admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৫ আগস্ট, ২০২১ ১২:১১ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রে ২০ বছরে আত্মহত্যা করেছে ৩০ হাজার সেনা! প্রবল ক্ষমতার জেরে গত দুই দশকে একের পর এক বিভিন্ন দেশে আগ্রাসন চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।এ তালিকায় ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়া, লিবিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নাম রয়েছে। তবে ইতোমধ্যে অনেক দেশ থেকে সৈন্য ফিরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আফগানিস্তান থেকেও তারা পুরোপুরি ফিরে যাওয়ার পথে। যে লক্ষ্য নিয়ে তারা আগ্রাসন চালিেছিলো, তার সামান্যতম অংশও পূরণ হয়নি। বরং যে তালেবানকে শায়েস্তা করতে তারা এসেছিল এখন তাদের সাথে সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছে।
সমঝোতা হোক বা না হোক, আফগানের মাটি তারা ছাড়ছে এটা নিশ্চিত। এর পেছনে অনেক কারণের সাথে দায়ী মার্কিন সেনাদের আত্মহত্যাও। যুদ্ধক্ষেত্রে বর্তমান থাকা বা ফেরত আসা সেনাদের মধ্যে আত্মহত্যার হার মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। এছাড়া বেড়েছে মানসিক অবসাদে আক্রান্ত হওয়ার হারও। যুদ্ধে যত সেনা নিহত হয়েছে, আত্মহত্যা করছে তার চেয়ে বেশি। ফলে সেনাদের এ ব্যক্তিগত ক্ষতি বড় ধরনের সামষ্টিক ক্ষতির মুখোমুখি ফেলে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে। বিষয়টি টের পেয়েই তারা বিভিন্ন দেশ থেকে তাদের পাততাড়ি গুটাচ্ছেন যত দ্রুত সম্ভব।
দ্য মুসলিম মিররের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লাগাতার এভাবে যুদ্ধ করে আসার কারণে গত দুই দশকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে ৩০ হাজার ১৭৭ মার্কিন সেনা আত্মহত্যা করেছেন, যা যুদ্ধে নিহত মোট সেনার থেকে অনেক বেশি। এ সময়ে যুদ্ধ করে মারা যাওয়া মার্কিন সেনার সংখ্যা ছিল মাত্র সাত হাজার ৫৭ জন। মার্কিন প্রতিষ্ঠান বাইয়োটেকনোলজি ইনফরমেশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিবরণীতে বলা হয়েছে, বিদেশফেরত বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনা মানসিক রোগে ভুগছে, যা পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস সিনড্রোম (পিটিএসডি) নামে পরিচিত।
প্রতিষ্ঠানটির ওই সমীক্ষায় আরো দেখা গেছে, ইরাক ও আফগানিস্তানে নিয়োজিত থাকা সেনা এবং ওই এলাকা থেকে দায়িত্ব শেষে ফিরে আসা সেনাদের মধ্যে ৬০ হাজার পিটিএসডি মানসিক রোগে ভুগছেন, শতকরা হিসাবে এ হার ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ। এছাড়া মোট মার্কিন সেনাদের মধ্যকার ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পিটিএসডি মানসিক রোগে ভুগছে, সংখ্যায় যা পাঁচ লাখের ওপরে। মূলত, এ অবস্থা দেখেই সাবেক মার্কিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে কোনো উপায়ে মার্কিন সেনাদের ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম শুরু করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াটসন ইনস্টিটিউটের প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনেও একই ধরনের কথা বলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গত ২০ বছর ধরে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েছে অনেক বেশি হারে। ৯/১১-পরবর্তী সময়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশের শুরু করা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা আফগানিস্তানে অভিযান চালায়। ২০০১ থেকে চালু করা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় থেকে এ পর্যন্ত মোট ৩০ হাজার ১৭৭ মার্কিন সেনা আত্মহত্যা করেছে। আত্মহত্যার মাধ্যমে মরে যাওয়া সেনাদের মধ্যে যেমন দায়িত্বরত সেনারা আছে, তেমনি যুদ্ধফেরত সেনারাও আছে। অপরদিকে এসব যুদ্ধে মাত্র সাত হাজার ৫৭ জন মারা গেছেন।
দুই দশক ধরে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথিত যুদ্ধ চালিয়ে আসার পর যুক্তরাষ্ট্র এখন বুঝতে পারছে, এসব যুদ্ধ ছিল আসলে লক্ষ্যভ্রষ্ট এক অনর্থক কর্মকাণ্ড। বিশেষ করে আফগানিস্তান ও ইরাকে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে আফগান তালেবান বেশ উদ্দীপনা নিয়ে যুদ্ধ করছে। ধৈর্য ধরে যুদ্ধ করে যাচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাদের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে এতসব নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধার পরও আত্মহত্যার পরিসংখ্যানই কেবল বাড়াচ্ছে মার্কিন সেনারা।