আব্দুল্লাহ্ আল মামুন, পঞ্চগড় প্রতিনিধি || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৮ মার্চ, ২০২৬ ৮:৫৩ অপরাহ্ণ
পঞ্চগড়ে ঝড়ের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গাছচাপায় এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে এবং ফসল ও ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে। শুক্রবার রাতের শিলাবৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসের কারণে এই ক্ষতি হয়। নিহত বৃদ্ধা চাকাতি বালা পঞ্চগড় পৌরসভার চাঁনপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
জানা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জেলার বিভিন্ন এলাকার কয়েক শ মানুষ। কারো ঘরবাড়ি আবার কারো দোকানপাট ভেঙে গেছে ঝড়ে। জেলার বোদা, আটোয়ারী ও সদর উপজেলায় ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে। শত শত গাছপালা উপড়ে রাস্তায় ও ঘরবাড়ির ওপর পড়েছে।
রাত থেকেই ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা সড়ক থেকে গাছ অপসারণে কাজ করছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।এদিকে শিলাবৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসে জেলায় মরিচ, ভুট্টা, গম, পেঁয়াজের বীজসহ ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। অনেকের ঘরের চালা ফুটো হয়ে গেছে শিলাবৃষ্টিতে। অন্যদিকে বিদ্যুতের তারের ওপর গাছ পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে অনেক এলাকায়।
ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষরা সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার চানপাড়া এলাকায় ঝড়ে গাছ ভেঙে ঘরের ওপর পড়লে চাকাতি বালা (৬৫) নামে এক বৃদ্ধা ঘটনাস্থলেই মারা যান। তিনি তখন ঘরে একাই ছিলেন।এ ছাড়া ধাক্কামারা ইউনিয়নের রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় ঝড়ে একটি তিনতলা ভবনের ছাদের দেয়াল ভেঙে টিনের ঘরের ওপর পড়ে। এতে ময়নুল ইসলাম ও তার স্ত্রী খুকুমনি গুরুতর আহত হন।
পরিবারের লোকজন যতক্ষণে গাছ কেটে তাকে উদ্ধার করে দেখেন তিনি মারা গেছেন।এ ছাড়া পঞ্চগড় রেলস্টেশন এলাকার বাসিন্দা মইনুল ইসলাম ও খুকুমনি দম্পতি। মাঝরাতে ঝড়ে পাশের ফ্ল্যাটের ওপর থেকে একটি ইটের দেয়াল ভেঙে পড়ে তার ঘরে। দেয়ালটি ঘরের চালা ভেদ করে তাদের ওপর পড়ে। আহত হন তারা। তাদের চিৎকারে পরিবারের লোকজন মইনুল ও খুকুমনিকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। পঞ্চগড় সদর উপজেলার গড়িনাবাড়ি ইউনিয়নের বজ্রাপাড়া এলাকার দরিদ্র ঝালমুড়ি বিক্রেতা আব্দুস সালামের দুটি ঘর ভেঙে পড়েছে ঝড়ে।
পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুমন চন্দ্র দাশ বলেন, গাছ চাপায় একজন মারা গেছেন। এ ছাড়া আমরা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করছি। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তালিকা করার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশনা দিয়েছি। অসহায় দরিদ্র ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা করা হবে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করতে কাজ করছে বিদ্যুৎ বিভাগের টিম।