উত্তম কুমার,বীরগঞ্জ দিনাজপুর প্রতিনিধি || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১২ আগস্ট, ২০২৬ ৫:৪৯ অপরাহ্ণ
দিনাজপুরে আঠারোর আগে বিয়ে নয়,আমরা করব পৃথিবীটা জয় এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনাজপুরের বীরগঞ্জে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় ও বীরগঞ্জ এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ সহযোগিতায় উপজেলার ২নং পলাশবাড়ী ইউনিয়ন বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম মুক্ত ইউনিয়ন ঘোষণা উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে ।
বুধবার (১২ আগস্ট ) দুপুর ১২ টায় ২নং পলাশবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পলাশবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মোস্তাক আহম্মদ সিদ্দিকী মানিক এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নিবেদিতা দাস।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নিবেদিতা দাস বলেন, “একটি বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের সবার সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব। একটি শিশুর শৈশব তার মৌলিক অধিকার। অল্প বয়সে বিয়ে হলে মেয়েদের শিক্ষা ব্যাহত হয়, স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে এবং তাদের স্বপ্ন ও সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যায়।
একইভাবে শিশুশ্রম শিশুদের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা ও শিক্ষার পথে বড় বাধা সৃষ্টি করে। তাই প্রতিটি পরিবারকে সচেতন হতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই আঠারো বছরের আগে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া যাবে না।”
তিনি আরও বলেন,পলাশবাড়ী ইউনিয়নকে বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমমুক্ত ঘোষণা একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এই অর্জন ধরে রাখতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, অভিভাবক এবং স্থানীয় জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
আমরা সবাই মিলে এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রতিটি শিশু নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে উঠবে, শিক্ষা লাভ করবে এবং তার স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পাবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ওয়াল্ড ভিশন বাংলাদেশ এডিপি ম্যানেজার রবার্ট কমল সরকার, পলাশবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের, প্রোগ্রাম অফিসার সাধন দাস, শ্যামলা শান্তি কোড়াইয়া সহ আরো অনেকে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব, নারী ও শিশুদের অধিকার, শিক্ষার গুরুত্ব এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করেন। তারা বলেন, বাল্যবিবাহ রোধে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহতক রাখতে হবে।
এ সময় ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিশু ফোরামের সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।