মোটরসাইকেল, ৮টি মোবাইল ফোন, ১১ হাজার ৪৩০ টাকা এবং ঘুমের ওষুধ জব্দ করা হয়।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার আসামিরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। আসামি ইব্রাহিম ওরফে ইমন এবং হুমায়ুনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা ডাবের পানির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে এবং বিভিন্ন কৌশলে মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে টাকা-পয়সা হাতিয়ে আসছিলেন।
তিনি আরও জানান, অপর দুই আসামি খাজা মিয়া ও আব্দুল গফুর প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া মালামাল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত। তারা সম্পর্কে শালা-দুলাভাই। তাদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, ইব্রাহিম ওরফে ইমনের কাছ থেকে রিকশা বিক্রির ১ হাজার ৪৩০ টাকা, ৪টি মোবাইল ফোন এবং ১০টি ঘুমের ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। হুমায়ুনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে রিকশা বিক্রির ১০ হাজার টাকা, ২টি মোবাইল ফোন ও একটি পালসার মোটরসাইকেল। এছাড়া আব্দুল গফুরের কাছ থেকে চুরি হওয়া অটোরিকশা এবং খাজা মিয়ার কাছ থেকে ২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।