admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৭ আগস্ট, ২০২২ ৮:৫৪ অপরাহ্ণ
মুক্ত কলম নিউজ ডেক্সঃ ঠাকুরগাঁওয়ে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারিদের দখলে। ঘন্টার পর ঘন্টা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও মিলে না ট্রেনের টিকিট, অতিরিক্ত টাকায় কালোবাজারিতে ভরসা। হয়রানীতে ক্ষুব্ধ রেল যাত্রীরা। কালোবাজারির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে রেলের দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়। কিন্তু তবুও থামছে না কালোবাজারিতে টিকিট বিক্রি। সাশ্রয় ও স্বাচ্ছন্দে ভ্রমনে সাধারণ যাত্রীরা রেল পথকে বেছে নিলেও টিকিট পাওয়া নিয়ে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। তেমনি ঠাকুরগাঁও রোড রেল ষ্টেশনে ভোর থেকে লাইনে দাড়িয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষার পরও যাত্রীরা ফিরছে খালি হাতে।
ঠাকুরগাঁও জেলার এ স্টেশন থেকে দৈনিক ঢাকা, রাজশাহী ও রংপুর রুটে পাঁচটি ট্রেন চলাচল করায় সাধারণ যাত্রীরা নিয়মিত টিকিট সংগ্রহ করতে এসে বিরম্বনা আর হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন টিকিট কালোবাজারি হচ্ছে। যার কারণে সাধারণ মানুষ টিকিট পাচ্ছে না। অধিকাংশ যাত্রীর অভিযোগ কাউন্টারে টিকিট না পেয়ে চড়া দামে কালোবাজারিতে টিকিট ক্রয় করতে বাধ্য হচ্ছে। অথচ এ কাউন্টার থেকে ঢাকাগামী দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেনে চেয়ার ৩০টি, এসি চেয়ার ৯টি, এসি কেবিন ৪টি। পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনে চেয়ার ৬০টি, এসি চেয়ার ৬টি, এসি কেবিন ৪টি।
একতা এক্সপ্রেস ট্রেনে চেয়ার ৩৩টি, এসি চেয়ার ৪টি, বার্থ কেবিন ১টি টিকিট বরাদ্দ রয়েছে। আর শনিবার ব্যতিত রাজশাহীগামী বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস ট্রেনে চেয়ার ২০টি ও কেবিন ৪টি টিকিট বরাদ্দ রয়েছে। এছাড়া রংপুরগামী দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস ট্রেন লোকাল হিসেবে যাতায়াত করছে। এতো টিকিট বরাদ্দ থাকার পরেও রেল স্টেশন থেকে টিকিট প্রাপ্তিতে ভোগান্তি ও হয়রানী যেন শেষ নেই যাত্রীদের। এ অবস্থায় কালোবাজারিতে টিকিট বিক্রি অভিযোগে এরইমধ্যে এ স্টেশনের দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছেন রেল কর্তৃপক্ষ। শুধু বরখাস্ত নয় তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি যাত্রী ও স্থানীয়দের।
রোড রেলস্টেশনে টিকিট কাটতে আসা সুমন, রুবেল, জয়, রিপন সহ আরো কয়েকজন যাত্রী বলেন, টিকিট নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পরে কাউন্টারে গেলে বলে টিকিট শেষ হয়ে গেছে। তাহলে এত টিকিট যাচ্ছে কোথায়? আর অতিরিক্ত টাকা দিলে খুব সহজেই টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। ঠাকুরগাঁও স্টেশন মাস্টার আখতারুল ইসলাম ঢাকাপ্রকাশ-কে জানান, দ্বিতীয় কাউন্টার থেকে টিকিট কর্তন নিষেধ থাকার পরেও কিছু টিকিট কর্তন দুই কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। তবে বর্তমানে কোন সমস্যা নেই বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তাহের মোঃ সামসুজ্জামান ঢাকাপ্রকাশ-কে জানান, নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। অবৈধভাবে টিকিট বিক্রির সাথে জড়িত রয়েছে এমন প্রমান পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার হবে। ঠাকুরগাঁও রেল স্টেশন কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে, অনুমতি না নিয়ে সহকারী স্টেশন মাস্টার অনুপ বসাক ও বুকিং সহকারী ফারুক হোসেন কাউন্টার থেকে টিকিট কর্তন করায় গত ২৮ জুলাই তাদের বরখাস্ত করে লালমনিরহাট ডিভিশনে বদলি করা হয়েছে।