admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২০ নভেম্বর, ২০২২ ৯:০১ অপরাহ্ণ
মোঃ মাসুম, ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহ বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক আতিয়ার রহমানের পৃষ্ঠপোষকতায় চলছে দালাল সিন্ডিকেট এর রামরাজত্ব। দেওয়া হচ্ছে অবৈধ ভারতীয় টানা মোটরসাইকেল এর রেজিষ্ট্রেশন। ঘুষ দূর্নীতির মহা সমুদ্রে পরিনত হয়েছে ঝিনাইদহ BRTA অফিস, আর সেই দুর্নীতির সমুদ্রে হাবুডুবু খাচ্ছেন ঝিনাইদহের সর্বসাধারণ জনগণ। সরকারি অফিস ঝিনাইদহ BRTA দালাল দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে মর্মে ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। সেবা প্রার্থী ৯০% জনগণের অভিযোগ ঘুষ ছাড়া কোনো কাজই হয় না ঝিনাইদহ BRTA তে।
ভুক্তভোগী জনগণ অভিযোগ করে বলেন সহকারী পরিচালক, আতিয়ার রহমান যোগদানের পর থেকেই শুরু হয়েছে এই সিন্ডিকেট এর দৌরাত্ম, তিনি যোগদানের পরে ঘুষ দূর্নীতির মাত্রা বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণ। আতিয়ার রহমানের বেধে দেওয়া ঘুষের আলাদা রেটচার্ট রয়েছে, ফিটনেস প্রতি দুই হাজার, রুট পারমিট প্রতি এক হাজার, ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রতি দুই থেকে তিন হাজার, রেজিষ্ট্রেশন প্রতি দুই হাজার টাকা। অর্থাৎ যারাই অফিসে সেবা নিতে আসেন সরকারি ফিস এর বাইরে এই রেটচার্ট অনুযায়ী দিতে হয় ঘুষ। ঘুষ না দিলে কেউই কোনো সেবা পান না।
সম্পূর্ন অফিসই এখন পরিচালিত হচ্ছে বেশ কিছু শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেট এর সমন্বয়ে। আর সেই কারণে সাধারণ জনগণের জীবন ওষ্ঠাগত প্রায়।
অফিস সূত্রে জানা যায় সরকারি সর্বমোট সাতজন ষ্টাফের মধ্যে এখানে নিয়মিত কাজ করেন পাঁচ জন।
১। সহকারী পরিচালকঃ আতিয়ার রহমান
২। মোটরযান পরিদর্শকঃ এস এস সবুজ
৩ । অফিস সহকারীঃ মফিজুর রহমান
৪। সিল ম্যাকানিক্যালঃ বাবুল আক্তার (আন অফিসিয়াল নিয়োগ প্রাপ্ত)
৫ । অফিস সহায়কঃ শহীদুল ইসলাম
আর এই সরকারি নিয়োগকৃত কর্মকর্তা কর্মচারীগণ দালাল সিন্ডিকেট এর হাতের পুতুল। সরেজমিনে বিআরটিএ’র অফিসে উপস্থিত হলে দেখা যায় দালালের দৌরাত্ম। সম্পূর্ণ অফিসে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে দালাল, এমন কি সরকারি অফিসের মধ্যেই নিজেদের ইচ্ছা মতো চেয়ার টেবিল বসিয়ে করছেন রামরাজত্ব।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায় এই সকল দালালেরা ১। মুক্তার, ২। আনোয়ার, ৩। সামিউল, ৪। মুন্নু, ৫।ফারুক,৬। রাসেল,৭। জন, ৮। জনি, ৯। স্বপ্না, ১০। অন্তুু ১১। জিল্লু সহ নাম না জানা আরও বেশ কয়েকজন দালালকে দেখা যায়। যারা কেউই বিআরটিএ অফিসের স্টাফ নয় অথচ বিভিন্ন কক্ষে তাদের দাপটের সাথে কাজ করতে দেখা যায়। এমনকি সরকারি ফাইল পত্রে সিল স্বাক্ষর করতেও দেখা যায়।
সরেজমিনে এসব দালালদের কে,কোন পোস্টে আছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তারা সাংবাদিকদের জানায়, আমরা সবাই এডি স্যারের লোক। সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও ঘুষ নেওয়ার ব্যাপক অভিযোগও রয়েছে বিআরটিএ অফিসের এডি ও তাদের পৌষ্য আলোচিত দালালদের বিরুদ্ধে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনৈক গ্রাহক বলেন, গাড়ির রুট পারমিট নেওয়ার জন্য গেলে ফিল্ড ম্যাকানিক্যাল বাবুল আক্তার ও দালাল আনোয়ার চৌধুরী ও মুক্তার মিলে তার নিকট থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করে।
