admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২২ নভেম্বর, ২০২০ ৮:২৬ অপরাহ্ণ
করোনা মোকাবেলায় উন্নয়ন সংস্থা ও দাতাদের কাছ থেকে ঋণ পেয়েছে সরকার। করোনাকালে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে ব্যাংক থেকে ৮৪ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এর মধ্যে প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) ৯৪৫ কোটি টাকা নেয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে, চলতি অর্থবছরের অক্টোবরের শেষ নাগাদ ব্যাংক ঋণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৭৬৮ কোটি টাকা। যা গত অর্থবছর শেষে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা ছিল।
করোনার কারণে চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায় কমার আশঙ্কা করছে সরকার। তবে জুলাই-অক্টোবরে (চার মাস) ৬৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। এই পরিমাণ গেল বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ১৪ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে (তিন মাস) ১৩৮ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার বিদেশি ঋণ সহায়তা পেয়েছে বাংলাদেশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, এই পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫৪ শতাংশ বেশি। গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৭ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা ছিল, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, করোনা মোকাবেলায় উন্নয়ন সংস্থা ও দাতাদের কাছ থেকে ঋণ পেয়েছে সরকার। এ কারণে প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে ব্যাংক ঋণ আগের চেয়ে কম লাগছে। এ ক্ষেত্রে উন্নয়নের ধীরগতি, সঞ্চয়পত্রের ঋণ বৃদ্ধি ও রাজস্ব আয়ে গতি আসাও উল্লেখ করা যেতে পারে।নানা উপায়ে সরকার অর্থ পেলেও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে খুব একটা উন্নতি হয়নি। গত চার মাসে (অক্টোবর পর্যন্ত) এডিপি বাস্তবায়ন হয় ১২ দশমিক ৭৯ শতাংশ, যা গেলো বছরের একই সময়ে ছিল ১৩ দশমিক ২৫ শতাংশ।
এ বিষয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, করোনার ক্ষতি কাটাতে বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফসহ দাতাসংস্থাগুলো প্রচুর ঋণ দিয়েছে। সে কারণে ব্যাংক থেকে ঋণ কম নিচ্ছে সরকার। তবে দাতাদের ঋণ দেয়ার পরিমাণ কমলেও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাড়তে পারে জানিয়ে পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান মনসুর বলেন, তখন বাধ্য হয়ে ব্যাংক ঋণ নেবে সরকার।