ডাঃ নুরল হক || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ৮:৫৯ পূর্বাহ্ণ
সোনালী আঁশ পাটের পাশাপাশি পাট খড়ি আশার আলো দেখিয়েছে পাট চাষীদের। বর্তমান পাটের চেয়ে পাট খড়ির কদর বেশি। প্রাচীনকাল থেকেই ঘরের বেড়া, পানের বরজ, লাউ কদুর জাংলা এবং বিভিন্ন সৌখিন পণ্য তৈরিতে ব্যবহার হলেও পাঠ খড়ির বহুমুখী ব্যবহারের কারণে আগের তুলনায় এখন এর কদর বেড়েছে।
বিশেষ করে বিভিন্ন পাটকেল বোর্ড উৎপাদন এবং শিল্প কারখানায় ব্যবহারের ফলে এর কদর ও দাম দুটোই বেড়েছে।জেলার বিরামপুর উপজেলার কৃষকেরা পাট বিক্রির পাশাপাশি পাট খড়ি বিক্রি করে বেশ লাভবান হচ্ছে। গ্রামের নারীরা পাট চাষীদের পাটের আঁশ ছড়াতে সহায়তা করছেন, বিনিময়ে তারা টাকা না নিয়ে পাট খড়ি নিচ্ছেন।
সরে জমিনে দেখা যায়, দক্ষিণ দাউদপুর, হরিপুর, বাসুপাড়া, ভবানীপুর, পলিখাপুর বিলের পাড়ে ,খালের পাড়ে, গ্রামীন রাস্তার পাশে, বাঁশের আড়ালে শুকানো হচ্ছে পাট খড়ি। কৃষকেরা জানান, রোদে ভালো ভাবে শুকানোর পর পাটখড়ি বিক্রি হয়। ব্যবসায়ীরা বাড়িতে এসে নিয়ে যায়। অনেকে ভ্যানে করে হাটবাজারে গ্রামে গ্রামে বিক্রি করেন। কৃষকেরা পাট খড়ি বিক্রি করে পাট চাষের খরচ তুলতে পারছেন। পাটখড়ি ব্যবসায়ীরা গ্রাম থেকে পাটখড়ি কিনে চারকোল পাউডার তৈরি কাজে বিক্রি করেন।
পাটখড়ি বিশেষ চুল্লিতে পুড়িয়ে ছাই তৈরি করা হয়, যা চারকোল পাউডার নামে পরিচিত। পাটখড়ির ছাই কার্বন পেপার, কম্পিউটার ও ফটোকপিয়ার কালি , আতশবাজি, মোবাইল ব্যাটারি, দাঁতের মাজন, ওষুধ এবং সার তৈরিতে ব্যবহার রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে চারকোল চীন সহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। পাটখড়ি থেকে তৈরি ছাইয়ের কারণে পাট শিল্পের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন চাষিরা সোনালী আঁশে রুপার কাঠিতে আশার স্বপ্ন দেখছেন।