admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১২:৫৪ অপরাহ্ণ
সাধারণত বিশ্বে কালো, লাল, নীল ও সবুজ রঙের পাসপোর্ট চালু রয়েছে। বিশ্বের যেকোন দেশ এই চারটি থেকে তাদের পাসপোর্টের রঙ নির্ধারণ করতে পারে। তবে সব দেশকে অবশ্যই ইন্টারন্যাশনাল সিভিল অ্যাভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (আইকাও) কাছ থেকে তাদের পাসপোর্টের রঙ ও নকশার বিষয়ে ছাড়পত্র নিতে হয়। বাংলাদেশেও এর মধ্য থেকে তিনটি রঙের পাসপোর্ট চালু রয়েছে। এগুলো হলো- সবুজ, লাল ও নীল। তাহলে চলুন জেনে নিন কোন রঙের পাসপোর্ট কাদের জন্য ।
সবুজ পাসপোর্ট:
বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ আবু সাঈদ বলেন, সাধারণ বা অর্ডিনারি পাসপোর্টের জন্য সবুজ রঙ ব্যবহার করা হয়। এটি জন্মসূত্রে ও বৈবাহিক সূত্রে বাংলাদেশি এমন নাগরিক ও সরকারি চাকুরিজীবীদের দেওয়া হয়। এই রঙের পাসপোর্টের মাধ্যমে কেউ বিদেশ গমন করতে চাইলে তাকে সংশ্লিষ্ট দেশের ভিসা নিতে হয়।
নীল পাসপোর্ট:
পাসপোর্ট অধিদপ্তরের এই পরিচালক বলেন, অফিসিয়াল পাসপোর্টের ক্ষেত্রে নীল রঙ ব্যবহার করা হয়। এটি শুধু সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের দেওয়া হয়। এই রঙের পাসপোর্টের মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীরা শুধুমাত্র সরকারি কাজে বিদেশ ভ্রমণ করতে পারেন। সরকারি কাজ ব্যতীত অন্য কোন কাজে দেশের বাহিরে গেলে এই রঙের পাসপোর্ট ব্যবহার করা যায় না।
তিনি আরো বলেন, এই নীল রঙের পাসপোর্টধারী ব্যাক্তিরা অন্তত ২৭ দেশে বিনা ভিসায় ভ্রমণ করতে পারেন। তবে এই রঙের পাসপোর্ট করার জন্য কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের সংশ্লিষ্ট সরকারি অফিসের অনুমোদন বা গভর্নমেন্ট অর্ডার (জিও) নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে। ২০১০ সালের আগে সবুজ রঙের পাসপোর্টের মধ্যেই সরকারি অনুমোদন হাতে লিখে দেওয়া হতো।
লাল পাসপোর্ট:
কূটনৈতিক বা ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্টের ক্ষেত্রে লাল রঙ ব্যবহার করা হয়। এই রঙের পাসপোর্টধারীরা হলেন- রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও তাদের স্বামী অথবা স্ত্রী। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিদেশে বাংলাদেশি মিশনের কর্মকর্তা, বিচারপতি, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও পাবলিক সার্ভিস কমিশনের প্রধানরাও এই রঙের পাসপোর্ট পেয়ে থাকেন। মোহাম্মদ আবু সাঈদ বলেন, এই রঙের পাসপোর্টধারী ব্যক্তিদের দেশের বাইরে ভ্রমণের জন্য কোন ভিসার প্রয়োজন হয় না। তারা সংশ্লিষ্ট দেশে অবতরণের পর সেখান থেকে অন-অ্যারাইভাল ভিসা পান। এই ধরনের পাসপোর্ট পৃথিবীর সকল দেশেই লাল রঙের হয়ে থাকে।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালে পূর্ণাঙ্গ রূপে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন থেকেই মূলত তিনটি রঙের পাসপোর্ট চালু রয়েছে। যা তিনটি ভিন্ন ভিন্ন ধরণ ও ব্যবহারের নির্দেশনা প্রতীক হিসেবে কাজ করে। বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের এপ্রিল পর্যন্ত দেশে পাসপোর্টধারী নাগরিকের সংখ্যা ছিল প্রায় আড়াই কোটি। যা এখন আরো বেড়েছে। অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ আবু সাঈদ বলেন, ২০১০ সাল পর্যন্ত দেশে তিন ধরনের পাসপোর্ট চালু ছিল। এর মধ্যে সাধারণ বা অর্ডিনারি পাসপোর্টের রঙ ছিল সবুজ এবং কূটনৈতিক বা ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্টের রঙ ছিল লাল। এছাড়া বিশেষ বা স্পেশাল পাসপোর্টের রঙও ছিল লাল, তবে তা কূটনৈতিক পাসাপোর্টের চেয়ে কিছুটা আলাদা রঙের ছিল। এই বিশেষ পাসপোর্ট শুধুমাত্র প্রতিবেশী দেশ ভারতে যাবার জন্য তৈরি করা হতো। তাই এই পাসপোর্টকে ইন্ডিয়ান পাসপোর্টও বলা হতো।
তিনি আরো বলেন, ২০১০ সালের আগে দেশে হাতে লেখা পাসপোর্ট চালু ছিল। পরে ২০১০ সালে আইকাও’র নির্দেশনা অনুযায়ী মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) চালু করা হয়। তখন শুধুমাত্র ভারত যাওয়ার জন্য তৈরি করা বিশেষ পাসপোর্ট বিলুপ্ত এবং নতুন করে নীল রঙের অফিসিয়াল পাসপোর্ট চালু করা হয়।