admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ৬:১২ অপরাহ্ণ
এম.মাসুম আজাদ,ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহের সদর উপজেলা ডাকবাংলা বাজারেডাকবাংলা নার্সিং হোমে আবারো প্রসূতি মায়ের মৃত্যু।ডাকবাংলা বাজারে অবৈধ ভাবে গড়ে উঠেছে একাধিক ক্লিনিক যে সমস্ত ক্লিনিকে চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা দিয়ে আসছেন উপসহকারী মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো) যাদের ডাক্তার নাম পরিচয় দেওয়ায় নিষিদ্ধ অথচ ডাকবাংলা বাজারে ডাকবাংলা নার্সিং হোম এর মতো সকল ভুইফোড় ক্লিনিকে চলছে রমরমা অপচিকিৎসা বানিজ্য।
ডাকবাংলা নার্সিং হোমে ভাড়াটে ডাক্তার রাকিবের ভুল চিকিৎসার কারনে ঝরে গেলো সাধুহাটি ইউনিয়নের পোতাহাটি মাঠপাড়া গ্রামের সন্তু মন্ডলের মেয়ে রোকসানার জীবন। জানা যায়, ২৯ নভেম্বর বিকালে সিজারের জন্যে ভর্তি হয় পোতাহাটি মাঠপাড়া গ্রামের সন্তু মন্ডলের মেয়ে রোকসানা, সান্ধায় ভাড়াটে ডাক্তার রাকিব নামের একজন কোটচাঁদপুর থেকে এসে রোকসানার সিজার করেন, কিন্তু স্বজনদের অভিযোগ সিজার করতে যেয়ে রোকসানার পেটের নাড়ি ভুল করে কেটে ফেল্লে রোগীর অবস্থা খারাপ হয়ে যায়,তখন তাকে দ্রুত সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয় তখনই তার মৃত্যু হয়।
কি দোষ করেছিলো এই ফুটফুটে নবজাতক? ফুটফুটে নবজাতকের মুখ আর দেখা হলো না রোকসানার আর এই অবুঝ শিশুটাও মায়ের আচল থেকে বঞ্চিত হলো সারা জীবনের জন্যে। খোজ নিয়ে জানা যায় এই রাকিবের অপচিকিৎসায় ইতিপূর্বেও মহেশপুর ও কোটচাঁদপুরে অনেকেই ভুগছেন। তাকে ভাড়াটে ডাক্তার বলার কারন, তিনি কোথাও স্থায়ী ভাবে চাকরি করেন না,বিভিন্ন স্থানে খ্যাপ খেটে বেড়ান,বিশেষ করে
বিভিন্ন রিমোট এলাকায় ভুয়া ও অবৈধ ক্লিনিকে সিজার করে বেড়ান।
ডাকবাংলা নার্সিং হোমে প্রসূতি মায়েদের মৃত্যু নিয়মিত ঘটনা। ইতিপূর্বেও এই নার্সিং হোমে প্রসূতি মায়েদের একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। একাধিকবার এই ক্লিনিকের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নিয়েছেন জরিমানা করেছেন অনেকবার,কিন্তু তবুও থেমে নেই অবৈধ ক্লিনিক বানিজ্য । রোকসানার মৃত্যুর বিষয়ে ডাক্তার রাকিবের অনভিজ্ঞতা ও খামখেয়ালিপানাকেই দায়ী করছেন ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন। স্থানীয়দের অভিযোগ এই ডাক্তার রাকিবের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত কমিটি গঠন করে তার ডাক্তারি লাইসেন্স বাজেয়াপ্ত করা হোক, সেই সাথে ডাকবাংলা নার্সিং হোমের মতো ভুঁইফোড় অবৈধ ক্লিনিকগুলো স্থায়ী ভাবে বন্ধ করতে হবে।
প্রসূতি মা রোকসানার মৃত্যুর বিষয়ে কথা হয় ডাক্তার পরিচয়দানকারী রাকিবের সাথে তিনি বলেন, রোগী আগেই এ্যাজমার সমস্যা ছিলো যার কারনে সিজারের পরে এ্যাজমায় আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়। এছাড়া তার কাছে বিএম এ্যন্ড ডিসির রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার জানতর চাইলে তিনি তা দিতে রাজি হয়নি।
ডাকবাংলা বাজারের স্থানীয় জনগণের মধ্যে এই সকল অবৈধ ভূয়া ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর মনোভাব দেখা যায়,তাদের সকলেরই দাবি প্রশাসনের যথাযথ পদক্ষেপের অভাবে আজ এই সকল মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। আমরা স্থায়ী ভাবে এই সকল ক্লিনিকগুলো বন্ধের দাবি করছি।
এই বিষয়ে ঝিনাইদহের সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার মিথিলা পারভিনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন আমি বিষয়টি শুনেছি এবং ইতিমধ্যে সেখানে আমাদের লোক পাঠিয়েছি যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।