admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৩ নভেম্বর, ২০২১ ৭:২৭ পূর্বাহ্ণ
চীনের ইতিহাস বদলে ফেলা হচ্ছে ! প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কর্তৃত্ব নিষ্কণ্টক করতে বদলে ফেলা হচ্ছে দেশটির ইতিহাস। এরই অংশ হিসেবে ১০০ বছরের পুরনো চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ইতিহাসও বদলে যাচ্ছে। দলটির সিনিয়র কর্মকর্তারা রাজধানী বেইজিংয়ে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন। সেখানে পার্টির বিগত ১০০ বছরের ইতিহাস পুনর্মূল্যায়ন করেন তারা। ওই বৈঠকেই দলের বা চীনের ইতিহাসের আরেক রূপকার হিসেবে শি জিনপিং-কে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। শুধু ইতিহাসে অন্তর্ভুক্ত করা বললে কমই বলা হয়।
বরং কমিউনিস্ট পার্টির এই অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতাকে দেশটির কমিউনিস্ট শাসনের প্রতিষ্ঠাতা মাও সেতুং এবং চীনের অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রধান স্থপতি দেং জিয়াওপিংয়ের সমমর্যাদায় বসানো হয়েছে। রুদ্ধদ্বার ওই বৈঠকের পর অফিসিয়াল এক বিবৃতিতে বিষয়টি জানানো হয়। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদ মাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে, ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে— শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছে চীন, ঐতিহাসিক একটি রূপান্তরের মধ্য দিয়ে গেছে দেশটি। পার্টির সিনিয়র নেতারা বৈঠকে চীনের সমৃদ্ধ অর্থনীতি, সফল পররাষ্ট্র নীতি, দূষণের বিরুদ্ধে লড়াই এবং সবশেষ বিশ্বকে তছনছ করে দেওয়া কোভিড-১৯ এর মহামারি নিয়ন্ত্রণে জিনপিংয়ের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে আরো বলা হয়, এর আগে মাও ও দেংয়ের কারণে ঘুরে দাঁড়িয়েছে চীন। বর্তমানে জিনপিংয়ের অধীনে চীন নতুনভাবে আবির্ভূত হয়েছে। শক্তিশালী ও সমৃদ্ধশালী হয়ে উঠেছে দেশ। বলা হচ্ছে, চীনের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করেছে চলতি সপ্তাহের এই বৈঠকটি। কারণ আগামী বছর তথা ২০২২ সালে কমিউনিস্ট পার্টির কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে দেশটির নেতৃত্ব নিয়ে বড় ধরনের ঘোষণা আসবে। একই সঙ্গে গত কয়েক দশকের মধ্যে চীনের সবচেয়ে শক্তিশালী নেতা হয়ে উঠা শি জিনপিংয়ের হাতে তৃতীয়বারের মতো নেতৃত্বে ভার তুলে দেওয়া হবে। কারণ আপাত দৃষ্টিতে এই মুহূর্তে চীনে তার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেতা বা উত্তরাধিকারী নেই।
চীনের নতুন যুগে প্রবেশের আগের কয়েক দিনের ঘটনা পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়— গত বৃহস্পতিবার এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন ফোরামে শি জিনপিং একটি রেকর্ড করা ভিডিওতে ভাষণ দিয়েছেন। যেখানে ভূ-রাজনৈতিক ভিত্তিতে ছোট ছোট গোষ্ঠী তৈরী না করতে এশীয় দেশগুলির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তার এই আহ্বান প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের স্পষ্টতই উল্টো সুর।
এ ভাষণে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শীতল যুদ্ধ নিয়েও সতর্ক করেন তিনি। নিজের বক্তব্যে শি স্পষ্ট করেই বুঝিয়েছেন যে, শীতল যুদ্ধ বা বিভাজন কোনোটাই তিনি চান না। অন্যদিকে, কঠোর নীতি প্রণয়নের জন্য শি জিনপিংয়ের বিরুদ্ধে নানা সমালোচনা রয়েছে। যেমন- তার নেতৃত্বাধীন চীন সরকার একটি কঠোর নিরাপত্তা আইন আরোপ করে কয়েক মাস ধরে হংকংয়ে চলা গণতন্ত্রপন্থী অস্থিরতার প্রতিক্রিয়া জানায়। এ ছাড়া নিজ দেশে কোভিড-১৯ এর বিস্তার প্রতিরোধে ব্যাপক কঠোর বিধিনিষেধ প্রয়োগ করেন তিনি।
অন্যদিকে, শি জিনপিংয়ের বুদ্ধিমত্তার কারণে চীনের টেলিকমিউনিকেশন এক্সিকিউটিভ মেং ওয়ানঝোকে মুক্তি দেয় কানাডিয়ান কর্তৃপক্ষ। যেটাকে নিজেদের জন্য বিজয় বলে দাবি করেছে বেইজিং। একই সময়ে আবার নিঃশব্দে দুই কানাডিয়ানকে গ্রেপ্তার করেছে চীন। আর এসব কারণেই চীনের মসনদে জিনপিংয়ের পুনরাগমনের পথ আরো মসৃন হতে চলেছে।শি জিনপিং ২০১৮ সালের পর থেকেই নিজের সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে আসছেন, যা তার জন্য চীনকে অনির্দিষ্টকাল ধরে নেতৃত্ব দেওয়ার পথ খুলে দিয়েছে। আগামী বছর চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ২০তম পার্টি কংগ্রেস। তাই বলা যায়, রুদ্ধদ্বার ওই বৈঠকের মাধ্যমে পার্টি কংগ্রেসের আগেই শি জিনপিংয়ের হাতে পার্টির সব দায়িত্ব এক প্রকার পাকা হয়ে গেল।