admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর, ২০২১ ১১:৩৩ অপরাহ্ণ
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার প্রতিশ্রুতি রাখে না বড় দেশগুলোই। শুধু মুখেই বড় বড় কথা। কিন্তু কাজের বেলায় ঠনঠন। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার ক্ষেত্রে বাস্তবতা এখন এমনই। কার্বন বা গ্রিসহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমাতে একের পর এক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিশ্বের বড় বড় দেশগুলো। কিন্তু এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো কাজই তারা করেনি। উল্টো এই দেশগুলোতেই দ্রুতগতিতে বেড়েছে কার্বন নিঃসরণ। জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক নতুন এক রিপোর্টে এই তথ্য উঠে এসেছে।
দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর, রিপোর্টটি প্রকাশ করে ইউএন এনভার্নমেন্ট প্র্রোগ্রাম (ইউএনইপি)। এতে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ পরিণতি মোকাবেলায় উল্লেখযোগ্য হারে গ্রিনহাউস গ্যাস কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিশ্বের অন্তত দুই শ দেশ। কিন্তু তাদের সেই প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার মধ্যে ব্যাপক ব্যবধান দেখা যাচ্ছে। কয়েকদিন পরই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জলবায়ু বিষয়ক আরও একটি বড় সম্মেলন।
কিন্তু এখন পর্যন্ত বেশ কিছু ধনী দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কার্বন নিঃসরণের নতুন পরিকল্পনা প্রকাশ করেনি। বিশ্বের সিংহভাগ অর্থাৎ ৮০ ভাগ কার্বন নিঃসরণের জন্য দায়ী জি-২০ ভুক্ত দেশগুলো। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্তত ছয়টি দেশ কখনই তাদের নিজ নিজ প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি। অন্য পাঁচটা দেশ হচ্ছে— কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, দক্ষিণ কোরিয়া ও মেক্সিকো। তবে এই দেশগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কার্বন নিঃসরণ পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে।
আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বৈদেশিক ঋণের কারণে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় মনোযোগ দিতে পারছে না বিশ্বের অনুন্নত দেশগুলো। কারণ এসব দেশের বেশিরভাগ অর্থই ব্যয় হয়ে যায় ঋণ পরিশোধে। দারিদ্র বিমোচন বিষয়ক দাতব্য সংস্থা জুবিলি ডেবিট ক্যাম্পেইনের রিপোর্টে এই তথ্য উঠে এসেছে। রিপোর্ট মতে, জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবেলার চেয়ে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে পাঁচগুণ বেশি অর্থ ব্যয় করছে বিশ্বের নিম্ন আয়ের দেশগুলো।
বৈদেশিক ঋণের পেছনে বিশ্বের সবচেয়ে গরিব ৩৪টি দেশকে প্রতিবছর অন্তত ২ হাজার ৯৪০ কোটি ডলার ব্যয় করতে হয়। এই বিশাল পরিমাণ ব্যয়ের পর তাদের হাতে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার মতো অর্থ খুব কমই থাকে। এরপরও এই দেশগুলো প্রতিবছর জলবায়ু খাতে প্রায় ৫০৪ কোটি ডলার খরচ করে।