এছাড়া বিআরটিএ তে কাজ করতে আসা প্রায় সবার কাছেই হয়রানি ও ঘুষ নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। হয়রানি ও ঘুষ ছাড়া এই বিআরটিএ অফিসে কোন কাজ হয়না বলে জানান উপস্থিত ভুক্তভোগীরা। ঘুষ না দিলে তাদেরকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়। এবিষয়ে বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক আতিয়ার রহমানের কাছে ছদ্মবেশে গেলে তিনি নিজেও বলেন শুধু মুখে কি চিড়ে ভেজে, ফাইলপত্র পাস হবে তখনি যখন অফিসের সিন্ডিকেট এর রেটচার্ট অনুযায়ী টাকা দেওয়া হবে।
ঝিনাইদহের BRTA এর সহকারী পরিচালক আতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ রয়েছে ভারতীয় টানা (চোরাই পথে আসা) মোটরসাইকেল এর মোটা অংকের টাকা নিয়ে রেজিষ্ট্রেশন দিয়েছেন। অভিযোগ সাপেক্ষে একটি চোরাই মোটরসাইকেল এর তথ্য নিয়ে সহকারী পরিচালক আতিয়ার রহমানের কাছে অভিযোগ করলে তিনি প্রথমে অস্বীকার করেন, কিন্তু বিস্তারিত তথ্য সহ যখন সেই মোটরসাইকেল আর ওয়ান ফাইভ ভার্সন থ্রী যার নম্বরঃ ঝিনাইদহ-ল ১২ ৬৩০৩ মালিকের নাম হামিদুল রহমান। এই মোটরসাইকেল এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে, তিনি বিষয়টি স্বীকার করেন এবং বলেন হয়ত এটা ভুল বসত হয়েছে,কিন্তু সাংবাদিকদের মনে প্রশ্ন জেগেছে একটি বড় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রেজিষ্ট্রেশন সম্পূর্ন করতে হয়, ধাপে ধাপে কয়েকটি কাজের সমন্বয়ে একটি মোটরসাইকেল এর রেজিষ্ট্রেশন হয়ে থাকে,আর সেই কাজ কখনোই ভুলের মধ্যে হতে পারে না।
আতিয়ার রহমান সাংবাদিকদের এই বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্যে অনুরোধ করেন এবং বলেন আমি ওই মোটরসাইকেল এর রেজিষ্ট্রেশনটি ডিলিট করে দিচ্ছি। কিন্তু সাংবাদিকদের কাছে আরো ১৬ টি অবৈধ মোটরসাইকেল এর তথ্য রয়েছে।
মুলত, এডি আতিয়ার রহমানের নামে অভিযোগ রয়েছে এরকম একটি অবৈধ চোরাই মোটরসাইকেল সিন্ডিকেট এর রেজিষ্ট্রেশন দিয়ে তিনি আশি হাজার টাকা থেকে এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা নিয়ে থাকেন। সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে বের হয়েছে এই ধরনের অবৈধ মোটরসাইকেল এর রেজিষ্ট্রেশন দিয়েই বর্তমান এডি কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। আর সেই অবৈধ টাকার পাহাড়ে বসে তিনি রামরাজত্ব কায়েম করছেন। বর্তমানে সহকারী পরিচালক আতিয়ার রহমানের মোট সম্পদের পরিমাণ শত কোটির ঊর্ধ্বে। ঝিনাইদহ এসপি অফিসের সামনে রয়েছে এক দাগেই ১০৪ চার শতক জমি সহ বিভিন্ন স্থানে বাড়ী ও জমি।
সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে প্রতিদিন BRTA অফিসে ঘুষের টাকা সংগ্রহ হয় দুই থেকে পাচঁ লক্ষ টাকা। সপ্তাহে তিনদিন ড্রাইভিং লাইসেন্সের এর বোর্ড বসে, সেই তিনদিন ঘুষের টাকার পরিমান চার থেকে পাঁচ লক্ষ টাকায় পৌছায় আর সেই টাকার ভাগ পৌছে যায় বিভিন্ন মহলে।
এই সকল অভিযোগ নিয়ে সহকারী পরিচালক আতিয়ার রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এখানে যোগদানের আগে থেকে এরা এই অফিসে কাজ করে আসছে। আমি এদের অনেককে ভাল করে চিনিও না। রেকর্ড রুমে আবর্জনার মধ্যে এরা কাজ করে অভ্যস্ত। আমার অফিসের নিয়মিত কর্মচারীরা রেকর্ড রুমে কোথায়, কোন ফাইল আছে তা জানেনা। তাই এসব বহিরাগত কর্মী দিয়েই কাজ করতে হয়।
এ বিষয়ে মুক্তি পেতে ঝিনাইদহের সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব আশিকুর রহমান ও দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক এর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী জনগণ। ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসকের নিকট সর্বসাধারণ ভুক্তভোগীর প্রাণের দাবি ঝিনাইদহের BRTA এর এই দালাল সিন্ডিকেট বিলুপ্ত করে সর্ব সাধারণ জনগণের সেবা নিশ্চিত করা হোক।