admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৮ জানুয়ারি, ২০২৩ ১:২৯ অপরাহ্ণ
কুঞ্জ পাল, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আক্চা ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রামের সুবাস পাল ও রুপালী রাণী দম্পতির ছোট সন্তান সুজয় পাল। দুই বছর পাঁচ মাস আগে পৃথিবীর আলো দেখেছে সুজয়। জন্মের পর থেকে আচরণ ঠান্ডা মেজাজের দেখে আদর করে দাদি ডাক নাম রাখেন ঠান্ডি। দিন বাড়তে বাড়তে সকলের আদরের পাত্র হয়ে উঠে সে। তবে এক বছর যেতে না যেতেই বদলে যায় সেই চিত্র। সুজয় পালের প্রস্রাবে ও কিডনিতে সমস্যা দেখা দেয়।
স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েও কোনো কাজ হয়নি। পরে বাড়িতে থাকা গরু বিক্রি করে চিকিৎসার জন্য সুজয়কে নিয়ে যাওয়া হয় বিভাগীয় শহর রংপুরে। দীর্ঘদিন সেখানে চিকিৎসা শেষে খানিকটা সুস্থ হলে বাসায় নিয়ে আসা হয় সুজয়কে। কিছু দিন যেতে না যেতে আবার অসুস্থতা দেখা দেয়। ধারদেনা করে কোনো মতো টাকা সংগ্রহ করে তাকে আবার নিয়ে যাওয়া হয় চিকিৎসকের কাছে। তবে বিধিবাম। সুস্থ হয়ে উঠছে না সুজয় পাল। উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক। ক্রমেই প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া ও শরীর শুকিয়ে যাওয়ায় বাড়ছে জটিলতা। তার চিকিৎসার টাকা যোগাতে দিশেহারা পরিবার। পেশায় কাঠমিস্ত্রির সহযোগী বাবা সুবাস পাল ছুটছেন সরকারি দপ্তর, রাজনৈতিক নেতাসহ বিত্তবানদের দ্বারে দ্বারে। বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে ছেলে সুজয় সুস্থ হয়ে ফিরবে বলে আশা পরিবারের।
সুজয় পালের দাদু দ্বিজেন পাল বলেন, আমার নাতিটার মুখটা দেখলেই খুব খারাপ লাগছে। কী করব না করব কোনো কিছু বুঝতে পারছি না। আমার ছেলের হাতটা ছাড়া কিছু নেই। সব শেষ করে ফেলছে। এখন নাকি ভারতে নিয়ে যেতে হবে। যদি আপনারা সহযোগিতা করেন তাহলে আবার সুস্থ হবে নাতিটা।
প্রতিবেশী সাবিত্রী রানী পাল বলেন, সুজয়ের বাবা দিন আনে দিন খায়। দেশে চিকিৎসা করাতে গিয়ে তারা নিঃস্ব হয়ে গেছে। আমরা প্রতিবেশী হিসেবে যতটুকু পেরেছি সহযোগিতা করেছি। এখন সরকার যদি সহযোগিতা করে বা সমাজের যারা সামর্থ্যবান আছেন, তারা সহযোগিতা করলে ছেলেটা সুস্থ হবে।
সুজয়ের মা রুপালী রাণী বলেন, জন্মের এক বছর পর থেকে সমস্যা শুরু হয়। ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার পর তিনি বললেন- এটা নাকি জন্মগত কিডনির সমস্যা। এখন আমাদের যা ছিল সব দিয়ে চিকিৎসা করলাম। বাচ্চাটা সুস্থ হচ্ছে না। দিন দিন আরও শুকিয়ে যাচ্ছে। প্রসাবের রাস্তা দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। ডাক্তার ভারতে নিয়ে যেতে বলছে। আমাদের তো সামর্থ্য নাই। কেউ সহযোগিতা না করলে আমার কলিজার টুকরাটাকে সুস্থ করতে পারব না। আপনার আমার ছেলের পাশে দাঁড়ান।
সুজয়ের বাবা সুবাস পাল বলেন, পাঁচ মাস ধরে চিকিৎসা করাচ্ছি। কোনো ধরনের সমাধান পাচ্ছি না। দিন দিন কিডনির জটিলতা আরও বেড়ে যাচ্ছে। রংপুরে যে ডাক্তারকে দেখাই- উনি আমার কোনো ভিজিট নেননি। ওষুধ আর পরীক্ষা করাতে সব খরচ হয়ে গেছে। ডাক্তাররা বিভিন্নভাবে আমাকে সহযোগিতা করেছেন। উনারা সবাই মিলে বসেছিলেন আমার ছেলের সমস্যা নিয়ে। পরে আমাকে বলেছেন- যাতে খুব দ্রুত ভারতে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করাই। প্রায় ৭-৮ লাখ টাকার মতো খরচ হবে। আমি এত টাকা কোথা থেকে পাব। যা জমা ছিল সব শেষ হয়ে গেছে। প্রতিদিনক বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছি সহায়তার জন্য। তবুও জুটছে না চিকিৎসার টাকা। যদি আপনারা আমার ছেলেটার সুস্থতার জন্য সহযোগিতা করেন, তবেই আমার ছেলে পৃথিবীতে সুস্থ হয়ে বেঁচে থাকতে পারবে।
সাহায্য পাঠাতে পারেনঃ-
সুবাস পাল
পালপাড়া, সদর ঠাকুরগাঁও।
মোবাইলঃ- +8801784078429